For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

অগ্নিসংযোগ-ভাংচুরে পণ্ড ঢাবির বৈশাখী কনসার্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৫৫:১৩

অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরে ‘দেশের সবচেয়ে বড় বৈশাখী কনসার্ট’ পণ্ড হয়ে গেছে। শনি ও রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মল চত্বরে এ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ছাত্রলীগের অন্তর্কোন্দলের জেরে কয়েক দফায় এ অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার রাত ১টার দিকে এর সূত্রপাত হলেও শনিবার সারা দিনই ক্যাম্পাসে ছিল এ কোন্দলের রেশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কনসার্টের অনুমতি স্থগিত করেছে।কোমল পানীয়ের ব্র্যান্ড মোজোর সহযোগিতায় চৈত্রসংক্রান্তি ও বৈশাখবরণে ১৩ ও ১৪ এপ্রিল কনসার্টের আয়োজন করা হয়। এতে জেমস, মিলা, ওয়ারফেজ, আর্টসেল, ফিড ব্যাকসহ বেশ কয়েকটি ব্যান্ডের সঙ্গীত পরিবেশনের কথা ছিল। সে অনুযায়ী শুক্রবার রাতে মঞ্চ তৈরি, স্টল প্রস্তুতসহ সামগ্রিক প্রস্তুতি নিচ্ছিল আয়োজকরা। এরই মধ্যে রাত ১টার দিকে একদল ছাত্রলীগ নেতাকর্মী অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

রাত ২টার দিকে মল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, মেলার স্টলগুলোয় ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে। কনসার্টের মূল মঞ্চ এলোমেলো। ফ্রিজ ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ভাংচুর করা হয়। তাঁবু উল্টে দেয়া হয়। ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে ডাকসুর জিএস ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং ডাকসুর এজিএস ও ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। তখন বিভিন্ন হল থেকে এই তিন নেতার হাজারখানেক অনুসারী মল চত্বরে আসেন। এ ঘটনার বিচার চেয়ে তারা স্লোগান দেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত মোজোর মার্কেটিং বিভাগের অপারেশন হেড (ব্র্যান্ড) আজম বিন তারেক বলেন, রাত ১টার পর এ হামলা হয়। ২০-২৫ জনের একটি দল গণ্ডগোল বাধাতে গেলে আমি তাদের ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করি। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে আরও ১০০-১৫০ জন এসে আমাকেসহ ওয়ার্কারদের বের করে দেয়। ১০-১২ মিনিটের মধ্যে পুরো জায়গায় ভাংচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। তিনি বলেন, ২০-২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখানকার যত ব্র্যান্ডিং ছিল সব নষ্ট করে দিয়েছে, ৩৪টি ঘরের সব ফেলে দিয়েছে। ছয়টি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। ২২টি ফ্রিজের মধ্যে ১৭টি ভাংচুর করেছে। একটিতে আগুন দেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার ঘটনায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তারা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির অনুসারী। শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হলের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আতিকুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, কবি জসীমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ হোসেন, সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, অমর একুশে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান পিয়াল, স্যার এফ রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষার হামলার নেতৃত্বে ছিলেন বলে জানান তারা। এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন হলে যারা পদপ্রার্থী, তারাও মল চত্বরের আশপাশে অবস্থান করছিলেন বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা জানান, ঘটনাস্থলে আসা উভয়পক্ষের কয়েকজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৩টা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে মহড়া দেন গোলাম রাব্বানী, সনজিত চন্দ্র দাস ও সাদ্দাম হোসেন। ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ বলে তারা স্লোগান দেন। এ সময় তিন নেতা ঘোষণা দেন, অনুষ্ঠান যথাসময়েই হবে। সকালে সেখানে আরেক দফা হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে কনসার্টের সরঞ্জামাদি সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থলে সনজিত দাস বলেন, যারা ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করে তারা মুজিব আদর্শের সৈনিক হতে পারে না। এ ধরনের ছাত্রলীগ আমরা চাই না। এর বিচার না হলে আমি সনজিত চন্দ্র দাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করব।

অন্যদিকে, রাতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের কিছুক্ষণ পর এএফ রহমান হলে শোভন সমর্থক কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর ওপর হামলা করা হয়। হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষার জানান, তার কক্ষের দরজা ভাংচুর করা হয়েছে। ৩১৩ ও ৩১৫ নম্বর কক্ষে তালা দেয়া হয়েছে। এ কক্ষগুলোতেও তুষারের অনুসারীরা থাকতেন। হলের ছাত্রলীগকর্মী সাগর রহমানকে মারধর করে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের অনুসারীরা এ ভাংচুর করেছেন বলে অভিযোগ করেন তুষার। তবে সাদ্দাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হামলার ঘটনা ঘটেছে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজার কক্ষেও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা ঘটনার কিছুক্ষণ পরই ঢাকা কলেজে শোভন-রাব্বানীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ওই সংঘর্ষে আহত হন ১০ জন। পরে নিজেরাই সমঝোতায় আসেন।

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ব্যানারে এ কনসার্ট আয়োজনের ঘোষণা দেয়া হয়। যেহেতু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাকসুর জিএস, তাই তার এখানে কর্তৃত্ব রয়েছে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আয়োজক সংগঠনের শীর্ষ নেতা হিসেবে এবং ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছাত্রলীগ ও ডাকসুর এজিএস উভয় দিক থেকেই কনসার্টে কর্তৃত্ব রাখেন। যেহেতু ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডাকসুর কেউ নন এবং আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ থাকায় সরাসরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারছিলেন না- তাই তার অনুসারীরা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে শোভন সমর্থকদের দাবি, এ কনসার্টের বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতিকে কিছুই জানানো হয়নি। কনসার্টের বাবদ যে টাকা তারা পেয়েছেন তার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বনিবনা না হওয়া- এ ঘটনার অন্যতম কারণ বলে ক্যাম্পাসে আলোচনা রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, তিনি (শোভন) ডাকসু নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে ডাকসু ও ছাত্রলীগের আয়োজনে এত বড় প্রোগ্রামকে বানচাল করার জন্য তার (শোভন) অনুসারীদের দ্বারা এসব কাণ্ড ঘটিয়েছেন। আয়োজনের বিষয়ে সভাপতি শোভনকে না জানানোর অভিযোগ নিয়ে রাব্বানী বলেন, প্রোগ্রামটি মূলত ছাত্রলীগ এবং ডাকসুর আয়োজনে করা হচ্ছে। এ প্রোগ্রামের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনকে। তিনি ছাত্রলীগের সভাপতিকে কমপক্ষে ৮-১০ বার ফোন দিয়েছেন, কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পরে এসএমএস করে তাকে জানানো হয়।

ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন শনিবার সকালে বলেন, ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি প্রোগ্রাম হচ্ছে অথচ আমি সংগঠনের সভাপতি হয়েও কিছুই জানি না। এটি নিয়ে বিভিন্ন হল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যেও ক্ষোভ ছিল। আমি তাদের নিবৃত করেছি। তবে মল চত্বরে কারা আগুন দিয়েছেন তা আমি জানি না। আমি কাউকে এ ধরনের নির্দেশ দিইনি। হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিন শীর্ষ নেতা ও তার অনুসারীদের দোষারোপকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভনকে বৈশাখের আয়োজনের পুরো বিষয় সম্পর্কে জানানো হয়েছে। টাকার ভাগ-বাটোয়ারার বিষয়টি সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

হামলার ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের আয়োজনে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িত ব্যক্তিদের কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাব।

ভিসির সঙ্গে ছাত্রলীগের শীর্ষ চার নেতার সাক্ষাৎ : অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরে কনসার্ট পণ্ড হয়ে যাওয়ায় অনুষ্ঠানের অনুমতি স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিকাল ৪টার দিকে ভিসির বাসভবনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যান। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার।

সভা সূত্র জানায়, সেখানে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা হয়। সবাই মত দেন কনসার্টটি হওয়া উচিত। এ সময় ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তাদের বলেন, যদি চার নেতা বিষয়টি সমন্বয় না করতে পারে তাহলে অনুষ্ঠানের অনুমতি স্থগিতই থাকবে। আর সমন্বয় করে আসতে পারলে পুনরায় অনুমতি দেয়া যায় কিনা বিবেচনা করা হবে। আলোচনা স্থলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রাব্বানী স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এদিকে ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উদ্যোগে এ কনসার্টের আয়োজন হচ্ছে বলে জানানো হয়। তবে ভিপি নূরুল হক নূর জানান, ডাকসু এ কনসার্টের আয়োজন করেনি। আয়োজন করেছে ছাত্রলীগ।

For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: