প্রচ্ছদ / আইন-অপরাধ / বিস্তারিত
 

For Advertisement

600 X 120

পরকীয়া: ছেলেকে পুড়িয়ে হত্যা করলো মা

১৩ এপ্রিল ২০১৮, ২:১৮:৪২

ঢাকা, ১৩ এপ্রিলকারেন্ট নিউজ বিডি : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের বাড়ৈপাড়া এলাকায় অনৈতিক সম্পর্কে বাঁধা হওয়ায় হৃদয় (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে মা শেফালী। মায়ের দেওয়া আগুনে একই সময় জিহাদ (৫) নামে অপর শিশু সন্তানও ঝলসে গেছে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের র্বান ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবার ভোরে ওই দুই শিশুর মা নিজেই তাদের গায়ে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে স্থানীয় ৩৫ নং বাড়ৈপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং প্রবাসি আনোয়ারের ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। মা শেফালীকে আটক করেছে পুলিশ। শেফালী ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইসলামপুর এলাকার সুন্দর আলীর মেয়ে।

৩৫ নং বাড়ৈপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বাড়ৈপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীন জানান, নিহত হৃদয় ৩৫নং বাড়ৈপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। প্রায় ১১ বছর আগে শেফালীর সাথে স্থানীয় বিল্লাল টৈইলারের ছেলে আনোয়ার হোসেনের বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরেই আনোয়ার হোসেন মালয়েশিয়া প্রবাসি। উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া এলাকায়গ শ্বশুরবাড়িতেই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন শেফালী। এরই মধ্যে স্থানীয় বিল্লালের ছেলে মোমনের সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে তাকে ডির্ভোস দেয় আনোয়ার। কিন্তু দুই সন্তান নিয়ে সে ওই বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। ঘটনার দিন রাতে মোমেন তার ঘরে অবস্থান করছিল। মায়ের সাথে অন্যপুরুষের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলায় দুই সন্তানেকে ঘুমের বড়ি সেবন করিয়ে দেয়া হয়। ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এসময় ঘটনাস্থলেই হৃদয় মারা যায়। অপর সন্তান জিহাদও ঝলসে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ( ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

For Advertisement

600 X 120

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার শ্রী উত্তম জানান, শিশু জিহাদের এক হাত ও দুপাঁ ঝলসে গেছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় এক যুবক জানান, মোমেনের সাথে শেফালীর দীর্ঘদিন ধরেই অনৈতিক সম্পর্কের কারনে তার প্রবাসী স্বামী তাকে ডির্ভোস দিয়ে দেন। কিন্তু এর পরও সে সন্তানদের নিয়ে এখানেই বসবাস করতে থাকেন। ঘটনার দিন রাতে মোমেন তার ঘরেই ছিল।

আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক বলেন, ঘটনাস্থল থেকে শিশু হৃদয়ের পুড়িয়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ও র্বান হওয়া শিশু জিহাদকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মা শেফালীকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

 

For Advertisement

600 X 120

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: