প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

আবরারের মৃত্যুর খবর ‘গোপন’ করে চললো কিশোর আলোর অনুষ্ঠান

কারেন্ট নিউজ বিডি   ২ নভেম্বর ২০১৯, ১১:২০:০৩

মোহাম্মদপুরে রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। তার নাম নাঈমুল আবরার।এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। মৃত্যুর অনেকক্ষণ পরও ঘটনা চেপে রেখে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ায় আয়োজক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শুক্রবার (১ নভেস্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় রেসিডেনসিয়াল মাঠে এই ঘটনা ঘটে।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

এদিকে, শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পরও বিষয়টি আয়োজক কর্তৃপক্ষ গোপন রাখায় এবং ঘটনার পর তাকে পাশের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে না নিয়ে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়ালে নেওয়ায় রেসিডেনসিয়ালের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

আয়েশা মেমোরিয়াল হসপিটালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ফোন অপারেটর লোকমান হোসেন বলেন, বিকাল সোয়া ৪টায় আবরারকে আমাদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। আমাদের কর্তব্যরত চিকিৎসক শ্রীকান্ত সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকাল ৪টা ৫১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।তবে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের কোনও অভিযোগ না থাকায় পুলিশ আবরারের লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

অপরদিকে এই ঘটনাকে একটি দুর্ঘটনা আখ্যা দিয়ে লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার রাতে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরারের মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একই কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ। তার প্রশ্ন, মৃত্যুর খবর চেপে রেখে কেন গান চললো, অনুষ্ঠান চললো?

ঘটনা চেপে রেখে আবরারকে কলেজের পাশের কোন হাসপাতালে না নিয়ে শুধুমাত্র চুক্তির কারণে মহাখালীর একটি হাসপাতালে নেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন আরও অনেকেই।

এক শিক্ষার্থী বলেন, বিকেল সাড়ে তিনটার সময় সে আহত হয়েছে, ডাক্তাররা বলছে মারা গেছে। তখন কেনো ঘটনাটা জানানো হয়নি। অনুষ্ঠানস্থলের পাশেই ওর ডেডবডিটা ছিলো। কেন অনুষ্ঠানটা চললো। এরপরেও কেন দুই ঘণ্টা ধরে গান চললো।

আবরারের এক সহপাঠী বলেন, এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটলো অথচ আবরারকে মোহাম্মদপুর থেকে নিয়ে যাওয়া হলো মহাখালীতে। এতদূর নিতে হলো কেন? আশপাশেই তো কত হাসপাতাল ছিলো, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ছিলো।

নামাজে জানাজার পর এক শিক্ষার্থী বলেন, রাত ১২টার পর জানাজা দেয়া হলো। এটা কি কোনো কিছু ধামাচাপা দেয়ার জন্য হচ্ছে? তিনটার দিকে ঘটনাটা ঘটেছে। আমরা জানতে পেরেছি রাত নয়টার পরে। কিন্তু ‘কিশোর আলো’র পক্ষ থেকে আমাদের কিছুই জানানো হলো না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিপরীতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃত্যুটি নিছক দুর্ঘটনা। একটি তদন্ত কমিটি করেই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ ছাড়াই নিয়েছেন দাফনের প্রস্তুতি।

কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর এখানে যে চিকিৎসকরা ছিলেন তারা তাকে দেখেন। কিন্তু তারা পালস পাচ্ছিলেন না। তাই দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। হাসপাতাল থেকে জানানো হয় সে আগেই মারা গেছে।

তিনি বলেন, আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষ, কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং মৃতের বাবা-মা; আমরা সবাই একসঙ্গে বসেছিলাম।আমরা একটা বিষয়ে একমত হয়েছি, এর জন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী না করে এটাকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিয়ে পোস্টমর্টেম ছাড়া লাশ নিয়ে এসেছি।

এর আগে রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় কয়েকশো মানুষের প্রাণহানির মাঝেও মেরিল প্রথম আলো তাদের অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার শিকার হতে হয় আয়োজকদের।

এদিকে এই ঘটনার পর কিশোর আলোর পক্ষ থেকে লেখক আনিসুল হক একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

তিনি বিবৃতিতে বলেন, গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, কিশোর আলোর অনুষ্ঠান দেখতে এসে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাঈমুল আবরার বিদ্যুতায়িত হয়। পরে ওখানেই জরুরি মেডিক্যাল ক্যাম্পে তাকে নেওয়া হয়। দুজন এফসিপিএস ডাক্তার তাকে দেখেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে আবরারকে হাসপাতালে নিতে বলেন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমার জীবনে এর চেয়ে মর্মান্তিক খবর আর পাইনি। আমি ও কিশোর আলো আজীবন আবরারের পরিবারের সঙ্গে থাকবো। যদিও এই অপূরণীয় ক্ষতি কিছুতেই পূরণ হবে না। আমি ‘কিংকর্তব্যবিমুঢ়’ অবস্থায় আছি। আবরারের জন্য দোয়া করছি।

For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: