প্রচ্ছদ / রাজশাহী / বিস্তারিত

রাজশাহীতে ধর্ষক ইমামের স্বীকারোক্তি, ‘আমি পাপ করেছি’

৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩০:৫০

রাজশাহীতে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার শাহজাহান গাজী (৬০) নামে এক ইমাম আদালতে তার দোষ স্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমি পাপ করেছি। আমার বিচার হওয়া উচিত।’

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজশাহীর আমলি আদালত-১-এর বিচারক মো. আবদুল্লা আল আমিন ভূঁইয়ার কাছে এ স্বীকারোক্তি দেন তিনি।

১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন শাহজাহান গাজী (৬০)। তিনি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শলুয়া সরকারপাড়া মসজিদের ইমাম। চারঘাটের ফতেপুর ফুরকানিয়া মাদ্রাসায় তিনি শিশুদের আরবি পড়াতেন। উপজেলার কানোছগাড়ী গ্রামে গত ২০ বছর ধরে তিনি বসবাস করতেন। তবে তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী। ধর্ষণের শিকার কিশোরী তার প্রতিবেশী।

স্থানীয় লোকজন জানান, শাহজাহান গাজী চারটা বিয়ে করেছেন। তার মধ্যে একজনকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। দুজন মারা গেছেন। আর একজন তার সঙ্গে রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার চারঘাট থানার পুলিশ ধর্ষক শাহজাহান গাজীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালতের বিচারক তাকে ৩ ঘণ্টা চিন্তা করার সময় দেন। তার পর বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

আদালতে ধর্ষক শাহজাহান গাজী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার দোষ স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তার শাস্তি হওয়া দরকার।

চারঘাট মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম কিশোরীর বাবার বরাত দিয়ে জানান, মেয়েটি ওই ইমামের কাছে আরবি পড়তেন। মাঝেমধ্যেই শাহজাহান পড়ানোর অজুহাতে বাসায় ডাকতেন। তিনি সরল মনে কিশোরী মেয়েকে পাঠাতেন। কিন্তু ইমাম তার মেয়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বর্তমানে তার কিশোরী মেয়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ওসি জানান, মেয়েটির মা প্রথম বিষয়টি বুঝতে পেরে মানসম্মানের ভয়ে চেপে যান। পরে সন্দেহ হলে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার করে জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি মেয়ের বাবা জানতে পারেন। পর দিন তিনি চারঘাট থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে শাহজাহান গাজীকে গ্রেফতার করে।

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: