প্রচ্ছদ / আইন-অপরাধ / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

স্ত্রীর পরকিয়ার জেরে খুন হন আইনজীবি রথীশ: র‌্যাব

কারেন্ট নিউজ বিডি   ৪ এপ্রিল ২০১৮, ৫:৪০:৪৭

ঢাকা, ০৪ এপ্রিল, কারেন্ট নিউজ বিডি : রংপুর জজ আদালতের বিশেষ পিপি ও জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক রথীশ চন্দ্র ভৌমিকওরফে বাবুসোনা হত্যা প্রসঙ্গে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, নিহত ব্যক্তির স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে প্রেমিক কামরুল ইসলামের সহায়তায় তার স্বামীকে হত্যা করেন। রথীশের স্ত্রীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ২ মাস আগে তারা হত্যার পরিকল্পনা করেন।

আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রংপুরের র‌্যাব-১৩ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক এ কথা বলেন।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, পারিবারিক কলহ, সন্দেহ ও পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে স্ত্রী দীপা ভৌমিক তার স্বামী রথীশ চন্দ্রকে হত্যা করে। এ কাজে সহায়তা করেন তার কথিত প্রেমিক কামরুল মাস্টার।

তিনি বলেন, গত ২৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ১০টার শয়নকক্ষে রথিশ চন্দ্রকে ভাত ও দুধের সঙ্গে ১০টি ঘুমের বড়ি খাওয়ানো হয়। এ সময় তিনি অচেতন হলে স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও তার প্রেমিক কামরুল ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর তার লাশ শয়নকক্ষেই রাখা হয়। পরের দিন শুক্রবার কামরুল মাস্টার ভোর ৫টায় ওই বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সকাল ৯টায় কামরুল একটি রিকশাভ্যান নিয়ে আসে। পরে তারা লাশ গুম করার উদ্দেশে একটি আলমারি পরিবর্তনের নাম করে সেখানে লাশ ভরে রংপুর নগরীর তাজহাটের মোল্লাপাড়ার নির্মাণাধীন বাড়িতে বালু খুঁড়ে পুঁতে রাখে। আলমারি বহন ও লাশ ভ্যানে তোলার কাজের জন্য ৩ জনকে কামরুল মাস্টার আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন।

বেনজির আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রথীশ চন্দ্রের স্ত্রী দীপা ভৌমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১১টায় তাজহাট মোল্লাপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতর থেকে মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে রথীশের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিককে ঘটনাস্থলে নেওয়া হলে তিনি তার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, বালু খোঁড়াখুঁড়ি ও লাশ লুকানোর সঙ্গে জড়িত দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন সবুজ ইসলাম ও রোকনুজ্জামান। তাদের বাড়ি তাজহাট মোল্লাপাড়া এলাকায়।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা ২৬ মার্চ কামরুল মাস্টারের নির্দেশে ৩০০ টাকার বিনিময়ে মোল্লাপাড়ার নির্মাণাধীন ভবনের নিচে বালু খুঁড়ে রাখে। পরবর্তী সময়ে ৩০ মার্চ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ওই লাশ বালু দিয়ে গর্তে ঢেকে রাখে তারা। কামরুল মাস্টার তাদের শিক্ষক হওয়ায় তারা আদেশ পালন করেছে বলে জানায়।

বেনজির আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় রথিশের স্ত্রী দীপা ভৌমিক, তার কথিত প্রেমিক কামরুল এবং লাশ লুকিয়ে রাখার সঙ্গে জড়িত মোট ৪ জনকে এ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ সময় র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রংপুর রেঞ্জর ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক রথীশ জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি এবং মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: