প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

বিএনপির ‘সর্বাত্মক আন্দোলন’ জুনের পর

কারেন্ট নিউজ বিডি   ৭ মার্চ ২০১৮, ১২:২৩:২৭

 

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গেলেও নির্বাচন-প্রশ্নে আগামী জুনে ‘সর্বাত্মক আন্দোলনে’ যাবে বিএনপি। এক্ষেত্রে চলমান কর্মসূচিগুলো সময়-ক্ষেপণ করা এবং আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি করার উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জুনের আগের তিন মাস এভাবেই কাজে লাগাতে চান দলটির নীতিনির্ধারকরা। এই সময়ে সমমনা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে ঐকমত্যে আসারও চেষ্টা করবে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী-পর্যায় ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দলটির আন্দোলন বিষয়ে এসব পরিকল্পনার কথা জানা গেছে।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

বিএনপি নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চলমান যে কর্মসূচি, সেগুলো অব্যাহত থাকবে। খালেদা জিয়ার মুক্তির আগ পর্যন্ত এভাবেই চলবে। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে দাবি-দাওয়া আদায়ের আন্দোলন জমিয়ে তুলতে আরও সময় নেবে বিএনপি। আগামী এপ্রিল নাগাদ নির্বাচন কমিশন থেকে নতুন দলগুলোর নিবন্ধনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বোঝাপড়াও বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘চলমান আন্দোলনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ত্বরান্বিত হবে না, মুক্তি একমাত্র হতে পারে আইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে। সেটা আমরা চেষ্টা করছি। তবে এ মাসে যে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচিগুলো চলছে এগুলো সময় কাটানোর জন্য। নির্বাচন যখন কাছে আসবে, পরিবেশ যখন উত্তপ্ত হবে, তখন বিএনপি শক্ত কর্মসূচি দেবে। আর ওই সময়ই আমরা অলআউট আন্দোলনে যাবো।’

খালেদা জিয়ার জামিনের পরবর্তী শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘আশা করছি আগামী বৃহস্পতিবার জামিন শুনানি হবে এবং ম্যাডাম মুক্তি পাবেন।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটা নির্ভর করছে আদালতে নথি পৌঁছাবে কি না। নথি গেলেই আদেশ হবে।’

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা জানান, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। টাইমলি পরের কর্মসূচি আসবে। নির্বাচনের আগে আন্দোলন হবে। জুনের পর থেকে পুরোদমে আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে।’

তবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টামণ্ডলীর একজন সদস্য দাবি করেন, ‘আগামী মে মাস থেকেই বিএনপির মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি পরিবর্তন হবে। এক্ষেত্রে লংমার্চ, বড় বড় জেলাগুলোয় সফর করবে বিএনপি নেতারা। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ওপর। সরকারের সঙ্গে কোনও আপস না হলে জুন-জুলাই থেকে কঠোর আন্দোলনে যাবে বিএনপি।’

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়াকে জেলে থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও স্পষ্ট। আর এ কারণে তাকে দীর্ঘদিন জেলে থাকতে হলেও কোনও সমস্যা দেখছে না বিএনপি। দলের নেতারা আত্মবিশ্বাসী, খালেদা জিয়া যখনই ছাড়া পাবেন নির্বাচন প্রশ্নে ন্যূনতম দাবি মানতে বাধ্য হবে সরকার।

বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর আরেক সদস্য ধারণা করছেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। সাবমেরিন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক প্রভাবিত হয়েছে। এই উপদেষ্টার দাবি, ‘ভারতের বর্তমান অবস্থান আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। ২০১৪ সালে ভারতের একক ইচ্ছায় আওয়ামী লীগ নির্বাচন করে বর্তমানে ক্ষমতায় আছে। কিন্তু আগামী নির্বাচনে ভারত থেকে সে ধরনের সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে গেছে এবং এটাই বিএনপির জন্য ইতিবাচক।’

বিএনপি নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচনের আগে দাবি আদায়ের আন্দোলন চলতি বছরের জুনের পর, বিশেষ করে জুনে বাজেট অধিবেশনের পর নিত্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা ইস্যুকে সামনে আনবে বিএনপি। একইসঙ্গে অন্যান্য সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলবে সমানে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন থেকে নতুন নিবন্ধনপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দলগুলোকেও সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। তবে জামায়াতবিরোধী দলগুলো সরাসরি জোটে যুক্ত না হলেও যুগপৎ আন্দোলনের নতুন পদ্ধতি খুঁজে বের করার চেষ্টা চালানো হবে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, আগামী কয়েক মাসে সরকার ব্যাপক চাপে থাকবে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার জেলে থাকার বিষয়টি দীর্ঘায়িত হলে এর রেশ মানুষের মধ্যে ক্রমাগত বাড়বে বলেও দাবি করেছেন অনেক নেতা।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, ‘বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সরকারের নানা উসকানি সত্ত্বেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সবকিছু এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই আন্দোলনে সারাদেশের মানুষ, আন্তর্জাতিক বিশ্বও বিএনপির ওপর সন্তুষ্ট। খালেদা জিয়াকে জেলে রাখার মানে হচ্ছে প্রতিদিন নিয়ম করে সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে। আগামী নির্বাচনের আগে সেটি তলানিতে যাবে।’ ডা. জীবন এও বলেন, ‘দেশে খালেদা জিয়া জেলে রেখে কোনও নির্বাচন হবে না। প্রয়োজনে নির্বাচন করবে না বিএনপি।’ এক্ষেত্রে নিবন্ধনের ওপর প্রভাব পড়তে পারে-এমন প্রশ্নে জীবন বলেন, ‘বিএনপির মতো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চলে যাবে এটা ভাবাও হাস্যকর। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করতে হবে।’

‘আমরা ধৈর্য ধরে জনগণকে সম্পৃক্ত করে কর্মসূচিগুলো পালন করছি। প্রয়োজনে অবশ্যই আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে দ্বিধাবোধ করবো না।’ আন্দোলন প্রশ্নে বলছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সম্পৃক্ত করেই এই অন্যায় রায় ও রাজনৈতিক মামলায় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে রাখার প্রতিবাদ করছি। যদি এতে সমাধান না হয় তাহলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবো না।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচির ধরনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে। এখন বিভাগীয় শহরগুলোয় সফর ও জনসভা করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলতে থাকবে।’ এ্যানি আশা প্রকাশ করেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে তিনিও বিভাগীয় সফর ও জনসভাগুলোতে যোগ দেবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আগামী নির্বাচন এখনও বহুদূর। এর মধ্যে রাজনীতি কোথায় যাবে, কোথাকার পানি কোথায় গড়াবে, এগুলো নির্ভর করছে। এরপরই পরবর্তী কর্মসূচি দেবো।’

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: