প্রচ্ছদ / খুলনা / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কৃষকদের ব্যতিক্রমী বনভোজন

কারেন্ট নিউজ বিডি   ১ এপ্রিল ২০১৮, ৪:৫৭:৪০

ঢাকা, ০১ এপ্রিলকারেন্ট নিউজ বিডিঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কোলা ইউনিয়নের কৃষকরা উদযাপন করলো এক ব্যতিক্রর্মী বনভোজন। দৌলতপুর গ্রাম থেকে রোববার সকাল ৯ টায় শতাধিক কৃষক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বহর নিয়ে বনভোজনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়। বাহন হচ্ছে একটি পালকি ও ছই করে সাজানো ৬ টি গরুর গাড়ি। সকলের মধ্যে রয়েছে অতীতের গ্রামীণ জীবনের সাজ। কাঁধে গামছা, পরনে লুঙ্গি পায়ে স্যান্ডেল বা চটি। কেউ কেউ মাথায় দিয়েছেন কৃষকদের মাথার টোপর বা মাথাল। এশিয়ার বৃহত্তম বটবৃক্ষ মল্লিকপুরের বটবৃক্ষের তলে বেলা ১০ টায় পৌছানোর পর শুরু হয় নানা খেলাধুলা। গ্রামীণ সমাজ থেকে প্রায় হারিয়ে যাওয়া বউচি, কানামাছি, কুতকুত, ডাঙ্গুলী, কাচের বল বা মার্বেল। যারা খেলায় অংশ নিচ্ছেন না তারা ছায়ায় গোল করে বসে এক মুরব্বী কৃষকের মুখের অতীতের নানা গল্প শুনে মজা করছেন। এ সব কিছুর পরে দুপুরে খাওয়া দাওয়া হলো খেচুড়ি, ডিম ভাজি সাথে দেয়া হয়েছে কাঁচা মরিচ ও পেয়াজ। খাবার পরিবেশন করা হলো কলা পাতায়। প্রত্যেকের হাতে ছিল মাটির তৈরী পানির গ্লাস।

কোলা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মরহুম কাজী আব্দুল ওয়াহেদ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কাজী এমদাদুল হক এমদাদ জানান, আজকের দিনে গ্রামীণ সমাজেও শহুরে ছাপ পড়েছে। অতীতের তুলনায় মানুষ আজ যান্ত্রিক হয়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার ঘুমানোর আগ পর্যন্ত সব সময় রয়েছে ব্যস্ততা। আজকের প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতি ফেলে বিদেশী সংস্কৃতিতে ঝুঁকে পড়ছে। যে কারণে তারা অতীতের গ্রামীণ সমাজের কৃষক শ্রেণীর মানুষের জীবনযাত্রা নতুন প্রজন্মের মাঝে পৌছে দিতে এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

কাজী এমদাদুল হক আরো জানান, অতীতের গ্রামীণ জীবনে চাঁদনী রাতে বাড়ির উঠানে গোল হয়ে বসে লণ্ঠণ জ্বালিয়ে সব বয়সী মানুষের সামনে মুরব্বীরা রুপকথা, রাজারাণী-রাজকণ্যা-রাজপুত্রদের নিয়ে গল্প বলাসহ পুথিপাঠ করতেন। আবার গ্রামের হাঠখোলা বা স্কুল মাঠে প্রায়ই সকলে মিলেমিশে আয়োজন করতেন পালাগান, গুনাইবিবি, রুপবানসহ নানা নামের যাত্রাপালার । মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে সারাদিন বৃষ্টিতে ভেজা কৃষকেরা ক্লান্তি দূর করতে জারি সারি গান গেয়ে সারা মাঠ মাথায় করতেন। চৈত্রের দুপুরে রাখাল গাছের ছায়ায় বসে মনের সুখে বাজাতেন বাঁশের বাঁশি। নতুন ধান ঘরে উঠার পর গ্রামে আয়োজন করা হতো নবান্নের উৎসবের। বিয়ে হলে বর বউ যেতেন পালকিতে চড়ে।

পরিবারের মেয়েরা শশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িসহ আত্বীয় বাড়িতে বেড়াতে যেতেন ছই দিয়ে ঘেরা সাজানো গরুগাড়িতে করে। বনভোজন বা দুরে কোথাও কাজে যেতে বাহন হিসেবে ব্যবহার হতো একমাত্র গরুরগাড়িই। গ্রামের যে কোন খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠানে মাটিতে শীতলপাটি পেতে লম্বা সারিতে বসিয়ে খাবার পরিবেশন করা হতো কলাপাতা অথবা পদ্মপাতায়। কালের বিবর্তনে গ্রামীণ জীবন থেকে আজকের দিনে এ সব হারিয়ে যেতে বসেছে। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নতির কারণে এমন হওয়াটা স্বাভাবিক। দেশের উন্নতির কারণে মানুষের চাওয়া পাওয়া রুচিসহ জীবনযাত্রার আমুল পরিবর্তন হয়েছে কিন্ত আমাদের অতীত ভুলে গেলে চলবেনা। তাই গ্রামীণ কৃষি নির্ভর সমাজের মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিকে আজকের প্রজন্মকে জানানোর জন্য ব্যতিক্রমধর্মী বনভোজনের আয়োজন করেছেন তারা। অনুষ্ঠানটির নানা আয়োজনের মাধ্যমে অতীতের মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা যেমন ছিল তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন মাত্র।

কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইউব হোসেন জানান, আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে না পারলে আমাদের নিজস্বতা হারিয়ে ফেলবো। অতীতের তুলনায় মানব সভতার বিকাশ ঘটেছে। দেশও বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে অতীত ও বর্তমানের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তার অর্থ এই নয় যে আমরা আমাদের অতীত ভুলে যাবো। যারা নতুন প্রজন্মের মাঝে আমাদের অতীতের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও কৃষকদের জীবনযাত্রার দিকগুলো তুলে ধরেছেন তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: