প্রচ্ছদ / খুলনা / বিস্তারিত

চিতলমারীতে প্লাস্টিক ও পলিথিনের অসহনীয় দূষণ

৬ জানুয়ারি ২০১৯, ৬:৫০:৩৯

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার জীবনযাত্রা এখন দূষণের কবলে পড়ে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এখানকার খাল, ড্রেন, রাস্ত-ঘাট বর্তমানে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যরে দখলে। বছরের পর বছর বাজারের জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে চিত্রা নদী খালে পরিণত হয়েছে।

যেখানে খুশি সেখানে ফেলা হচ্ছে প্লাস্টিকের প্যাকেট, বোতল, পলিথিনসহ অব্যবহৃত জিনিসপত্র। যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় এই পরিস্থিতি ক্রমশ: ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

স্থানীয়রা জানান, প্লাস্টিক আবর্জনার সবচেয়ে বড় স্তুপ চিতলমারী পেছনের (পূর্বদিকের) সড়কজুড়ে। এই সড়কে উপজেলা সদর বাজারের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। মানুষেরা দ্রুত যাতায়াতের জন্য ওই পথ ব্যবহার করে।

বাজারের ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনায় আটকে বায়ু দূষণ সৃষ্টি করছে। এক সময়ের প্রমত্তা চিত্রা নদী খালে রূপ নেয়ার পর আবর্জনার চাপে তা স্রোত হরিয়ে এখন স্থবির হয়ে গেছে।

থানার পেছনের আবর্জনা স্তুপের নিকটস্থ স্থায়ী বাসিন্দা প্রাণ কৃষ্ণ দত্ত (ভগো) বলেন, দুর্গন্ধে বসবাস করা দায়। বৃষ্টি হলে এই দুর্গন্ধ মারাত্মক আকার ধারণ করে। আমরা সবাই গ্যাস্ট্রিক, সর্দি, চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। প্রায় পাঁচ বছর ধরে বাজারের লোকেরা এখানে আবর্জনা ফেলে আসছে। তার আগে সড়কটি পরিচ্ছন্ন ছিল।

ওই পথে চলাচলকারী কয়েকজন নারী জানান, ময়লা আবর্জনায় দূষণীয় পথ জেনেও সময় বাঁচাতে নাক-মুখ ঢেকে এই পথে চলাফেরার করতে বাধ্য হতে হয়। লোকালয়ের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলে সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

বাজোরের ব্যবসায়ীরা জানান, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় চিতলমারীতে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। সুন্দর পরিবেশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণ দরকার।

তবে বাগেরহাট জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ আইন-২০১০ অনুযায়ী, আদালত দূষণকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা পাঁচ বছরের কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করতে পারবে।

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: