প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকায় ভোট চাই: প্রধানমন্ত্রী

কারেন্ট নিউজ বিডি   ১ এপ্রিল ২০১৮, ৫:৪৮:৪৯

ঢাকা, ০১ এপ্রিলকারেন্ট নিউজ বিডিউন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নৌকা আপনাদের মার্কা। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। ভোট দিবেন কিনা দু’হাত তুলে ওয়াদা করুন।

চাঁদপুর স্টেডিয়ামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আজ রবিবার বিকেল তিনটা ১০ মিনিটে তিনি জনসভা মঞ্চে আসেন।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

এ সময় চাঁদপুরের বিখ্যাত ইলিশ মাছ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারি দুলাল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়নের রাজনীতি করে অন্যরা না। তাই নৌকা মার্কায় ভোট দিলে গ্রাম পর্যায় থেকে উন্নয়ন হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি- জামায়াতের রাজনীতি জ্বালাও-পোড়াও। আর আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে থাকে। এটাই আওয়ামী লীগের নীতি ও আদর্শ।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নিতে জানে, দিতে নয়। আওয়ামী লীগ গড়ে, বিএনপি ধ্বংস করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন করা তার সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কেউ না খেয়ে থাকবে না। কেউ গৃহহারা থাকবে না। কমকরে হলেও একটি করে টিনের ঘর করে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। ভিক্ষুকের জাতির আত্মমর্যাদা থাকে না। আমরা সব জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করবো। বাংলাদেশ হবে ভিক্ষুকমুক্ত। বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা মাথা উঁচু করে চলবো, কারোর কাছে হাত পাতবো না।

তিনি বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের হাতে পতাকা দেয় তারা এ দেশের উন্নয়ন করবে না। নৌকা আপনাদের মার্কা। এটি উন্নতি সমৃদ্ধি দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক মা-বাবাদের বলবো, আপনারা সচেতন থাকবেন। কেউ যেন মাদক, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের পথে না যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হয়েছে। বিশ্ব দরবারে আমাদের মাথা উঁচু হয়েছে। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আমরা পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলাম বলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। তা যদি হয় তাহলে সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে।

একমাত্র আওয়ামী লীগই উন্নয়নের রাজনীতি করে, অন্যরা নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকামার্কায় ভোট দিলে গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়ন হবে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, জনগণের দোড়গোড়ায় আমরা চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিয়েছি। আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না। যাদের ঘর নাই, বাড়ি নাই আমরা তাদের বাড়িঘর করে দিচ্ছি। আমরা চাই না দেশের মানুষ ভিক্ষা করে চলুক। এজন্য দেশকে ভিক্ষামুক্ত করার চেষ্টা করছি।

পদ্মা ও মেঘনা নদী তীরবর্তী জেলা চাঁদপুরের মৎস্যজীবী ও জেলেদের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। যখন ইলিশ শিকার বন্ধ থাকে তখন আমরা জেলেদের মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেই।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই দেশের মানুষের উন্নয়ন। আমরা যা যা ওয়াদা করেছি সব কিছু ঠিকমতো পালন করে যাচ্ছি। ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন ও ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার করেন।

জনসভায় বিএনপির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতিমদের জন্য টাকা এনে তারা সে টাকা মেরে দিয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে টাকা পাচারের অভিযোগে বিদেশে মামলা হয়েছে। আমরা সে টাকা সেখান থেকে ফেরত এনেছি।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সন্তান কোথায় যায়, কেন যায় সে বিষয়ে আপনারা লক্ষ্য রাখবেন। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে হবে। এজন্য অভিভাবকদের ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চান। এজন্য উপস্থিত জনতাকে দুই হাত তুলে অঙ্গীকার করতে বললে জনতাও দুই হাত তুলে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন।

চাঁদপুরবাসীর জন্য ৪টি বড় আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাঁদপুরের উন্নয়নে আপনাদের কোনও দাবি করা লাগবে না। নৌকা মার্কায় ভোট দেন, আমরা নিজেরাই চাঁদপুরের সব উন্নয়ন করে দেবো। এখানে পর্যটনের প্রচুর সুযোগ আছে। বিশেষ করে পদ্মা ও মেঘনা যেখানে মিলেছে নৌভ্রমণের জন্য এ জায়গা সব থেকে সুন্দর। সেই জায়গাটা দেখতে দেশবাসীকে সুযোগ করে দেব চাঁদপুরে পর্যটন কেন্দ্র হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো ডা. দীপুমনিকে দেখিয়ে বলেন, আপনাদের এই জন প্রতিনিধি একজন ডাক্তার। সে আমার কাছে আগেই চাঁদপুরে একটা মেডিকেল কলেজ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। কথা দিয়েছি, চাঁদপুরে মেডিক্যাল কলেজ করে দেবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাঁদপুরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দেব। সেই সাথে পর্যটনের ব্যবস্থা করে দেব। নৌবন্দরও করে দেব।

জনসভা ঘিরে সকাল থেকে আসা নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে গোটা স্টেডিয়াম মুখরিত করে তোলেন। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এর আগে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের হাইমচরে পৌঁছান। সেখানে তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের ষষ্ঠ জাতীয় কমডেকার সম্মেলন উদ্বোধন করে বক্তব্য দেন।

এরপর সার্কিট হাউসে বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন।

দীর্ঘ আট বছর পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উপলক্ষে চাঁদপুরে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ও বিলবোর্ড দিয়ে সড়ক সাজিয়েছেন। জেলায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: