ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক সংকটে ওষুধ-খাদ্যের অভাবে মরছে শিশুরা

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৫:৩৭

ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও চরম আকার ধারণ করেছে। অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশটির নারীরা সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছেন।

সেখানে তারা বিভিন্ন পানশালায় (বার) পতিতাবৃত্তিতে নাম লেখাচ্ছেন। দেশে থাকতে তাদের কেউ ছিলেন স্কুলশিক্ষক, পত্রিকার হকার কিংবা আরও নানা পেশায়। দেশটিতে খাদ্য ও ওষুধের সংকটও তীব্রতর হচ্ছে। শিশুরোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। খাদ্য ও পানি দূষণে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহ অনন্ত ১৪ জন শিশু মারা গেছে। দেশটির হাসপাতালের বরাত দিয়ে শনিবার এ খবর দিয়েছে আলজাজিরা।

দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, তিন সন্তানের মা প্যাট্রিসিয়া (৩০) কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলের কালামারে একটি পতিতাপল্লীতে কাজ করছেন। সেখানে অনেক সময় নেশাগ্রস্ত গ্রাহকের হাতে শারীরিক নিপীড়নেরও শিকার হতে হয় তাকে।

তিনি বলেন, ‘পল্লীতে অনেক গ্রাহক আছে, যারা আপনাকে একেবারে খারাপ দৃষ্টিতে দেখবে; যা ভয়ংকর। প্রত্যেক দিন আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, আজকের গ্রাহক যেন ভালো হয়।’ ভেনিজুয়েলায় ইতিহাস ও ভূগোলের শিক্ষক ছিলেন অ্যালেজরিয়া।

উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশে তিনি মাসে আয় করতেন ৩ লাখ ১২ হাজার বলিভার; যা এক ডলারেরও কম। চার সন্তানের মা ২৬ বছর বয়সী এ নারী বলেন, চলতি মাসেই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কলম্বিয়ায় ঢুকেছেন। কালামার শহরে নয়জন নারীর সঙ্গে একটি বারে প্রত্যেক রাতে দেহ ব্যবসায় জড়ান। প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে পান ৩৭ হাজার থেকে ৫০ হাজার পেসো (১১ থেকে ১৬ ডলার)।

এ আয়ের সাত হাজার পেসো দিতে হয় বারের ম্যানেজারকে। অ্যালেজরিয়ার স্বপ্ন তিনি কলম্বিয়ায় স্কুল শিক্ষিকা হিসেবে কাজ শুরু করবেন। কিন্তু পাসপোর্ট ছাড়া এটি সম্ভব নয়। ভেনিজুয়েলার পত্রিকার হকার ছিলেন ৩৫ বছরের জলি। কলম্বিয়ায় দেহ ব্যবসা করে পরিবারের ভরণ-পোষণ চালাচ্ছেন তিনি। জলি বলেন, ‘আমরা কখনোই দেহ ব্যবসা করতে চাই না। পেটের দায়ে এ কাজে বাধ্য হচ্ছি।’

ভেনিজুয়েলার উপকূলীয় শহর বার্সেলোনার লুসি রাজেটি হাসপাতালের এক কর্মকর্তা আলজাজিরাকে জানান, দূষিত খাদ্য ও পানির কারণে অসুস্থ শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ না থাকায় সঠিক চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের কর্মী জোস প্লেনস বলেন, শিশুদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সুঁচ অথবা সিরাম নেই।

রাজধানী কারাকাস থেকে ৩০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মা বলেন, ‘আমার মেয়ের ডায়রিয়া হয়েছে। প্রায় সময় তার হার্ট অ্যাটাক হতো। তার চিকিৎসা করার মতো কিছুই নেই আমার।

এ হাসপাতালে এসেও কিছু পাচ্ছি না। আমি চাই এ সরকার পদত্যাগ করুক। তারা আমাদের ধ্বংস করে ফেলছে।’ রোগের প্রাদুর্ভাবে গত সপ্তাহে দুই মাসের সন্তানকে হারিয়েছেন ম্যারিলিয়া ম্যারিনো। কিন্তু সন্তানের মরদেহ এখনও হাসপাতালে।

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: