প্রচ্ছদ / রাজশাহী / বিস্তারিত

নাব্যতা সংকটে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে ভিড়তে পারছে না পণ্যবাহী জাহাজ

৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৩০:০৮

যমুনা ও বড়াল নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়ায় উত্তঞ্চলের প্রধান নৌবন্দর বাঘাবাড়ি নৌ পথে অসংখ চর ও ডুবচর জেগে উঠেছে। এ কারণে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দৌলতদিয়ায় আটকা পড়ছে বিভিন্ন পন্যবাহী প্রায় ২৬টি জাহাজ। একারণে বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দও অভিমূখী জাহাজগুলো সরাসরি ভিড়তে না পারায় মালামাল খালাসে বিঘ্ন ঘটছে।

আটকে পড়া জাহাজগুলো থেকে ছোট ছোট ট্রলারযোগে মালামাল আনা হচ্ছে বাঘাবাড়ি বন্দরে। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাঘাবাড়ি ঘাট নৌযান লেবার এসোসিয়েশনের নেতারা।

বাঘাবাড়ি বিআইডব্লিউটিএ সুত্রে জানা গেছে, পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য ১০ ফুট পানির গভীরতার প্রয়োজন থাকলেও শুস্ক মৌসুমে যমুনা ও বড়াল নদীর নৌ পথের বিভিন্ন স্থানে পানির গভীরতা ৬ ফুটের নিচে নেমে গেছে। সেইসাথে জেগে উঠে চর ও ডুবচর।

সবচেয়ে বেশি নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে পাবনার বেড়া উপজেলার পেঁচাকোলা থেকে মোহনগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন স্থানে। একারনে প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে প্রায় ২৬টি সার, সিমেন্ট, জ্বালানী তেলসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি বাঘাবাড়ি নৌ বন্দরে ভিড়তে পারছে না। তবে বিআইডব্লিউটিএ পক্ষ থেকে ডুবচর গুলো অপসারনের জন্য ড্রেজার শুরু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি ঘাট নৌযান লেবার এসোসিয়েশনের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মাষ্টার ও বাঘাবাড়ি লঞ্চ ও লেবার এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান মাষ্টার জানান, দৌলতদিয়া থেকে বাঘাবাড়ি নৌ বন্দর পর্যন্ত নাব্যতা সংকটের কারনে যমুনা নদীর দৌলতদিয়া, ব্যটারিরচর, পাটুরিয়া, নাকালিয়া ও পেঁচাকোলায় নদীর তলদেশে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর ও ডুবচর।

এ পরিস্থিতির কারণে উত্তরাঞ্চলের প্রধান নৌবন্দর বাঘাবাড়িতে সরাসরি জাহাজ ভিড়তে পারছে না। দৌলতদিয়া থেকে আটকে পড়া জাহাজ থেকে ছোট ছোট ট্রলারসহ বিকল্প ব্যবস্থায় মালামাল সরবরাহ করা হচ্ছে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে।

বর্তমানে পানির গভীরতা ৫ থেকে ৬ ফিট। এই নৌ রুট দিয়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি জাহাজ চলাচল করে থাকে কিন্তু পানির গভীরতা না থাকায় জাহাজ গুলো দৌলদিয়ায় আটকে থাকছে। যে কারনে ১০ থেকে ১৫শ টনের জাহাজ গুলো বাঘাবাড়ি বন্দরে সরাসরি আসতে পারছে না।

বাঘাবাড়ি নৌ বন্দরের সহকারী পরিচালক এস.এম সাজ্জাদুর রহমান জানান, বর্তমানে নৌপথে পানির গভীরতার চেয়ে জাহাজে মালামাল আনা হচ্ছে বেশি। এ কারনে মালামাল ভর্তি জাহাজগুলো সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিকল্প ব্যাবস্থায় আটকে পড়া জাহাজ থেকে মালামাল আনা হচ্ছে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে। প্রতি বছরই শুস্ক মৌসুমে নৌপথে এই পরিস্থিতি দেখা দেয়। তবে এবারো ড্রেজিং করে এই পরিস্থিতি নিরসন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: