প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

দশ বছরে ১৬ হাজার অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১ হাজার ৫৯০ জন

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৯:১০:০৬

আজ থেকে নয় বছর আগে ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিক কারখানায় একই ধরনের অগ্নিকাণ্ড প্রাণ হারিয়েছিলেন শতাধিক মানুষ।সেই ভয়াবহ ঘটনার কথা পুরনো ঢাকার মানুষ এখনও ভুলতে পারেন নি। সেই অগ্নিকাণ্ডের পর পুরনো ঢাকা থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক কারখানা এবং গুদাম সরিয়ে নেয়ার কথা বলা হলেও আজ পর্যন্ত তা হয়নি। ফলে তাদের আবার পড়তে হলো আরেকটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে। দেশে গত ১০ বছরে ছোট-বড় অন্তত ১৬ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৫৯০ জন।

এই সময়ে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে গত বছর। আর হতাহত বেশি হয়েছে ২০১১ সালে। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, গত ১০ বছরে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১০ সালে, পুরান ঢাকার নিমতলীতে। এতে ১২৪ জন নিহত হন। এর পরের বছর সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১১১ জন। আর ২০১৬ সালে টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানার অগ্নিকাণ্ডে মারা যান ৪১ জন।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান বলেন, অগ্নি প্রতিরোধের ব্যবস্থা রাখা বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। কারণ অগ্নিকাণ্ডে জীবন ও সম্পদের অনেক ক্ষতি হয়। অনেকেই মনে করেন, আগুন লাগলে দেখা যাবে, এ জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেন না। এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সব ক্ষেত্রেই নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকতে হবে। যাতে অগ্নিকাণ্ডের সময় অন্তত ১০-১৫ মিনিট প্রতিরোধ করা যায়। আর সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে হবে। ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পক্ষেও মত দেন তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ সালে সারা দেশে ১৪ হাজার ৬৮২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৭১ জন নিহত ও ৭৯৪ জন আহত হন। ২০১১ সালে ১৫ হাজার ৮১৫টি দুর্ঘটনায় ৩৬৫ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৭৯ জন আহত হন।

একইভাবে ২০১২ সালে ২১০ জন নিহত ও ৮০৩ জন আহত, ২০১৩ সালে ১৬১ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৭১ জন আহত, ২০১৪ সালে ৭০ জন নিহত ও ২৫০ জন আহত, ২০১৫ সালে ৬৮ জন নিহত ও ২৫৪ জন আহত, ২০১৬ সালে ৫২ জন নিহত ও ২৬৭ জন আহত, ২০১৭ সালে ৪৫ জন নিহত ও ২৮৪ জন আহত এবং ২০১৮ সালে ১৩০ জন নিহত ও ৬৭৭ জন আহত হন। এতে ৪ হাজার কোটি টাকার ওপর আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, দেশের আট বিভাগের মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আর সবচেয়ে কম অগ্নিকাণ্ড হয় সিলেট বিভাগে। নতুন গঠিত ময়মনসিংহ বিভাগেও অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা সিলেটের চেয়ে বেশি।

এর কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, অন্য বিভাগীয় শহরের তুলনায় ঢাকার আয়তন, বয়স, ভবন ও মানুষের সংখ্যা, কারখানা—সবই বেশি। তাই ঢাকায় ঝুঁকি ও দুর্ঘটনার হার বেশি।

অগ্নিকাণ্ডের পর সূত্রপাত সম্পর্কেও তদন্ত করে ফায়ার সার্ভিস। এসব তদন্তে দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণেই বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

২০১৮ সালের ১৯ হাজার ৬৪২টি অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে ৭ হাজার ৮২৫টি অগ্নিকাণ্ডই ঘটেছে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে। চুলার আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৯টি, আর সিগারেটের আগুন থেকে ৩ হাজার ১০৮টি।

২০১০ সালে পুরনো ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষ পুড়ে নিহত হবার ঘটনার পর উচ্চমাত্রার দাহ্য পদার্থ মজুতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিলো। তারপরেও চকবাজারে একই ঘটনা ঘটলো।

বাংলাদেশের বিস্ফোরক পরিদপ্তর বলছে, বুধবার রাতে চকবাজারে যে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে সেটি বিভৎস রূপ পেয়েছে উচ্চ মাত্রার রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের কারণেই।

প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো: সামসুল আলম বলছেন, নিমতলীর ঘটনার পর এ ধরণের দাহ্য পদার্থের দোকান বা গোডাউন তখন সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিলো।

প্রসঙ্গত, চকবাজার রাসায়নিক ও প্লাস্টিকের ব্যবসার একটি বড় কেন্দ্র। দোকান ছাড়াও এখানে এ ধরণের দ্রব্যের মজুত রাখেন অনেকে।

যদিও ২০১০ সালের নিমতলীর দুর্ঘটনার পর এ ধরণের দ্রব্যের অনুমোদন হীন মজুতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলো কর্তৃপক্ষ

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: