প্রচ্ছদ / বরিশাল / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

নারিকেলের ছোবড়ায় জীবন-জীবিকা

কারেন্ট নিউজ বিডি   ৩০ মার্চ ২০১৮, ১১:৪৪:৪৭

ঢাকা, ৩০ মার্চকারেন্ট নিউজ বিডিনারিকেলের ছোবড়া মানে অপ্রয়োজনীয় বস্তু। পূর্বে গ্রামাঞ্চলে নারিকেল থেকে ছোবড়া ছাড়িয়ে তা ফেলে দেয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই ছোবড়া বিক্রি করে অনেকেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন। নারিকেলের পরিত্যক্ত এই ছোবড়া দিয়ে তৈরি হচ্ছে- জাজিম, সোফা ও চেয়ারের গদির মত প্রয়োজনীয় সব জিনিস। তাই পূর্বের ফেলা দেয়া অপ্রয়োজনীয় বস্তুটি বর্তমানে মূল্যবান বস্তুতে রূপান্তরিত হয়েছে।

কেউ কেউ এই ছোবড়া সংগ্রহ এবং বিক্রি করাকে তাদের প্রধান পেশা হিসেবেও বেছে নিয়েছে। বছরের ছয় মাস ছোবড়া বিক্রির সময় থাকায় অন্য পেশার পাশাপাশি এই কাজও করছে অনেকে।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

তেমনই একজন নগরীর রসুলপুরের বাসিন্দা আবদুর রব মিয়া। চল্লিশার্ধো বয়সী এই মানুষটি দীর্ঘ ১০ বছর ধরেই এই ছোবড়া বিক্রি করে তার সংসার চালাচ্ছেন। তবে প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব এবং জায়গা সংকটের ফলে এই কাজটিও করতে অনেকটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাকে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছোবড়া কাটা এবং শুকানো এবং বস্তায় ভরায় ব্যস্ত এই মানুষটি। এতো কঠোর পরিশ্রম করছেন শুধুমাত্র পরিবার পরিজন নিয়ে একটু ভাল থাকা। তাছাড়া এই কাজটিতে সহযোগিতা করছে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। আর এর ফলে এই ছোবড়া প্রক্রিয়াজাত থেকে বিক্রি করা পর্যন্ত রব মিয়ার কাজটি অনেকটা সহজ হয়ে গেছে।

আবদুর রব মিয়া জানান, ভোলা ও চরফ্যাশন থেকে সংগ্রহ করে থাকেন এই নারিকেলের ছোবড়া। মাঝে মাঝে বিভিন্ন ব্যাপারীদের মাধ্যমে কাঁচা ও শুকনা নারিকেল সংগ্রহ করে তা থেকে ছোবড়া ছাড়িয়ে এবং পরে তা মাড়াই করে বিক্রি করে থাকেন। তবে ব্যাপারীদের থেকে বেশিরভাগ সময়ই নিজেই এই ছোবড়া সংগ্রহের কাজটি করে থাকেন। এতে করে ছোবড়া ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয় না বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, একশ নারিকেলের ছোবড়া ছিলতে খরচ হয় ১০০ টাকা, আর একশ ছোবড়া তিনি ক্রয় করে থাকেন ২০০ টাকায়। পরবর্তীতে যাতায়াত খরচসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে ৪০ কেজি ছোবড়া ছাড়িয়ে পরে তা মাড়াই করতে খরচ হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। পরবর্তীতে প্রতিটি বস্তায় ৪০ কেজি করে ছোবড়া ভরে জেলার বিভিন্ন দোকানে তা বিক্রি করে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। মাঝে মাঝে ৯০০ টাকাও বিক্রি করেন রব মিয়া।

আবদুর রব মিয়া জানান, ছোবড়ার আমদানি এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতিমাসে ১টন নারিকেলের ছোবড়া বিক্রি করা যায়। তাছাড়া নারিকেলের ছোবড়া সব সময় চলে না। বছরের ছয় মাসের সিজন থাকে। এসময় ভালোই চলে এবং ব্যস্ততাও থাকে অনেক। তাইতো বছরের প্রায় ৪ থেকে ৫ টন ছোবড়া বিক্রি করতে পারেন তিনি। ২০১৭ সালে তিনি চার টনের অধিক নারিকেলের ছোবড়া বিক্রি করেছেন।

তিনি জানান, এই ছোবড়া ব্যবসার ক্ষেত্রে তাকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অর্থ সংকট। পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তিনি এই ব্যবসাটি সম্প্রসারিত করতে পারছেন না।

শুধু আবদুর রব মিয়া নয়। এই নারিকেলের ছোবড়ার উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বরিশালে শতাধিক কর্মজীবী মানুষ।

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: