প্রচ্ছদ / সিলেট / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

শাহনাজ বেগমের বাঁচার আকুতি

কারেন্ট নিউজ বিডি   ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৮:০০:২৪

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে করতেন ঝিয়ের কাজ। অফিসে কর্মরত স্টাফরা যে যার মতো করতেন সহযোগীতা। ৩ সন্তান নিয়ে থাকেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রেলওয়ে কলোনী পরীনগরে। অভাব-অনটনের সংসারে হাল ধরতে ছেলেকে অল্প বয়সে পাঠিয়েছেন রাজধানীর একটি রেস্তোঁরায় চাকরি করতে। মাসের শেষে ছেলে-মায়ের যা রোজগার হয় তা দিয়ে চলতো না সংসার। নুন আনতে পান্তা পুরায়। বলছিলাম ৩৮ বছর বয়সী শাহনাজ বেগমের জীবন সংগ্রামের কথা।

হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে বিছানায় কাতরাতে থাকেন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা করে জানতে পারেন তিনি জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন! ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করেছেন একটি কেমোথ্যারাপী। সেই খরচ সামলাতে ঋণ করতে হয়েছে তার। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহনাজের স্বামীর সাথে প্রায় ১১ বছর আগে থেকে সাংসারিক কলহ ছিলো। স্বামী খোঁজখবর নিতেন না। গত প্রায় ২ বছর আগে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ডিভোর্সের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। এরপর থেকেই ২ মেয়ে ও ১ ছেলে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন শাহনাজ বেগম। নিজের অসহায়ত্ব ও অভাবের সংসার নিয়ে যখন হতাশার ধোঁয়াশা নিয়ে চলছিলো দিনাতিপাত ঠিক এমন সময় এরকম রোগে আক্রান্ত অনেকটা ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

গত বছরের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় কুলাউড়ার বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তিনি। তাদের পরামর্শে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান ২৬ ডিসেম্বর। সেখানে কোন উন্নতি না হওয়ায় ডাক্তার ইশরাত জাহানের পরামর্শে ঢাকার প্যানপ্যাসিফিক মেডিকেলের গাইনী বিশেষজ্ঞ সারিয়া তাসনিমের কাছে যান। তিনি পরীক্ষা নীরিক্ষা করে জরায়ু ক্যান্সার সম্ভাবনা দেখে রেফার্ড করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। ৫ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি। সেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের রেডিওথেরাপি বিভাগের প্রধান ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় জরায়ু ক্যান্সারের বিষয়টি নিশ্চিত হোন। পরে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, সার্জারীর দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ইতোমধ্যে একবার কেমোথেরাপি দেয়া হয়েছে। তবে এরকম কেমোথেরাপি ৬ বারেরও বেশি দেয়া লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। একটা কেমোথেরাপি দিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

অসহায় শাহনাজ বেগম বলেন, ‘এমনিতেই খুব অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে সংসার চালাচ্ছি। দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে চলছে কোনরকম সংসার। বাচ্চাদের অভিভাবক আমি ছাড়া কেউ নেই। আমার যদি কিছু হয় তবে আমার বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ অনেক কঠিন হয়ে যাবে। অন্তত বাচ্চাদের জন্য হলেও আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু এতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে সম্ভব না। সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে সাহায্য প্রার্থণা করা ছাড়া কোন উপায় নেই।’ শাহনাজের ছেলে শাহদাত ইসলাম হিরা (১৭) বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি রেস্তোঁরায় চাকরি করতাম। মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর থেকে উনার সাথেই আছি। মায়ের চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। আমাদের কাছে যা ছিলো তা খরচ করে ফেলেছি। পরিচিত অনেকের কাছ থেকে ঋণ করেছি। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না। সবার কাছে আকুল আবেদন করছি, আমার মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।’

উল্লেখ্য, শাহনাজ বেগমকে কেউ সাহায্য করতে চাইলে যোগাযোগ ও বিকাশ (ব্যক্তিগত) করতে পারেন এই (০১৭৫৬৩৬৩৯৭২) নাম্বারে। এবং সোনালী ব্যাংকের মৌলভীবাজারের কুলাউড়া শাখায় শাহনাজ বেগম নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব (নং- ৫৮১০৭০১০২১২৬৬) একাউন্টে টাকা জমা করতে পারেন।

For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: