For Advertisement

600 X 120

সুবেহ–উত্তর সাগর পাড়ে চাটগাঁর এক মিষ্টি মেয়ে

৫ মার্চ ২০১৮, ৪:৫৯:১৪

সুবেহ। পুরো নাম সুবেহ সালসাবিল চৌধুরী। এ নামের একটি চমৎকার অর্থ আছে। তা হলো – ভোর বেলার বেহেস্তের ঝর্ণা। এমন নাম সচরাচর চোখে পড়ে না। যা কিছু দুর্লভ, কম তার প্রতি আমাদের একটি সহজাত আকর্ষণ থাকে। আর তাই প্রথম দেখায় মেয়েটিকে ভালো লাগে। ছোটখাটো গড়নের কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা আর আত্মপ্রত্যয়ী ভাব তাতে। এখন টের পাই ঠিক তার বাবার মত। হল্যান্ড এসেছে উচ্চতর পড়াশুনা করতে ২০১৭ সালে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে। যে মেয়েটি কখনো নিজ ঘরে পানি ঢেলে খায়নি সেই আদুরে মেয়েটি এখন নিজের খাবার নিজে তৈরী করে খায় আর পাঁচ দশটি সহপাঠিনীর মত যারা তার মত মা–বাবাকে ছেড়ে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছে উত্তর পাড়ের এই দেশ, হল্যান্ডে। যে শহরে পড়তে এসেছে তার নাম তিলবুর্গ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তিলবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়। হল্যান্ডের দক্ষিণে চমৎকার একটি ছোটখাট শহর। মাত্র দুই লক্ষ পনের হাজার জনগোষ্ঠী নিয়ে এই নগরী। এই নগরীর একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছে সুবেহ। তার সাথে দেখা তার হোস্টেলে। সেখান থেকে সে আমাদের নিয়ে যায় তার বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। যেতে যেতে কথা হয়। অল্পদিনেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে এই দেশের সাথে, পরিবেশের সাথে, আবহাওয়ার সাথে। আমাদের গায়ে মোটা ওভারকোট, তার গায়ে তেমন কিছু নেই। ঠান্ডা কেমন লাগছে জানতে চাইলে বলে, সয়ে গেছে। দিনের অনেকটা সময় কাটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে। বুঝতে পারি পড়াশুনাকে ধ্যান জেনেছে। এমনটি কেউ করলে ভালো লাগে। কেননা যে কাজটি নিজে করিনি বা করতে পারিনি আড্ডার কারণে সে কাজটি আর কাউকে করতে দেখলে ভালো লাগে।

মেয়েটি অর্থাৎ সুবেহ পড়াশুনায় সিরিয়াস বলেই হয়তো ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের, সহপাঠীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিতে যাবে কেন যা ফলাও করে ছবি সহ ছাপবেই বা কেন? বিভিন্ন হাত ঘুরে সেই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রতি আমার কাছে এসেছে। ইংরেজীতে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারটি পড়ে মুগ্ধ হয়েছি আর গর্ব বোধ করেছি। গর্ব বোধ করেছি এই কারণে চট্টগ্রামের একটি মেয়ে ইউরোপ এসে নিজ কৃতিত্বে একটি স্থান করে নিয়েছে। ইংরেজীতে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে স্বল্পভাষী সুবেহ ছোটকাল থেকে বিদেশে উচ্চতর পড়াশুনা করার স্বপ্ন, কেন সে উত্তর সাগর পাড়ের এই দেশটিকে বেছে নিলো, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার স্টাইল, শিক্ষার পরিবেশ, পড়াশুনার বাইরে অন্য কিছু করার সুযোগ রয়েছে কিনা ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে চমৎকার করে। তিলবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসার জন্যে বাংলাদেশের আগ্রহী ছাত্র–ছাত্রীদের জন্যে পরামর্শও দিয়েছে সুবেহ। সুবেহর মতে, তিলবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশী ছাত্র–ছাত্রীদের জন্যে নানা দিক থেকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সে বলে, ‘পলিটিক্স, অর্থনীতি কিংবা ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস নিয়ে পড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে ইন্টারন্যাশনাল সোসিওলজি নিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেই। আমার বিশ্বাস ভালো করতে পারলে অনেক দূর যেতে পারবো, বাদবাকী উপরওয়ালা।’ আত্মপ্রত্যয়ি এই মিষ্টি মেয়েটি আমাদের ঘুরে ঘুরে দেখালো তার বিশ্ববিদ্যালয়। গিয়েছিলাম তার হোস্টেলে। চমৎকার পরিবেশে গড়ে উঠা এই বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যে ঠান্ডা আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিয়েছে নিজেকে। তার হোস্টেল থেকে গাড়ী পথে সে আমাদের নিয়ে যায় তার ইউনিভার্সিটি দেখাতে। পথে নানা আলাপ। জানতে চাওয়া হয়, তোমার বাবা তো অনেক অর্থের মালিক। তুমি চাইলেই তো আমেরিকা, কানাডা পড়তে পারতে, হল্যান্ড কেন বেছে নিলে? ‘আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে হল্যান্ড সম্পর্কে শোনার পর আমার আগ্রহ বাড়ে। ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রদের জন্যে হল্যান্ড একটি আদর্শ দেশ। এখানে অনেক সুযোগ সুবিধা, টিউশন ফি সহনীয় পর্যায়ে, নিরাপদভাবে চলাফেরা করা যায়। এ ছাড়া এই দেশটি পৃথিবীর অন্যতম সুখী দেশ। এই সব কিছু মিলেই এই দেশটি আমাকে আকর্ষণ করে।’ দেশে এবং বিদেশে পড়াশুনার পার্থক্য তো আছে। এই দুয়ে কী ধরণের পার্থক্য ধরা পরে এই প্রশ্নের উত্তরে সুবেহ জানায়, এখানে আমাদের অবাধ স্বাধীনতা, যা নিজেকে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। দেশে তো আমরা অনেক কিছুর উপর নির্ভরশীল, যা আমাদের মেধা, নিজস্ব স্বকীয়তা বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিদেশে সব সিদ্ধান্ত আমার, আমাদের বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, এই ধরনের ব্যবস্থায় একজন হয়ে উঠে দায়িত্ববান ও স্বাবলম্বী।’

 

For Advertisement

600 X 120

সুবেহর মা–বাবার সাথে আগে পরিচয় ছিলনা। বলা যেতে পারে মেয়ে পরিচয়ের সূত্র। কিছু কিছু মানুষ আছে যারা সহজে পরকে আপন করে নিতে পারে অতি অল্প সময়ে। এখন তো মনে হয় সুবেহর মা–বাবার সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। বন্ধুত্বের মাপকাঠি কি আর সময় দিয়ে বিচার করা যায়? যায় না। সুবেহর বাবা চট্টগ্রামে অতি পরিচিতি একটি নাম। তাকে দেখে, পরিচয় পেয়ে, আলাপে অংক মেলে–মনে মনে বলি, বাপকা বেটি। সুবেহর বাবা বিশিষ্ট সমাজকর্মী ড. সেলিম আকতার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান, এলিট ক্লাব হিসাবে পরিচিত, সিনিয়র্স ক্লাবের’ প্রেসিডেন্ট। এর বাইরে তার রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টতা। সুবেহর আর একটি বড় পরিচয় আছে। সেটি সে নিজ মুখে বলেনি বটে। চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর নাতনী সে। তিলবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে চা খেতে খেতে সুবেহর সাথে অনেক আলাপ হয়। তার দাদুকে নিয়ে। তখন তিনি চিকিৎসার কারণে বিদেশে, সাথে তার (সুবেহ) বাবা। তাদের দাদু তাদের সাথে মেজাজ নিয়ে কথা বলেন কিনা, নাকি সব সময় মেজাজ নিয়ে কথা বলতেন, কিংবা ঠাণ্ডা মাথায় আদর করেন কিনা এমনতরো প্রশ্নও ছিল তার কাছে। সে নিয়ে লিখবো আর এক সংখ্যায়।

লেখক: হল্যান্ড প্রবাসী
(সংগৃহীত)

 

For Advertisement

600 X 120

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: