প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

অস্থির চালের বাজার

১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:২০:৩৮

বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য চালের বাজার হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পর্যায়ক্রমে ৫০ কেজির ওজনের প্রতি বস্তা চালের দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চালের বেড়েছে তিন থেকে চার-পাঁচ টাকা করে।

রাজধানী ঢাকায় গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে গিয়ে সবচেয়ে ভালো মানের মিনিকেট চাল সংগ্রহ করতে ক্রেতাকে গুণতে হয়েছে ৬০-৬৫ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা ৪৮-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

চালের এ মূল্যবৃদ্ধিতে ফাঁপরে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে দাম চড়ে যাবার কারণে তার প্রভাব পড়েছে রাজধানীসহ দেশের পাইকারী ও খুচরা বাজারে।

চালের মূধ্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালকল মালিকরা দাম বাড়ানোর কারণে বাজারে চালের দাম বেড়েছে। আর চালকল মালিকরা বলছেন, সরকার ধানসংগ্রহ অভিযান শুরু করার কারণে বাজারে ধানের সরবরাহ সংকট থাকায় এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে।

অভিযোগ উঠেছে, অসাধু চক্রের কারসাজির কারণে এবার ধানের বাম্পার ফলনের পরও ভরা মৌসুমে বেড়েছে চালের দাম।

চালের এ মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন নতুন সরকারের খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনুশি বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে, ওই বৈঠকের পরও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। কমেনি চালের দাম।

এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গতকাল আশ্বাস দিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই চালের দাম কমবে। তিনি আরো বলেছেন, দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। চালের দাম কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রাজধানীর অধিকাংশ কাঁচাবাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় চালের সাথে সাথে আটা-ময়দার দামও বাড়তি রয়েছে। এ ছাড়া, সবজিতে গড়ে প্রতি কেজি ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা দাম বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যন ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষে মূল্যস্ফীতির গড় হার দাঁড়িয়েছে ৫.৩৫ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির এই হার ৫/৬ শতাংশের ঘরে থাকলেও শহরাঞ্চলে খাদ্যপণ্যের খুচরা মূল্য বেড়েছে। সেই সাথে খাদ্যবহির্ভুত পণ্যেরও ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বেড়েছে।

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: