প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়: ড. কামাল হোসেন

কারেন্ট নিউজ বিডি   ২৭ মার্চ ২০১৮, ৬:৩৫:৩০

ঢাকা, ২৭ মার্চকারেন্ট নিউজ বিডিএদেশ কোনো ব্যক্তির নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়, কোনো দলের নয়—এদেশ জনগণের। এদেশে অন্যায় করে কেউ পার পায়নি। অন্যায়ভাবে কোনো দিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। কথাগুলো বলেছেন সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স রুমে গণফোরাম আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত ৪৭ বছরে অনেকেই ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করেছে, কেউ পারে নাই। ভবিষ্যতেও কেউ পারবে না।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, নিজের দলের প্রতি এক রকম বিচার বিরোধী দলের প্রতি আরেক রকম বিচার—এটা আইনের শাসন হয় না। এটা স্বৈরশাসন। বঙ্গবন্ধু স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের কথা বলে গেছেন, রাজতন্ত্রের কথা বলেননি। বঙ্গবন্ধু লিখে দিয়েছেন এদেশ চলবে গণতন্ত্রে— রাজতন্ত্রে নয়। এদেশ কখনো রাজার অধীনে থাকবে না। জনগণের প্রতিনিধিরা দেশ চালাবে। জনগণের প্রতিনিধি কারা—যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে যে সংবিধান দিয়ে গেছেন সে সংবিধানের মূল কথা দেশের মালিক জনগণ। একজন নাগরিক হিসেবে আমি দেশের মালিক, আমার অধিকার আছে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করার। সে অধিকার থেকে আজ জনগণকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর লিখিত দলিলে (সংবিধানে) জনগণের যে স্বপ্নের কথা লেখা আছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা শোষণ করে, অর্থ আত্মসাৎ করে, দুর্নীতি করে—তারা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করছে। কেউ যদি অন্যায়ভাবে দেশের সম্পদ আত্মসাৎ করে, পাচার করে—ক্ষমতায় থাকলেই তা কি কখনো বৈধ হয়ে যায়?

ড. কামাল বলেন, স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানি শাসকরা যা করেছে, এখন যারা দেশ থেকে পুঁজি পাচার করছে, তারা কি একই কাজ করছে কি-না? আমার বক্তব্য কোনো দলের সঙ্গে বিরোধিতা নয়, তবে বঙ্গবন্ধু যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন সে দায়িত্ব থেকে আমরা কি মুক্ত থাকতে পারি? আমরা কি জনগণের সঙ্গে বেইমানি করতে পারি?

তিনি বলেন, আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। মানুষের মাঝে যেতে হবে, তাদের অধিকারের কথা বলতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলতেন বড় অর্জনের জন্য প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধজাতি, এখন ঐক্যের ডাক পৌঁছে দিতে হবে।
এ সময় তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে ন্যায় প্রতিষ্ঠার কাজ করে যেন মরতে পারি।

আলোচনা সভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দকী বীরউত্তম বলেন, এই সরকার বৈধ নয়। সংবিধানে পরিষ্কার লেখা আছে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠিত হবে। ১৫৪ জন তো প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হননি।
তিনি বলেন, বড় লজ্জা হয়, যখন দেখি সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল বেগম খালেদা জিয়ার আপিলের বিরোধিতা করছে। এটা তো দুদকের মামলা সরকার দাঁড়াবে কেন?

তিনি আরও বলেন, আমাদের রাজনীতির দুর্ভাগ্য হলো বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আওয়ামী লীগকে মারে আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপিকে মারে। এটা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে বাদ দিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় সরকার কায়েম করা।

গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, যুদ্ধ করতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলাম। বর্তমান সরকারকে স্বৈরাচারী সরকার আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এবার ২০১৪ সালের নির্বাচন সম্ভব নয়। তারপরও কোনোভাবে ক্ষমতা দখল করতে পারলেও আওয়ামী লীগ দেশ চালাতে পারবে না। আগামীতে বিএনপি জিতলেও বিশৃঙ্খলা হবে, নৈরাজ্য হবে। খালেদা জিয়াও তা ঠেকাতে পারবেন না। সে জন্য দেশ বাঁচাতে হলে দরকার ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের সরকার।

ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মাদ মনসুর আহমেদ বলেন, একজন শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা তৈরি করার পেছনে বহু মানুষের শ্রম-ঘাম আছে। আজ বড় দুঃখ হয় যখন দেখি সেই বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। মহল্লার মাস্তান, চাঁদাবাজরা পোস্টারে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা আমিন প্রমুখ।

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: