প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

রাষ্ট্রপতির যে অপ্রিয় সত্য ভাষণ ভাইরাল (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক   ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ২:০০:০৮

নিজের জীবনের জীবনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জীবনে অনেক পরীক্ষায় ফেল করেছি। তবে কখনও পাস করার জন্য নকলের মতো অনৈতিক পথ অবলম্বন করিনি। এমনকি পাসের সময় কাউকে জিজ্ঞাসা করিনি। এটি আমার জীবনের একটি অহংকার, এটি নিয়ে আমি গর্ববোধ করি।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি এ সব কথা বলেন। রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠে এ সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

আক্ষেপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজ শুনি শিক্ষকরা ছাত্রদের কাছে নকল সাপ্লাই করে। অনেক জায়গায় শোনা যায় অভিভাবকরা নকল সাপ্লাই করে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। এদের কী শাস্তি হতে পারে। মনটা চায় আর কইলাম না… বুইঝ্যা নিয়েন… ।’ পরীক্ষায় নকল প্রবণতা ও অনৈতিক পন্থা অবলম্বনের কারণে দেশ ও জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে এর বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘রাজনীতির কারণে যথাসময়ে ডিগ্রি পাস করতে পারিনি। ১৯৬৯ সালে ডিগ্রি পাস করি। ৭১ সালে ল’ পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণে তা সম্ভব হয়নি। দেশ স্বাধীনের পর ৭২ সালে ল’ পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়। চার পেপারে পরীক্ষা। তখন সারাদেশের পরীক্ষা হয়েছিল জগন্নাথ কলেজে। আমিও সেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পরীক্ষা যখন দিতে গেলাম দেখলাম সবাই মোটা মোটা বই দেখে লিখে যাচ্ছে। বই সামনে ছাড়া খুব কমই দেখেছি। আমি তখন বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্য। ভাবলাম, আমি যদি এই কাজটি করি তাহলে কেমন হয়! মাঝে মাঝে সাংবাদিকরাও আসছে। তারা যদি কিছু লেখে! পরে সিদ্ধান্ত নিলাম, কপালে যা আছে হবে কিন্তু বই দেখব না। যা পারি তাই লেখলাম। ফলাফলে চার সাবজেক্টের মধ্যে দুই সাবজেক্টে পাস করি আর দুই সাবজেক্টে ফেল করি। পরে অবশ্য ১৯৭৪ সালে ভালোভাবে পড়াশোনা করে ল’ পরীক্ষা দিয়ে পাস করি।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমি যদি তখন নকল করতাম আর পত্রিকায় আসত তাহলে তো আজ তোমরা বলতে বেটা নকল করে পাস করেছে, এখন বড় বড় কথা বলো।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘ডিসিপ্লেন না মানলে কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না। তোমাদেরকে অনুরোধ, মানুষকে বোঝাও যাতে তারা ডিসিপ্লিন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলেন। এভাবে যত্রতত্র রাস্তা ক্রস করা ঠিক না। যেখানে ব্যবস্থা নেই সেখানে অন্য কথা। সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিদেশিরা এসে আমাদের চাল-চলন দেখে হতাশ হয়। এ জন্য সবার প্রতি অনুরোধ, বিষয়টি ভেবে দেখবেন।’

রাষ্ট্রপতি তার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক আগে থেকে। আমি একটা ছাত্র সংগঠন করতাম। জেলা সভাপতি ছিলাম। কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজে আমি তখন ভিপি ছিলাম। তখন জগন্নাথে ২৪/২৫ হাজার ছাত্র ছিল। ভিপি ছিলেন রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। কাজী ফিরোজ রশিদও তখন ছাত্রলীগ করতেন।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জগন্নাথের ছাত্ররা না গেলে ছাত্রলীগের কোনো প্রোগ্রাম পূর্ণাঙ্গ হতো না, জমত না। আন্দোলন-সংগ্রামে জগন্নাথ কলেজের অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আমিও পারি না।’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘আজ আমি আবদুল হামিদ, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, ফিরোজ রশিদ, আজ আমাদের তিনজনের পথ তিনদিকে। রাজু সংসদ সদস্য, তিনি একটি দল করেন। ফিরোজ রশিদও সংসদ সদস্য, তিনি আরেকটি দল করেন। আর আমি কোনো দলেই নাই। আমি সব দলই করি, আবার কোনোটিই করি না। আজ তিনজনের পথ তিনদিকে।

রাষ্ট্রপতির যে অপ্রিয় সত্য ভাষণ ভাইরাল

নিজের জীবনের জীবনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জীবনে অনেক পরীক্ষায় ফেল করেছি। তবে কখনও পাস করার জন্য নকলের মতো অনৈতিক পথ অবলম্বন করিনি। এমনকি পাসের সময় কাউকে জিজ্ঞাসা করিনি। এটি আমার জীবনের একটি অহংকার, এটি নিয়ে আমি গর্ববোধ করি।

Posted by Current News BD – কারেন্ট নিউজ বিডি on Monday, January 13, 2020

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: