For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী তোর আব্বার কাছে শুনিস: ভিসি নাসির

কারেন্ট নিউজ বিডি   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮:৪০:২৪

এবার গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিনিয়ার সঙ্গে উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিনের অশোভন ভাষায় কথা বলার একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওতে জিনিয়াকে ভিসি বলছিলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী তোর আব্বার কাছে শুনিস। গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোদিন?’

আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ওই শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জিনিয়া ইংরেজি সংবাদপত্র ‘ডেইলি সান’-এর প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছিলেন। উপাচার্যের ফেসবুক আইডি হ্যাক করার হুমকির অভিযোগ তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এই শিক্ষার্থী ফেসবুকে ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ কী হওয়া উচিত’ এমন শিরোনামে একটি স্ট্যাটাসে দিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতে ভিসি নাসির তার সঙ্গে অশোভন কথাবার্তা বলেন।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলছেন, ‘কাছের সাংবাদিক হওয়ার পরেও বিভিন্ন পরিকল্পনা ও বাজেট নিয়ে খোঁজ’ নিতে যাওয়ায় উপাচার্য স্যার একটু বকে দিয়েছেন। পিতা-মাতা রেগে গেলে অটোমেটিক্যালি এরকম হয়ে যায়।’ তবে ওই অডিওর ভাষা শুনে সাবেক উপাচার্য ও অধ্যাপকরা বলছেন, যাই ঘটুক না কেন, এ ধরনের ভাষার ব্যবহার একজন শিক্ষক বা উপাচার্য করতে পারেন না।

ওই অডিওতে শোনা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিনিয়াকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে গিয়ে উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন রুঢ় ভাসায় ভর্ৎসনা করছেন। তিনি বলছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী?… ফাজিল কোথাকার…বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী তুমি জানো না? বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ তোমাদের মতো বেয়াদব তৈরি করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী তোর আব্বার কাছে শুনিস। গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোদিন? আমি খুলছি বলেই তো তোর চান্স হইছে। না হলে তো তুই রাস্তা দিয়া ঘুরে বেড়াতি। বেয়াদব ছেলে-মেয়ে।’

শিক্ষার্থীর যে স্ট্যাটাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ক্ষুব্ধ করে তোলে উপাচার্যের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর কথোপকথনের ওই অডিও সত্য বলে স্বীকার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আশীকুজ্জামান ভূইয়া। তিনি বলেন, জিনিয়াকে এই কথোপকথনের পরে নয়, আগেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে কী কী পরিকল্পনা করছিল এবং আইডি হ্যাক করে শিক্ষক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল, এমন অভিযোগও তোলা হয়েছে সে সময়। ওই শিক্ষার্থীর এক বন্ধু সিএসসি বিভাগের আরেক ছাত্রের কম্পিউটার থেকে প্রশাসনের হাতে কিছু মেসেজ এসেছে উল্লেখ করে প্রক্টর সেগুলো প্রতিবেদককে পড়ে শোনান। তিনি নিশ্চিত করেন, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কিন্তু এরপরেও একজন উপাচার্য এই ভাষা ব্যবহার করতে পারেন কিনা প্রশ্নে প্রক্টর বলেন, ‘স্যার হয়তো রেগে গিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীর পিতৃতুল্য। যখন পিতা রেগে যান তখন বিভিন্ন শব্দ অটোমেটিক্যালি বের হয়ে যায়। ১২ হাজার ছাত্রছাত্রীর পিতামাতা তিনি। তিনি একটা কথা বললেন সেটাই দেখলেন আর যে কাজগুলো এই মেয়ে করলো সেটা দেখবেন না?’ তিনি আরও বলেন, ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি তখনই, যখন জেনেছি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে। এগুলো যখন সামনে এসেছে তখনই এটা করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক হিসেবে এই মেয়েটির প্রতি স্নেহের অধিকার আছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘জিনিয়ার সঙ্গে যে সম্পর্ক’ সবসময় আমরা তাকে জায়গা দেই। সবসময় আমাদের কাছে আসে, তথ্য চায়, দেই। তবে কিছু জিনিস যা করেছে খুবই আপত্তিজনক হয়েছে।’

উপাচার্য রাগারাগিটা করলেন কখন প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘জিনিয়া বিভিন্ন দফতরে গিয়ে নানা পরিকল্পনা ও কাজের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছিল, তখন সেসব দফতর থেকেই ভিসি স্যারকে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি রাগ করেন। জিনিয়ার প্রতি আমাদের এটুকু অধিকার আছে।

প্রসঙ্গত গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করার হুমকির অভিযোগে আইন বিভাগের এই ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পর্কে ফেসবুকে খারাপ মন্তব্য করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফেসবুক আইডি হ্যাক করে প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি করার হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিনিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যুরাল নিয়ে একটি রিপোর্ট করার কারণেই মূলত আমার প্রতি এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। আমার প্রাথমিক সোর্স যিনি ছিলেন তিনি ৩০ আগস্ট একটি তথ্য দেন আমাকে এবং ফেসবুকে পোস্ট দেন। এরপর প্রশাসনের লোকজন তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং মারধর করে তার ল্যাপটপ থেকে আমাদের কিছু কথোপকথনের রেকর্ড পায়। সেই কথোপকথন থেকে তারা জানতে পারে আমার কাছে আরও তথ্য আছে। ফলে আমার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২২ আগস্ট বিভিন্ন রিপোর্টের তথ্য চাওয়ার কারণে উপাচার্য ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন উল্লেখ করে এই শিক্ষার্থী বলেন, বিভিন্ন সময় দাবি ওঠে ক্লাসরুম নেই, আবাসন সংকট। এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেই প্রশাসন থেকে উত্তর আসে, আমরা গাছ লাগাই। এটা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার পোস্টে অনেকে কথা বলার কারণে তিনি রেগে ছিলেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন অডিওর ভাষা শোনার পর মন্তব্য করেন, খুবই খারাপ লেগেছে। অনেক সময় অনেকে ইন্টারনেটে কমেন্ট করে কিন্তু তার (উপাচার্য) জায়গা থেকে এরকম রিঅ্যাক্ট করাটা একদমই ঠিক নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যেকোনও ধরনের মন্তব্য ও মতামত ব্যক্ত করার স্বাধীনতা শিক্ষার্থীর আছে। উপাচার্য এই ভাষায় যদি বলে থাকেন তাহলে আমি মনে করি না বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সামান্যতম যোগ্যতা তার আছে। এ ধরনের আচরণের কারণে এই পজিশনগুলো মলিন হয়ে ওঠে। কী করে এমন পরিস্থিতি হতে পারে যে ভাবতে পারছি না উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অধ্যাপক আফসান চৌধুরী বলেন, সত্যিই কি এসব ভাষা ব্যবহার করা যায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় যে প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হয় সেসবের কারণেই যোগ্যতার বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে। উনাদের নজরদারির কোনও ব্যবস্থা নেই? যে ভাষা তিনি ব্যবহার করছেন তা অকল্পনীয়। আমার মনে হয় না এরপরও তার কিছু হবে।

এই অধ্যাপক মনে করেন, উপাচার্য নিয়োগের মানদণ্ডের ব্যাপারে মনোযোগী না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। শেষবারের ফোন কল তিনি কেটে দিয়েছেন।

For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: