প্রচ্ছদ / অর্থনীতি / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

খেলাপি ঋণ বাড়ছেই, আদায়ের হার তলানিতে

কারেন্ট নিউজ বিডি   ৩ অক্টোবর ২০১৮, ২:৩৬:২৯

দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বাড়ঝেই। পাহাড় সমান খেলাপি ঋণে জর্জরিত ব্যাংকগুলো। খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও কাজে লাগছে না। অনিয়ম, দুর্নীতি আর রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দিচ্ছে সরকারি ব্যাংকগুলো। আর বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকরা নিজেদের মধ্যে ঋণ আদান-প্রদান করছেন। পাশাপাশি ঋণ বিতরণে অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা এবং যাচাই-বাছাই না করেই দেয়া হচ্ছে ঋণ।সবমিলিয়ে লাগামহীনভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা; যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

প্রাপ্ত তথ্যঅনুযায়ী, জুন প্রান্তিক শেষে ৫৭টি ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ। ওই সময় মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৩১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৮০ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেকই রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিকের। অবশ্য কিছুটা কমেছে আগের প্রান্তিকের তুলনায়। জুন শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই সময় ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণ ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা। মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৪৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ২৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ সময় ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। হিসাব বলছে, তিন মাসের ব্যবধানে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৮০০ কোটি টাকা কমেছে।

গত ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।

বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ২৪১ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ২১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এই সময় তাদের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।

অন্যদিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর। জুন শেষে ৪০টি বেসরকারি ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৩৮ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৬ দশমিক ০১ শতাংশ। গত মার্চে বেসরকারি খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৩৭ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৬ শতাংশ। ওই সময়ে মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৬ লাখ ২১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি ৪০টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৯ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে ঋণ বিতরণ করে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।

দেশে পরিচালিত ৯টি বিদেশি মালিকানার ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। জুন শেষে তাদের মোট ঋণ ৩৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ ২ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। মার্চ শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৭ দশমিক শূন্য এক শতাংশ। মোট ঋণের পরিমাণ ৩১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে ২ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ছিল, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ছিল ওই সময় ৩০ হাজার ৬২২ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে তার বেশির ভাগই আমানতকারীদের অর্থ। আমানতকারীদের অর্থ যেন কোনো প্রকার ঝুঁকির মুখে না পড়ে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা বিধি-নিষেধ আরোপ আছে। এর একটি হলো- প্রভিশন সংরক্ষণ। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণিকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়।

খেলাপি ঋণ না কমার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঋণ আদায়ে গাফিলতির কারণেই খেলাপি ঋণ কমছে না বলে মনে করেন ।খেলাপির বিরুদ্ধে সমন্বিত যে ধরনের উদ্যোগ দরকার ছিল তা দৃশ্যমান হচ্ছে না। এ কারণে খেলাপি ঋণ কমছে না। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে খেলাপি ঋণ কমছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগামীতে নির্বাচনকেন্দ্রিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে খেলাপি ঋণ আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে রয়েছে।

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: