প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

ধর্মীয় কাজে মাইক ব্যবহার নিয়ে ভাবতে হবে

কারেন্ট নিউজ বিডি   ৭ এপ্রিল ২০১৮, ২:৪৫:৪১

আহমদুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা, ০৭ এপ্রিলকারেন্ট নিউজ বিডি : ধর্মীয় কাজে মাইকের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এই ব্যবহার বাড়তে বাড়তে ব্যাপকতা লাভ করতে থাকায় সাধারণ জনগণের মাঝে অস্বস্তির পাশাপাশি প্রশ্ন দেখা দেয়া স্বাভাবিক।

মাত্র ৫৫ হাজার বর্গমাইলের দেশ। জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। এ রকম জনবহুল দেশে মাইকের ব্যবহার নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় কর্মকান্ডে মাইকের ব্যবহার নিয়ে। জনবহুল রাস্তায়, আবাসিক এলাকার ভিতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালের পাশ দিয়ে পুণ্যের নিয়তে যে হারে বিকট শব্দে মাইকের ব্যবহার হচ্ছে তা নিয়ে ভাবতেই হবে।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

সে সময় তথা ১৯৫০–৬০ এর দশকে বাংলা অগ্রহায়ণ মাসে ধান কাটার পর নতুন চাউল দিয়ে ঘরের আয় বরকতের নিয়তে মিলাদ মাহফিল, ওয়াজ মাহফিলের প্রচলন ছিল। সে সময় প্রতি গ্রামে বা ইউনিয়ন রাত্রে এক বা একাধিক ঘরে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হত। এতে এলাকার লোকজন যোগদান করতেন। সে সময়কার মাইক ছিল দুর্বল প্রকৃতির। মাইকের শব্দ ছিল অনেকটা সীমিত পরিসরে।

কিন্তু দেশে যে হারে দ্রুততার সাথে ধর্মীয় ব্যাপারে মাইকের ব্যবহার বেড়ে গেছে তা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বটেই আমরা মুসলমানরাও এ রকম বিকট শব্দ–দূষণ গ্রহণ করছে কি না আয়োজকদের তা চিন্তা করতেই হবে। কোন মাহফিলকে উদ্দেশ্য করে জনবহুল রাস্তায়, আবাসিক এলাকার ভেতর, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালতের পাশ দিয়ে যেভাবে বিকট শব্দে মাহফিলের প্রচারের ঘোষণা করা হচ্ছে তাতে মাহফিলের আয়োজকদের প্রতি শ্রোতাদের বিরক্তিভাব আসছে কিনা আয়োজকদের এ নিয়ে ভাবতে হবে।

উন্নত প্রযুক্তিতে একালে মাইকের শব্দ বহুগুণ বেড়ে গেছে। আগেকার আমলে জনসংখ্যা কম ছিল, মাইকের ব্যবহারও তেমন হত না। বর্তমানে ধর্মীয় মাহফিলের কয়েকদিন আগে থেকে যে হারে শহরের রাস্তাসমূহে মাইকের প্রচার হয় তাতে আয়োজকগণের প্রতি শ্রোতাদের শ্রদ্ধা থাকছে কিনা?

মাহফিলে মাইক লাগান তা গ্রহণযোগ্য। মাহফিলে উপস্থিতি দুই শ’ থেকে পাঁচ শ’ বা হাজার। মাহফিলের উপস্থিতি অনুপাতে মাইক ব্যবহার করেন। কিন্তু মাহফিল থেকে দূরবর্তী ২০/৩০ বা ৪০টি মাইক লাগিয়ে মানুষকে কষ্ট দেয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারও ঘরে রোগী, কারও ঘরে ছেলে–মেয়েরা লেখাপড়া করছে, কারও ঘরে ঘরোয়া পরিবেশে অতিথিরা রয়েছে এ সময় নিকট দূরত্ব থেকে সন্ধ্যা বা আরও পরে মাইকের বিকট আওয়াজ ঘরের মানুষজনকে অসহনীয় করে তোলে।

একালে কোন হলে বা হোটেল রেস্টুরেন্টে ধর্মীয় মাহফিলে গেলে মাইকের বিকট শব্দে বুক কাঁপতে শুরু করে। যা শরীরের জন্যও মারাত্মক। এও দেখা গেছে শ্রোতা মাইকের শব্দ ছোট করার জন্য বললেও শব্দ ছোট করা যাচ্ছে না। কানের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীর কতটুকু শব্দ সহ্য করতে পারে তারও একটি সীমা আছে। আমাদের দেশে এসব কিছুর নিয়মনীতি একদম নেই বললেই চলে।

শব্দ দূষণের মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট দেয়া কি ধরনের পুণ্যের কাজ তা বোধগম্য নয়। অনেক সময় এসব মাহফিল গভীর রাত পর্যন্তও চলে। আশপাশ এলাকার মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

ইসলাম ধর্ম মতে এশারের পর বিশ্রামে যাওয়া নিয়ম। বর্তমানকালে ধর্মীয় কর্মকান্ডে মানুষের মনমানসিকতা ও চিন্তা–চেতনায় অনেক অনেক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সী ছেলে যুবকেরা তরিক্বত, সুফিজম, মাজহাব থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আরও দূরে সরে যাচ্ছে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত বাদে ধর্মীয় অন্যান্য শাখা–প্রশাখা থেকেও যেগুলো আমরা অতি পুণ্যের নিয়তে করে থাকি। একালের সন্তানেরা মুরব্বিদের অতি ছওয়াবের নিয়তে ধর্মীয় শাখা প্রশাখা মানতে নারাজ। তারা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত তথা ধর্মের মূল বিষয়াদি নিয়েই থাকতে চায়। ধর্মপালনে এদের সংখ্যা কম বলা যাবে না। কাজেই আমাদেরকে শব্দ দূষণ করে বিকট আওয়াজে ধর্মের নামে অপ্রয়োজনীয় মাইকের ব্যবহার বন্ধ করা আবশ্যক বলে মনে করি। কারণ ছওয়াবের নিয়তে হোক বা নিজেদের প্রকাশ করার নিয়তে হোক অপ্রয়োজনীয় মাইকের ব্যবহার ছওয়াব বা সম্মান কোন কিছুই অনুকূলে আসবে বলে মনে হয় না।

মসজিদে মাইকের ব্যবহার : দেশে কয়েক লক্ষ মসজিদের মধ্যে শতকরা দুই একটি মসজিদও আছে বলে মনে হয় না যে মসজিদে মাইক নেই। এর মূল উদ্দেশ্য মসজিদের পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজনকে মসজিদে এসে জামাতে নামাজ পড়বার জন্য আহ্বান করা। তবে বড় বড় শহরের কিছু মসজিদে মুসল্লিদের অত্যধিক সমাগম হয় বিধায় একামত দিতে ইমাম সাহেব নামাজ পড়াতে মাইকের ব্যবহার করে থাকেন। সে লক্ষ্যে মসজিদের অভ্যন্তরেও মাইক তথা সাউন্ড বক্স লাগানো থাকে। দেশের বড় বড় মসজিদগুলোতে ইমাম সাহেবের নামাজ পড়াতে মাইকের ব্যবহার প্রয়োজন, শুধু প্রয়োজন নয় অপরিহার্য।

কিন্তু মসজিদকে কেন্দ্র করে কোন ওয়াজ মাহফিলে আজানের মাইক ব্যবহার করা যথাযথ হবে না। মসজিদের নিকটবর্তী দোকানপাট, ঘরবাড়িতে মানুষের সুবিধা অসুবিধা থাকতেই পারে। এতে আজানের মাইক ব্যবহার করে মানুষকে কষ্ট দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

আমাদের দেশে শিশুদের স্কুলগুলোতে ক্লাস চলে সকালবেলা। এতে অধিকাংশ শিশু ঘরে সন্ধ্যায় পড়ালেখা করতে বসে। রাত ৯টার দিকে ভাত খেয়ে ঘুমাতে যায়। এ সময় মসজিদে হোক বা বাইরে হোক মাইক ব্যবহার করতে হলে তা মাহফিলে উপস্থিত শ্রোতারা শুনতে পারে মত সীমিত রাখা উচিৎ।

বারে বারে উল্লেখ করছি আমাদের দেশ অতি ঘনবসতিপূর্ণ। মানুষের ব্যস্ত জীবন, ঘরে ছেলে–মেয়েরা পড়ালেখা করছে, ঘরে রোগব্যাধি নিয়ে মানুষ থাকে। অতএব অপ্রয়োজনে মাহফিলের বা নিজেদের প্রচার দেখানোর জন্য যথেচ্ছ মাইক ব্যবহার করে মানুষকে কষ্ট দেয়া কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। (সংগৃহীত)

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: