For Advertisement

450 X 120

For Advertisement

450 X 120

প্রচ্ছদ / আইন-অপরাধ / বিস্তারিত

চার বছর মর্গে থাকা লাশ ইসলাম ধর্মমতে সৎকার করবেন শ্বশুর

১৩ এপ্রিল ২০১৮, ৩:০২:৪৬

ঢাকা, ১৩ এপ্রিলকারেন্ট নিউজ বিডি : নীলফামারীর ডোমারে ঘটেছিল করুণ সমাপ্তি হয়েছিল তাদের প্রেমের চার বছর আগে আত্মহত্যা করার পর থেকে হিমঘরেই আছে লিপা রাণী থেকে ধর্মান্তরিত হওয়া হোসনে আরার মরদেহ। কোন্ ধর্মমতে তার লাশের সৎকার হবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল বাবা এবং শ্বশুর এই দুই পরিবারে।

কেউই ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না। এই বিরোধের জের ধরে চার বছর হিমঘরে কাটানোর পর মেয়েটির লাশ ইসলাম ধর্মমতে দাফনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Ads By Google

মেয়েটির বাবার পক্ষের আইনজীবী সমীর মজুমদার বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, হাইকোর্ট বেঞ্চ ঘোষিত রায়ে বলা হয়েছে, রায়ের কপি পৌঁছানোর তিনদিনের মধ্যে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে।

আর সেটি করতে হবে ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে। একই সঙ্গে মেয়ের বাবা ও তার পরিবারকে শেষবারের মত মরদেহ দেখার এবং সম্মান জানানোর সুযোগ দেবারও আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

২০১৩ সালের অক্টোবরে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার লিপা রাণী এবং পাশের গ্রামের হুমায়ন ফরিদ লাইজু পালিয়ে বিয়ে করে। মেয়েটি সে সময় ধর্মান্তরিত হয়। কিন্তু মেয়ের বাবা ছেলেটি এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করে।

কিন্তু সেসময় স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ের কাগজপত্রসহ আদালতে হাজির করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন লিপা এবং লাইজু দুইজন। এরপর আদালত অপহরণ মামলাটি খারিজ করে দেয়।

এরপর মেয়ের বাবা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক দাবি করে আপিল করে। তখন আদালত আবেদন আমলে নিয়ে মেয়েটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী সেফ হোমে পাঠিয়ে দেয়।

এ পর্যায়ে ২০১৪ সালের ১৫ই জানুয়ারি লাইজু বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। তিন মাস পরে ২০১৪ সালের ১০ই মার্চ আত্মহত্যা করে মেয়েটিও।

লাইজুর বাবা ও মেয়েটির শ্বশুর জহুরুল ইসলাম বলেছেন, এরপরই তিনি আদালতে আর্জি জানান, মেয়েটি লাশের সৎকার ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী করার অধিকার চান তিনি।

যেহেতু মেয়েটি তার পুত্রবধূ, এবং সে বিয়ের সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। কিন্তু মেয়ের বাবা হিন্দু শাস্ত্র মতে সৎকারের জন্য আদালতে আবেদন করেন।

এই বিরোধে চার বছরের বেশি সময় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিলেন লিপা। জহুরুল ইসলাম বলেছেন, ছেলের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন।

এখন রায়ের কপি হাতে পাবার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক মেয়েটিকে দাফনের ব্যবস্থা করবেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: