প্রচ্ছদ / সাজ-ফ্যাশন / বিস্তারিত
 

For Advertisement

600 X 120

কেমন হবে বৈশাখী ফ্যাশন

১৩ এপ্রিল ২০১৮, ৪:৩৩:৩৭

ঢাকা, ১৩ এপ্রিলকারেন্ট নিউজ বিডি : বাঙালির জীবনে উৎসবের অন্ত নেই। আর উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো পোশাক। ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন ইত্যাদি উৎসবের পোশাকে বৈচিত্র্যময় রঙের ব্যবহার করা হয়।

প্রধানত উৎসবের পোশাকে উজ্জ্বল রঙের উপস্থিতি লক্ষ করা গেলেও কিছু কিছু উৎসবের পোশাকে দেখা যায় বিশেষ বিশেষ রঙের উপস্থিতি। যেমন পহেলা ফাল্গুনে সবার পরনে দেখা যায় হলুদ ও বাসন্তি রঙের পোশাক। একুশে ফেব্রুয়ারির পোশাকে ব্যবহৃত হয় সাদা-কালো রঙ । স্বাধীনতা দিবসের পোশাকে দেখা যায় লাল-সবুজ রঙের আধিপত্য। কেউ কেউ পতাকার ডিজাইনও তুলে ধরছেন পোশাকে। বিশেষ করে শাড়ি ও টি-শার্টে।

 

For Advertisement

600 X 120

বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। পহেলা বৈশাখে সবাই মেতে ওঠে আনন্দ উৎসবে। বৈশাখের পোশাক মানেই যেন সাদা-লাল রঙের পোশাক। আজকাল অবশ্য এই দুটো রঙের সঙ্গে কমলা, হলুদ, নীল ও অন্যান্য রঙও ব্যবহার করা হচ্ছে বৈশাখের পোশাকে। তবে কেন্দ্রীয় রঙ লাল-সাদাই রাখা হয়। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূল, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, চারুকলাসহ বৈশাখের সব অনুষ্ঠানে দেখা যায় লাল-সাদা শাড়ির বাহার। চুড়ি, টিপ, গহনা, লিপস্টিক এমনকি জুতা, ব্যাগও হয়ে থাকে লাল-সাদা রঙের।

ডিজাইনার বিবি রাসেল বলেন, ‘বৈশাখের সঙ্গে এই রঙ দুটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একসময় বৈশাখে মেয়েরা শুধু টকটকে লাল পাড় প্লেইন সাদা শাড়ি পরতো। তখন এটাই ছিল বৈশাখের ফ্যাশন। এখন বৈচিত্র্য আনার জন্য অন্যান্য রঙও যোগ করা হচ্ছে। তবে মূল প্রাধান্য লাল-সাদাই পেয়ে থাকে। লাল-সাদা শাড়ির সঙ্গে লাল টিপ, পায়ে আলতা, গহনার ফলে যে কারো লুক বদলে যায়। বাঙালিয়ানা ফুটে ওঠে। মুল কথা হলো যতো দিন যাবে এই রঙ নতুন মাত্রায় ব্যবহৃত হবে বৈশাখের পোশাকে। শাড়িতে এখন জমিদার বাড়ির মোটিভ,শম্ভু বা গাজির পটচিত্র, মুখোশের মোটিফ বা ফ্লোরাল মোটিভ প্রাধান্য পাচ্ছে। সেই সঙ্গে থান শাড়িতে ব্লুক, বাটিক, স্ক্রিনপ্রিন্ট বা কাজ করা শাড়িও এ সময় বেশ চলছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেল, বরাবরের মতো এবারও দেশীয় বিভিন্ন মোটিফে পোশাক তৈরি করা হয়েছে। হাতের কাজ, নকশিকাঁথার কাজ, ফুল, পাখি ঐতিহ্যবাহী নকশার হ্যান্ডপেইন্টের চাহিদা বেশি।

বৈশাখের শাড়ি কেনার জন্য বাজেটটা অনেক হতে হবে তা নয়। বরং সুন্দর ঐতিহ্যবাহী নকশায় বোনা শাড়ি কিনতে পাওয়া যাবে ফ্যাশন হাউসগুলোতে। এসব শাড়িতে বুননের পাশাপাশি থাকে খানিকটা বাড়তি যোগ। পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে দেখা গেছে মোঘল পোশাকের ক্যাটিং বা সেমি ফিট পাঞ্জাবি বেশি চলছে এবার।

আমাদের দেশীয় বুটিকস গুলো প্রতি বছর বৈশাখে এই রঙ দুটো নিয়ে কাজ করলেও সঙ্গে কাপড়ের ও ডিজাইনের বৈচিত্রময়তাও থাকছে পুরোপুরি। তার মানে এই রঙ দুটোর প্রতি একটা আলাদা টান অনুভব করে সবাই। ইদানিং কিছু বুটিক’স অবশ্য বিশেষ পোশাক নিয়ে ভেরিয়েশন আনছে, কেউবা পাঞ্জাবির কাটিংয়ে ধুতির আদল আনছে, কেউবা কাজ করছে ফিউশন নিয়ে। তবে সবাই আমাদের দেশীয় ঐত্যিহ প্রকাশ পায় তেমন কাজই পোশাকের ক্যানভাসে ফুঁটিয়ে তুলছে।

আমাদের জীবনে বৈশাখ প্রতি বছর আসবে। প্রতি বছর এই দিনে বাঙালি মেতে উঠবে বর্ষবরণের আনন্দে। এই আনন্দ উৎসবে এই দুটো রঙ হয়ে উঠবে বৈশাখী ফ্যাশনের প্রতীক।

 

For Advertisement

600 X 120

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: