প্রচ্ছদ / অর্থনীতি / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বৈঠক

মার্জারসহ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারের সুপারিশ

কারেন্ট নিউজ বিডি   ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১২:১০:২৫

বেসরকারি ব্যাংক মার্জারসহ (একীভূত করা) আর্থিক খাতে বড় ধরনের সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে বলেছে।

সংস্থাটি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর করার পরামর্শ দেয়। ওয়াশিংটন ডিসিতে চলমান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিয়ে এসব সুপারিশ করা হয়। ওই বৈঠকে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) কাছ থেকে প্রতিবছর একশ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে বাংলাদেশকে অবকাঠমো খাতে আরও সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।রোববার বাংলাদেশের সময় রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক, আইএফসি, ভি-২০ গ্রুপের সঙ্গে আলাদা বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশের। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোশররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর বিশ্বব্যাংক একটি স্টাডি পেপার তুলে ধরেছে। সেখানে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও করণীয় সম্পর্কে বলা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, দেশের অর্থনীতির তুলনায় বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। ব্যাংকিং খাত সংস্কার করতে হবে। এজন্য দুর্বল ও ছোট ব্যাংকগুলোকে বড় ব্যাংকের সঙ্গে মার্জার করতে হবে।

বৈঠকে আরও বলা হয়, সরকারি ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি। এটি কমিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে বলা হয়, কোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ ছাড়া সরকারি ব্যাংক অনেক সেবা দিচ্ছে। সেবা দিতে গিয়েও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে দুটি কৃষি ব্যাংক আছে। বর্তমান খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে ওই দুটি ব্যাংকের অবদান বেশি। কারণ কৃষককে সহায়তা করতে গিয়ে তাদের অনেকে খেলাপি হচ্ছে। কিন্তু এই খেলাপির দিকে চিন্তা করে কৃষি খাতে সহায়তা বন্ধ, ঋণ ও বিদ্যুৎ এবং বীজ সময় মতো সরবরাহ না করলে ভয়াবহ পরিস্থিতি দাঁড়াবে। তখন এই পণ্য আমদানি করতে হবে। তবে বর্তমান কৃষি খাতে যা দেয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি ফেরত পাচ্ছি। এ ধরনের সহায়তা না করলে বিপর্যয় দেখা দেবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমার মতে এই বিপর্যয়ের চেয়ে কৃষি ব্যাংকের খেলাপিই ভালো। কারণ এসব কাজ করতে হচ্ছে জনগণকে সামনে রেখে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপির পরিমাণ মোট ঋণের ৫ শতাংশের ওপরে যায়নি। তবে সার্বিকভাবে খেলাপির হার ১০ শতাংশ থাকলেও সেটি পাবলিক খাতের ব্যাংকের হিসাব ধরে হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা বেশি বলে মার্জার করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে মার্জার করতে বলেছে। বৈঠকে আমি বলেছি ব্যাংকের সংখ্যা কতটি, সেটি বড় বিষয় নয়। কারণ অনেক ব্যাংকের সাইজ খুবই ছোট। তাদের মূলধন বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর মূলধনের পরিমাণ ৩০০ কোটি থেকে ৪০০ কোটি টাকা করেছি। সেখান থেকে ১ হাজার কোটি টাকা উন্নীত করা হবে। তবে বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে সংস্কার করার সুপারিশ মেনে নেয়া হয়েছে। খেলাপি আদায়ে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করা হবে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এ মুহূর্তে মার্জার করা হবে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান খেলাপি ঋণের হিসাবপদ্ধতি ভুল। এটি সঠিকভাবে করা হয় না। খেলাপি ঋণের সঠিক হিসাব করতে এরই মধ্যে কয়েকটি অডিট ফার্মকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা অডিট করে খেলাপি ঋণের সত্যিকার চিত্রটি আমাদের দেবে। এতে খেলাপি ঋণের পজিশন জানা যাবে। এরপর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো মার্জার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মার্জার করতে আইন আছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন আছে। সেখানে এ ধরনের বিধান না থাকলে সংশোধন করা হবে এবং প্রয়োজনে আইন করে নেয়া হবে।জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়েও পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ বাজারকে আরও কার্যকর করতে বলা হয়। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারকে কার্যকর করতে যে কৌশল আছে তা হচ্ছে, আর্থিক বছরের হিসাব। এটি করা হবে। তবে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি অনেক শক্তিশালী। একটি ভালো হলে অন্যটিও ভালো হবে। তবে স্বল্পমেয়াদে অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়ন বন্ধ করা হবে। এজন্য বন্ড মার্কেটে যাওয়া হবে। পর্যাপ্ত বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে কর অর্থায়ন করা হবে। বসন্তকালীন সম্মেলনে দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মিস অর্পনার সঙ্গে। বর্তমান তিনি ভুটান, ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার দায়িত্বে আছেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে- এমন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এরপর বৈঠক হয় আইএমএফের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে। এই দাতাসংস্থার বক্তব্য হচ্ছে, বাংলাদেশকে বিশ্বের অনেক দেশ এখন চিনে। আগে বাংলাদেশকে পরিচয় করাতে কষ্ট হতো। আইএমএফ সক্ষমতা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে আশ্বস্ত করে। এরপর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে একটি বৈঠক হয়। সেখানে ৩৫ জন অর্থমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যেকে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসডিজি অর্জন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন অর্থায়ন। বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা নিরূপণ করেছে। আলাদা বৈঠকে আইএফসি প্রত্যেক বছরে একশ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার ঘোষণা দেয়, যা দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে এবং দরিদ্রতা কমবে।

অপর বৈঠক ভি-২০ আওতায় একটি ক্লাইমেট ফান্ড গঠন করতে সবাই একমত পোষণ করেছেন। এছাড়া নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী হিসেবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: যুগান্তর

For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: