প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

বেড়েই চলেছে ধর্ষণ, গত ৩৬ ঘণ্টায় ঘটেছে ১০টি ঘটনা

কারেন্ট নিউজ বিডি   ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ২:০০:১৫

দেশে ধর্ষণ বাড়ছে, বাড়ছে ধর্ষণের পর হত্যা। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ধর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্কুলছাত্রী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী, গৃহবধূ থেকে প্রতিবন্ধী নারী, এমনকি শিশু- কেউই রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষণের কবল থেকে। এক এলাকায় ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গণমাধ্যম কেঁপে ওঠছে নতুন আরেক ধর্ষণের খবরে।

গত ৩৬ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণের ১০টি ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনায় ১০টি মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

নোয়াখালীর সেনবাগে ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। এ ছাড়া নরসিংদীর বেলাবতে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করেছেন মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি। রংপুরেও এক শিশু ধর্ষিত হয়েছে। রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় ৫ম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করা হয়। ফেনীর সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নের আর্দশ গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ করেছে স্থানীয় বখাটেরা। বান্দরবানের লামা উপজেলায় মদ খাইয়ে এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন বনকলাপাড়ার নূরানী আবাসিক এলাকার একটি কলোনিতে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী বড়াবাড়ি এমএইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বরখাস্ত হয়েছেন। যশোরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রকাশ ব্যানার্জি (৫৪) নামে পুরোহিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাবনার চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বোলিয়া গ্রামে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মুখোশপরা ধর্ষকরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১৫ দিনে দেশে ৩৯ জন বালিকা ধর্ষিত হয়েছে। ধর্ষণ সহ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৪৭ জন। এসব ঘটনা ঘটেছে ২ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৩ হাজার ৫৮৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৭৮ জনকে। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই শিশু ও কিশোরী। ধর্ষণের সংখ্যা ও ব্যাপ্তি বাড়ছে দিন দিন্। ২০১৪ সালে ৭০৭, ২০১৫ সালে ৮৪৬, ২০১৬ সালে ৭২৪, ২০১৭ সালে ৯২২ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৮৩৫টি আর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।

নারীর ক্ষমতায়নসহ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নে বাংলাদেশের নারীসমাজ বিশ্বে ঈর্ষণীয় পর্যায়ে এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে আছে এদিক থেকে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ইত্যাদি প্রতিরোধে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নসহ দেশে যথেষ্ট ভালো আইন রয়েছে। ধর্ষকদের ক্রসফায়ারে দেয়ার দাবিও উঠেছে। তবে দুঃখের সঙ্গে স্বীকার করতে হয়, বিস্তৃত পরিসরে এর প্রয়োগ প্রায় নেই বললেই চলে।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দেড় লক্ষাধিক মামলা। প্রত্যেক বছরে গড়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ মামলা আর সাজা পাচ্ছে হাজারে সাড়ে ৪ জন আসামি। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ১০ বছরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ১১৭টি। এর মধ্যে রায় ঘোষণা হয়েছে ৮২১টির, শাস্তি হয়েছে ১০১ জনের। মামলার অনুপাতে রায় ঘোষণার হার ৩.৬৬ শতাংশ ও সাজার হার দশমিক ৪৫ শতাংশ।

সারা দেশে বিচারের জন্য ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দেড় লক্ষাধিক মামলা ঝুলে আছে। এসব মামলার বিচার চলছে ঢিলেঢালাভাবে। বছরে নিষ্পত্তি হচ্ছে মাত্র ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ মামলা। আর সাজা পাচ্ছে হাজারে মাত্র চারজন আসামি।

ধর্ষণের বিচার করার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের দুর্বলতা ও দীর্ঘসূত্রতার ফলে সমস্যাটি অত্যন্ত জটিল হয়েছে। আইন প্রয়োগকারীদের একটি অংশ ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি বিরূপ ধারণা প্রকাশ করেন, তাঁরা নারীটির ব্যক্তিগত ‘চরিত্র’ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেন। ফলে ধর্ষণের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে—এটা আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার জন্য যতটা আন্তরিক তাগিদের সঙ্গে আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন, বাস্তবে তার অভাব রয়েছে। শুধু আইন প্রয়োগকারীদের মধ্যে নয়, আমাদের সাধারণ মানুষেরও একটি অংশের ভেতরে ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা হয়। ফলে অত্যন্ত কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে।

For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: