প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় / বিস্তারিত

খাতওয়ারি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিন

দুর্নীতি সূচকে অবনতি

১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২:৩০:৩২

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ২০১৮ সালের দুর্নীতির ধারণা সূচক বা করাপশন পারসেপশন ইনডেক্সে (সিপিআই) আগের বছরের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থানের চার ধাপ অবনতি হয়েছে।

খারাপ থেকে ভালোর দিকের সূচকে আগের বছর যেখানে আমাদের অবস্থান ছিল ১৭তম, এবার তা থেকে নেমে দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৩তম।

এর অর্থ হল আমাদের দেশে দুর্নীতি বেড়েছে। শুধু তা-ই নয়, ভালো থেকে খারাপের দিকেও আমাদের অবস্থান ৬ ধাপ নেমে ২০১৭ সালের ১৪৩তম থেকে ২০১৮ সালে ১৪৯তম অবস্থানে চলে গেছে।

এছাড়া দুর্নীতির পরিস্থিতি উন্নয়নের স্কোর ১০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের নম্বর ২৬, যা আগেরবার ছিল ২৮ নম্বর। এর অর্থ হল টিআই’র দুর্নীতির অবস্থান নির্ণয়কারী তিনটি সূচকেই বাংলাদেশের অবনতি ঘটেছে।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশ এক নম্বরে ছিল। তারপর ধীরে ধীরে অবস্থানের উন্নতি হলেও দুর্নীতি আদতে যে কমেনি; বরং অন্য দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার কারণে আপাতদৃষ্টিতে আমাদের কিছুটা উন্নতি হয়েছে- সর্বশেষ দুর্নীতির ধারণা সূচকের অবনতি থেকে বিষয়টির বাস্তবতা অনুমান করা যায়।

এমন একটা সময় দুর্নীতির সব সূচকে আমাদের কয়েক ধাপ পেছনে যাওয়ার খবর দিল টিআই, যখন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

আমরা আশাবাদী, এ রিপোর্ট তাদের ঘোষিত যুদ্ধকে আরও বেগবান করবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তরিকভাবে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, টিআইকে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দুর্নীতির রিপোর্ট করতে বলেছেন দুদকের চেয়ারম্যান।

তবে আশার বিষয়, তিনি দুর্নীতিসংক্রান্ত রিপোর্টকে স্বাগত জানিয়েছেন। দুদকের উচিত, টিআই’র দেয়া খাতওয়ারি দুর্নীতি-অনিয়মের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে দুর্নীতি খুঁজে বের করে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

উদ্বেগের বিষয়, দু’দিন আগে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেবল ২০১৫ সালেই দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ যে দুর্নীতির টাকা তাতে আর সন্দেহ কী! অর্থাৎ দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

তবে এখন পর্যন্ত নতুন সরকারের দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্য আশাব্যঞ্জক। দুদকের উচিত সরকারের এমন অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হওয়া।

সিপিআই’র রিপোর্ট তুলে ধরার সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করে এবং সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতির বিষয়টি অস্বীকার করে এক ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয়।

আমরা মনে করি, এমন অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণার অর্থ হল দুর্নীতি যে হচ্ছে, তা স্বীকার করে নেয়া। এখন সত্যিকারার্থে আন্তরিকভাবে যুদ্ধ চালিয়ে গেলে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে, যা বলাই বাহুল্য।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দুদককে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া এবং অবাধ গণমাধ্যম ও সক্রিয় নাগরিক সমাজের বিকাশের মতো টিআই’র সুপারিশগুলো আমলে নেয়া হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সুফল আসবে বলে আশা করা যায়।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: