প্রচ্ছদ / রংপুর / বিস্তারিত
 

For Advertisement

600 X 120

রাণীশংকৈলে কেচোঁ সার উৎপাদনে নারীরাও এগিয়ে

৯ এপ্রিল ২০১৮, ৯:৩০:২১
ঢাকা, ০৯ এপ্রিল, কারেন্ট নিউজ বিডি : ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় কৃষকদের বাড়ীতে উৎপাদন করা হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট(কেচোঁ সার)। এ সার সব ধরনের ফসল উৎপাদনে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ এ প্রতিনিধি কে বলেন কেচো সার এ উপজেলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ।

কৃষকরা উৎপাদন করতে পারছেন রাসায়নিক সারের তুলনামুলক কম ব্যবহারে। কৃষি অফিসের আন্তরিক উদ্যোগে কৃষকরা বাসা বাড়ীতে কেচো উৎপাদন হচ্ছে। কৃষকের সহধর্মীদের প্রশিক্ষন দিয়ে কেচো সার উৎপাদনে উদ্যোগী করে তুলছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সার্বিক তত্বাবধানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।

আমাদের দেশে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাযু চলাচল বাড়াতে মাটিতে পাচ ভাগ জৈব পদার্থ থাকার প্রয়োজন রয়েছে। কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণায় দেশের মাটিতে রয়েছে ১ দশমিক ৮ থেকে ২ ভাগ। এ কারনে মাটিতে জৈব পদার্থ প্রয়োজনুসারে বাড়াতে পচা আর্বজনা সবুজ সারের ভুমিকা তুলনায় ভার্মি কম্পোস্ট সারের ভুমিকা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ । বাসা বাড়ীর গবাদি পশুর বর্জ্য ফলমুলের খোসা উদ্ভিদের লতাপাতা পশুপাখির নাড়িভুড়ি হাস মুরগীর বিষ্টা খড়কুটো ছোট ছোট করে কেটে কেচো থাকার পাত্রে দিলে কেচো এগুলো খেয়ে যে বিষ্টা হয়। সে বৃষ্টা গুলোই সার হিসেবে ব্যবহার হয়। উৎপাদিত সার সব ফসলের আবাদে ব্যবহার করা যায়। আর এ সার পারিবারিকভাবে উৎপাদনে নারীরা ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

 

For Advertisement

600 X 120

উপজেলা জুড়ে সরকারি রাজস্ব অর্থায়ানে রয়েছে মাত্র ২০টি তবে এর অধিক চাহিদা হওয়ায় রাজস্ব ভাবে কোন সুযোগ না পেয়ে কৃষকদের আগ্রহে কেচো সার উৎপাদনের উদ্যোগটি সর্ম্পূণ ব্যক্তিগতভাবে উপজেলা কৃষি কর্মকতা সঞ্জয় দেব নাথ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারনের আওতায় কৃষকদের বিনা খরচে সার উৎপাদনের লক্ষে কেচো যোগাড় করে দেওয়া নারীদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা সহ সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন। আর এ কারনে কৃষকরা রাসায়নিক সার কীটনাশকের ব্যবহার তুলনামুলক কমিয়ে অতিরিক্ত খরচ বাচিয়ে ফসল উৎপাদন করে তা বাজারে বিক্রি করে বেশি টাকা উপার্জন করছেন।

উপজেলার ৩নং হোসেনগাও ইউপি’র রাউতনগর ব্লকে গত শনিবার সরজমিনে দেখা যায়, তিন জন নারী মাটিতে স্থাপিত সিমেন্টের রিংয়ে উৎপাদিত কেচো সার ঝাড়াই করছেন পাশ থেকে বসেই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন সার্বিক বিষয় তদারকি করছেন। উৎপাদনকৃত সার ঝাড়াই করা তিন নারী রহিমা খাতুন, হোসনে আরা ও অর্নাস পড়–য়া সাবরিন আক্তার। এদের মধ্যে রহিমা খাতুনের সাথে কথা হলে তিনি কেচো সারের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, অর্নাস পড়–য়া সাবরিন আক্তার আমার মেয়ে আমি নিজে আগে কৃষি অফিসের মাধ্যমে নিজ উদ্যোগে প্রশিক্ষন নিয়েছি। আমার মেয়েকে আমি প্রশিক্ষন দিয়ে আমরা মা মেয়ে মিলে এখন ওর বাবার কৃষি আবাদে অজৈব সারের খরচ বাচাতে জৈব সারের জন্য কেচো সার উৎপাদন করছি।

তিনি আরো বলেন এ সার ব্যবহারে যেমন রাসায়নিক সার তেমন প্রয়োজন পড়ে না অন্যদিকে কীটনাশকমুক্ত ফসল উৎপাদন করা চাই। বেচে যায় রাসায়নিক ও কীটনাশক সার কেনার অর্থ। আর এমন সুবিধার কারনে ব্যাপকভাবে কেচো সার উৎপাদনের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। তবে বাধ সেজেছে অন্যান্য উপজেলায় রাজস্ব অর্থায়নে কিংবা কোন প্রকল্পের মাধ্যমে কেচো উৎপাদনে সহযোগিতা করা হলেও রাণীশংকৈল উপজেলায় তেমন করা হচ্ছে না। তাই অনেক কৃষক ইচ্ছা থাকা সত্বেও কেচো সার উৎপাদন করতে পারছে না। কৃষকদের দাবী এ উপজেলায় যেন কেচো সার উৎপাদনে সরকারী কোন উদ্যোগ নেওয়া হয় কৃষকদের স্বার্থে।

উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভার্মি কম্পোস্টে(কেচো সার) মাটির পানি ধারণ করার ক্ষমতা ও মাটি নরম করার ক্ষমতা রয়েছে। এতে আছে ১ দশমিক ২৬ ভাগ বোরন, ৮৮ দমশিক ৩২ ভাগ জৈব পদাথর্, ১ দশমিক ৫৭ ভাগ নাইট্রোজেন । ভার্মি কম্পোষ্ট ব্যবহার করলে চাষাবাদে খরচ খুব কম হয়। উৎপাদিত ফসল হয় অত্যন্ত সু-স্বাদু ও আকর্ষনীয়। ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামুলক বৃদ্বি পায়। ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করতে গভীর মাটিতে যে ছাই রঙের কেচো সচরাচর পাওয়া যায় সেগুলো না নিয়ে বরং মাটির ওপর স্তরে থাকা লাল বর্ণের কেচো উৎপাদনশীল।

তাছাড়াও সার উৎপাদনের ক্ষেত্রে আলাদা জাতের কেচো পাওয়া যায়। কেচো উৎপাদনের জন্য প্রথমে কোমর পরিমাণ গভীর গর্ত ঘুরে তাতে দুটি সিমেন্টের তৈরী শক্ত রিং বসিয়ে গর্তের তলায় শুকনো ঝরা মাটি দিয়ে কিছু অংশ ভরে দিতে হয়। তার ওপর বিছাতে হয় খড়কুটু ঝুরা মাটি পচা আর্বজনা আবার ঝুরা মাটি দিতে হবে। তারপর মুরগীর বিষ্টা গবাদিপশুর বজ্য। ঝড় বাতাসের হাত থেকে বাচাতে দিতে হবে ছাউনি। এভাবে ৩ মাস রেখে দেওয়ার পর উৎপাদন হবে কেচো সার। এছাড়াও অন্যভাবেও এ সার উৎপাদন করা যায়।

যেমন ছায়াযুক্ত স্থানে পলিথিন ব্যাগে আর্বজনা রেখে দিতে হয়,যাতে আর্বজনা পচতে পারে। সপ্তাহ পর পলিথিন বিছিয়ে দুইটি রিং স্লাব পরপর সাজিয়ে তার ভেতর পচা এ আবর্জনা দ্বিগুন পরিমান গোবরের সাথে মিশিয়ে রেখে দিতে হয়। ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে ফসলের গুণাগুন বৃদ্বি পায়। তুলনামুলক উৎকৃষ্ট ও বড় আকারের ফল বা সবজি পাওয়া যায়। পানির ধারন ক্ষমতা বাড়ায় ফলে কেচো সার ব্যবহারে সেচের পানি কম লাগে। ক্ষারীয় লবণযুক্ত মাটিতেও আবাদ সম্ভব। জমিতে আগাছা তুলনামুলক কম হয়। রোগ পোকামাকড় কম হয়। ফসলের বীজ অস্কুরোদগম ক্ষমতা বাড়ে। অধিক দানা ও কুশি তৈরি হয় উন্নত হয় মাটির বুনট। রাসায়নিক সারের চেয়ে খরচ অনেক কম। পরিবেশ থাকে দুষণমুক্ত। গাছের অত্যাবশকীয় ১৬টি খাদ্য উপাদানের বেশিরভাগ বিদ্যমান।

তাছাড়াও গাছের অত্যাবশকীয় হরমোন ও এনজাইম রয়েছে যা গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ উপজেলা জুড়ে কেচো সার উৎপাদনে নারীদের আগ্রহের প্রশংসা করে বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট সার ধানের জমিতে অনেক উপকারী সার। এছাড়াও বৃষ্টি নির্ভর মুগ ছোলা সরিষা এসব কম পুষ্টি চাহিদা সম্পন্ন ফসলে রাসায়নিক সার বাদেই একর প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ কেজি কম্পোষ্ট সার ব্যবহার করে ভাল ফলন পাওয়া যায়।

 

For Advertisement

600 X 120

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: