প্রচ্ছদ / ময়মনসিংহ / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

শেরপুরে শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি, আহত ৭

কারেন্ট নিউজ বিডি   ৩১ মার্চ ২০১৮, ৫:১২:৩৫

ঢাকা, ৩১ মার্চকারেন্ট নিউজ বিডিশেরপুরের পাঁচ উপজেলাতেই ঝড় ও শিলা বৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতীতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। নালিতাবাড়ীতে শিলার আঘাতে নারীসহ আহত হয়েছেন সাতজন। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বোরো আবাদ ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক।

শুক্রবার দিবাগত রাতে এই শিলাবৃষ্টি হয়। শনিবার সকালেও বিভিন্ন উপজেলাতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত আছে।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

শিলার আঘাতে আহতরা হলেন নালিতাবাড়ীর মরিচপুরান ইউনিয়নের গোজাকুড়া গ্রামের সুর্বণা খাতুন (৩০), ফাইজুদ্দিন (৬০), মোকছেদুর রহমান (৪০) ও রুপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের কাউয়াকুড়ি গ্রামের মো. আবু দারদা (২৩), রাজিয়া খাতুন (৪০), হাবিবুর রহমান (৪০) ও বেলাল হোসেন (৬৫)। তারা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

এদিকে শিলা বৃষ্টির তাণ্ডব ও ঝড়ে উপজেলার গোজাকুড়া ও কাউয়াকুড়ি গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষকের টিনসেট ঘর ও বোরো আবাদ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফ ইকবাল বলেন, মরিচপুরার  ইউনিয়নের গোজাকুড়া ও রুপনায়ানকুড়া ইউনিয়নের কাউয়াকুড়ি গ্রামে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বোরো আবাদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্ক করছি। আবহাওয়া খারাপ থাকায় প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।

রুপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের কাউয়াকুড়ি গ্রামে শিলার আঘাতে আহত বেলাল হোসেনের পুত্র মোকবুল হোসেন  (৩৫) জানান, তিনি তার জীবনে এতো বড় আকারের শিলা দেখেননি। প্রতিটি শিলার ওজন ছিল ৫- ৬ শ’ গ্রামের ওপরে।

তারাগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও গোজাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা ইমদাদুল হক কাজল জানান, তার এলাকার অধিকাংশ মানুষের টিনসেট ঘরের টিনের চালা শিলার আঘাতে ফুটো হয়ে গেছে। ফের বৃষ্টি হলে এসব বাড়ি ঘরে থাকা সম্ভব হবে না।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল-মামুন  জানান, শিলাবৃষ্টির পর হাসপাতালে সাত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ নারী-পুরুষের মাথা ফেটে গেছে শিলার আঘাতে।

অন্যদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। একই সময়ে উপজেলার ওপর দিয়ে প্রচণ্ড বেগে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উঠতি বোরো ফসল, শাক-সবজি বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বোরো ধানের থোর, আম-লিচুর মুকুল, সবজিক্ষেতের ক্ষতি হয়। কালবৈশাখীর ছোবলে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে ও গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শনিবার সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরিভাবে সচল করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশাসহ সাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরপর দুইবার এ উপজেলার কৃষকরা বোরো ও আমন ফসল ঘরে তুলতে পারেনি। চলতি বোরো মৌসুমে আগের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে আশা নিয়ে মাঠে নামে কৃষকরা। কিন্তু বছরের শুরুতেই কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ছোবলে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল আওয়াল বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে কী পরিমাণের ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের পর তা জানা যাবে।

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: