প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

উপজেলা নির্বাচন : ভোটের মাঠে আ’লীগ, মামলার জালে বিএনপি

১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১:৩০:০৮

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী মার্চ মাসে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই দেশজুড়ে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বেশ জমে উঠেছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লায় আলোচনার ঝড় বইছে এই নির্বাচন নিয়ে।

কে হচ্ছেন প্রার্থী, দলীয় মনোনয়ন কে পাবে? বিএনপি-জামায়াত জোট আদৌ উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা, আওয়ামী লীগের টিকেট পাচ্ছেন কে? এসব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে বিএনপি জোট নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে কিনা, এই বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া গেলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।

সারাদেশে উপজেলা নির্বাচনী আলোচনার ঢেউ আছড়ে পড়েছে নাটোরের বিভিন্ন উপজেলায়। সিংড়াতেও এ নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বাদ যাচ্ছে না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রার্থীদের পক্ষে জোরে-শোরে প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হলেও এখনো নিরব বিএনপি-জামায়াত জোট। সম্প্রতি পুলিশের দায়ের করা গায়েবী মামলা ও স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার দায়ের করা বিস্ফোরক মামলার কারণে গা ঢাকা দিয়েছে সিংড়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নেতারা। তাদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোন আগ্রহই দেখা যাচ্ছে না। আগামী মার্চে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভবনা রয়েছে। এ নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে সরব হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে পুরো উপজেলা।

২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে লড়াই হয় ত্রিমুখী, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত। আওয়ামী লীগের শফিকুল ইসলাম শফিককে হারিয়ে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন উপজেলা বিএনপির সভাপতি প্রয়াত এড. আবুল কালাম আজাদ, এসময় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম ভোলা এবং জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন বর্তমানে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক বেলাল-উজ-জামান। আওয়ামী লীগের আরিফুল ইসলাম আরিফকে হারিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদেও বিএনপির প্রার্থী ভিপি শামীম হোসেন জয়ী হয়, এসময় জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য জয়নাল আবেদীন। এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মানসী ভট্টাচার্যকে হারিয়ে বিএনপির আঞ্জুমান আরা জয়ী হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মারা গেলে উপ-নির্বাচনে তার সহধর্মীনি বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফয়জুন নেছা পুতুলকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ভিপি শফিকুল ইসলাম শফিক।

আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ইটালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ, আরেক যুগ্ম সম্পাদক ও তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন, আরেক যুগ্ম সম্পাদক ও চৌগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম ভোলা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবিব রুবেল।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, পৌর যুবলীগের সভাপতি সোহেল তালুকদার, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কামরান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খালিদ হাসান ও পৌর আ’লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আঃ জলিলের নাম শোনা যাচ্ছে।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আঞ্জুমান আরা, রহিমা বেগম, শামীমা হক রোজী ও আমেনা খাতুন মনি’র নাম শোনা যাচ্ছে।

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শামীম হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় বিএনপি যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা তা মেনে নেবো। আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সম্প্রতি মামলার কারণে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া রয়েছে। নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী হলে আমরা জোটগতভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: