প্রচ্ছদ / ভ্রমন / বিস্তারিত

ঘুরে আসুন আনন্দ নগরী খ্যাত কলকাতা

৫ অক্টোবর ২০১৮, ৫:০৮:০৬

মহিনের ঘোড়াগুলি যেমন গেয়ে গেছেন, ‘…স্মৃতির ভিতর ট্রামের ধ্বনি বিবাগী সুর গড়ে….’’, কলকাতা যেন ঠিক তেমনি। চার অক্ষরের নামটা মনে আসলেই ভেসে ওঠে টানা রিক্সা, ট্রামের শব্দ কিংবা হলদে ট্যাক্সি। দীর্ঘ দিনের পথচলায় এই শহরটা হয়ে যেন হয়ে উঠেছে একটা বিশেষ ঐতিহ্যের ধারক। বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই কলকাতা যেন শুধু একটা শহরই না, একটা জীবনধারা, একটা আবেগ যা প্রায় জীবন্তই বলা চলে!

কলকাতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস : সংক্ষিপ্ত বললেও কলকাতার ইতিহাস আসলে অনেক বিস্তারিত। শুরু হয় সেই ১৬৯০ সালে যখন তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এজেন্ট জব চারনক অনেক চিন্তা ভাবনার পর এই এলাকাটিকে তাদের ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু বানানোর কথা ভাবেন। এ লক্ষ্যে সুতানুটি, গোবিন্দপুর এবং কালিকাটা নামে তিনটি গ্রাম তাঁরা কিনে নেন স্থানীয় জমিদারদের কাছ থেকে।

মুঘলরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ব্যাবসা করার স্বাধীনতা দেন বাৎসরিক ৩০০০ রুপির বিনিময়ে। এরপর ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলকাতা দখল করে নেন। কিন্তু বেশিদিন তিনি তা ধরে রাখতে পারেননি। ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের পর লর্ড ক্লাইভ কলকাতার দখল নিয়ে নেন। ১৭৭২ সালে কলকাতাকে ভারতবর্ষের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেষ্টীং সকল গুরুত্বপূর্ণ অফিস মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তর করেন। তখন থেকেই সমগ্র ভারতবর্ষে কলকাতার গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। পরবর্তী প্রায় ১৩৯ বছর ভারতবর্ষের রাজধানী হিসেবে কলকাতা থেকে যায়।

প্রিয় পাঠক আশা করি বুঝতেই পারছেন যে বর্তমান ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ, এই তিনের রাজধানী ছিল কলকাতা। তাই এর গুরুত্ব সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতা ও গুরুত্তের শীর্ষে অবস্থান করেছে এই শহর। হয়েছে অনেক ঘটনারই সাক্ষী। “আনন্দ নগরী” নামে পরিচিত কলকাতা- মাদার টেরেজা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায় এবং সুভাষ চন্দ্র বোস এবং আরও অনেক বিখ্যাত ব্যাক্তির পদচারনায় মুখরিত হয়েছে। কালজয়ী এই শহর ধীরে ধীরে পরিনত হয়েছে বাংলা সংস্কৃতির বিশিষ্ট প্রতিনিধি হিসেবে। এই শহর যদি ভ্রমণ না করা হয়, বাঙ্গালি হিসেবে আপনার জীবন কিছুটা না, অনেকটাই অপূর্ণ থেকে যাবে।

কখন বেড়াতে যাবেন কলকাতা : কলকাতা না গেলেও এর আবহাওয়া সম্পর্কে অনেকেই ধারণা করতে পারেন এ ভৌগলিক অবস্থান থেকে। কলকাতার আবহাওয়া বেশ গরমই বলা চলে। এখানে প্রধানত তিনটি ঋতু বিরাজ করে – গ্রীষ্ম, বর্ষা এবং শীত। গ্রীষ্ম কাল শুরু হয় এপ্রিল এবং শেষ হয় জুন মাসে। গরমে তাপমাত্রা প্রায় ৩৫-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর কাছাকাছি চলে যায়। তাই এ সময়ে ভ্রমণ করাটা বেশ কঠিনই হয়ে যায়। তাই এই ঋতু এড়িয়ে চলাই ভাল। কলকাতা ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভাল সময় হল বর্ষাকাল (জুলাই – সেপ্টেম্বর) এবং শীতকাল (অক্টোবর – ফেব্রুয়ারি)। বর্ষাকালে তাপমাত্রা থাকে ২০-২৫ ডিগ্রি যা খুবই আরামদায়ক। শীতকালে তাপমাত্রা নেমে যায় ৯-১১ ডিগ্রিতে। তারমানে একেবারে হাড় কাঁপানো শীতও পরবে না। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে গেলে বেশ আরামদায়ক পরিবেশেই কলকাতা ভ্রমণ করতে পারবেন।

কলকাতা ভ্রমণ : দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে গেলে সবার আগে যে বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার সেটা হচ্ছে বৈধ পাসপোর্ট। ঝামেলা এড়াতে আগে থেকেই পাসপোর্ট করে রাখা ভাল। আপনার যদি পাসপোর্ট না করা থাকে তাহলে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দেশনা অনুসরণ করুন:  http://www.passport.gov.bd/

পাসপোর্টে কমপক্ষে ৩-৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে এবং ভিসার জন্য পাসপোর্টের কমপক্ষে দুই পেইজ খালি থাকতে হবে।

অনলাইনে ই-টোকেনের আবেদন করতে হলে এই লিংক ভিজিট করুন : http://indianvisa-bangladesh.nic.in/visa/

ভিসার জন্যও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র :

পাসপোর্ট এবং পাসপোর্টের ফটোকপি।

ই-টোকেন এবং ই-টোকেনের ফটোকপি।

অফিস প্যাডে কভার লেটার এবং ভিজিটিং কার্ড

সদ্য তোলা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের এককপি ফটো।

ডলার এন্ড্রোসমেন্ট অথবা ব্যাংক স্টেটম্যান্ট ।

টেলিফোন বিল অথবা ইলেক্ট্রিক বিলের ফটোকপি।

ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি।

ব্যাংকের কোনো কার্ড থাকলে ফটোকপি দিতে পারেন (যদি থাকে)।

ভিসা ফি হিসেবে খরচ হবে মাত্র ৬০০/- টাকা।

কিভাবে যাবেন কলকাতা : প্রতিবেশী দেশের শহর; ঢাকা থেকে দূরত্ব বলতে গেলে ৩০০ কিলোমিটারের কিছু বেশী। তাই বিভিন্নভাবেই যাওয়া যায়। যদি একটু আরামের সাথে ভ্রমণ করতে চান তাহলে বিমানে যেতে পারেন। ঢাকা থেকে কলকাতা রুটটি অনেক ব্যাস্ত একটি রুট। প্রতিদিন প্রচুর লোক যাওয়া আসা করে থাকেন। তাই ফ্লাইটের সংখ্যাও বেশী আবার প্রতিযোগিতাও বেশী। ভাল হয় যদি আপনি যাত্রার বেশ আগে থেকেই টিকিট বুকিং করে রাখেন। তাতে খরচ কিছু কম ও হতে পারে।

ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে পারবেন বাংলাদেশ বিমান, স্পাইস জেট, এয়ার ইন্ডিয়া অথবা জেট এয়ারওয়েজ এ। এছাড়া দেশী বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে আছে রিজেনট এয়ারওয়েজ, নভো এয়ার, ইউ এস বাংলা ইত্যাদি। এই বিমানগুলোতে কলকাতা গেলে খরচ অপেক্ষাকৃত কম হবে (বাংলাদেশী টাকায় ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা)। এছাড়া আরও বিমান সংস্থা যেমন থাই এয়ার, শ্রীলংকান এয়ারলাইন্স, চায়না ইস্টার্ন, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ইত্যাদিতেও কলকাতা যেতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে একটু বেশী টাকা গুনতে হবে আপনাকে।

এছাড়া শ্যামলী বাস একেবারে কোলকাতা পর্যন্ত দিয়ে আসবে আপনাকে ঢাকা থেকে । এসি বাস ৪০০০ টাকা রিটার্ণ সহ এবং এটায় আপনি বেনাপোল থেকে কোলকাতার মারকুইস স্ট্রিট পর্যন্ত যেতে পারবেন । এবং বর্ডারে আপনার পোর্টার কস্ট এবং কাগজ পত্রের কাজ ও এরা করে দেবে। ননএসি ১৪০০ টাকা । প্লাস বর্ডার থেকে ১৫০ রুপি কোলকাতা পর্যন্ত শ্যামলি বাস। এছাড়া আপনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও খুলনা থেকে ট্রেনে যেতে পারেন। মৈত্রি ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্র্রেন যায় কোলকাতা পর্যন্ত। বাংলাদেশ রেইলওয়ের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত পাবেন : http://www.railway.gov.bd/

কলকাতায় আভ্যন্তরীণ ট্রেনের টিকেট করা : ঘুরতে কিংবা চিকিৎসার জন্যে কলকাতায় যাচ্ছি আমরা অনেকেই। বাসে, মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে কিংবা প্লেনে কলকাতা পৌঁছানোর পর সবার প্রথম যে চিন্তাটা থাকে সেটা হল – হোটেল কোথায় নিব? কলকাতার সব ট্রেন স্টেশন এর সাথেই একটা প্রিপেইড ট্যাক্সি বুথ থাকে। সেখান থেকে ট্যাক্সি নিলে আপনার খরচ নিঃসন্দেহে কম হবে। যেকোনো স্টেশন থেকে বের হলেই সামনে দেখবেন একগাদা ট্যাক্সি ড্রাইভার আপনাকে ডাকবে, ওদের ডাকে সাড়া না দিয়ে সোজা চলে যাবেন প্রিপেইড ট্যাক্সি বুথে, এই প্রিপেইড ট্যাক্সি বুথগুলা কলকাতা পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে তাই ভাড়া নিয়ে লাফঝাঁপ নাই। কাউন্টারে ভাড়া পরিশোধ করে রিসিট নিন। এবার রিসিটে লেখা ট্যাক্সি নাম্বারটা মিলিয়ে উঠে পড়ুন ট্যাক্সিতে। আরে আপনি ভাড়া পরিশোধ করে ট্যাক্সিতে উঠে পড়লেন কিন্তু কই যাবেন সেটাই তো বলা হয়নি। প্রিপেইড ট্যাক্সি বুথে বলবেন নিউমার্কেট যাবেন, আরও ভালো করে বললে মারকুইস স্ট্রিট। ট্যাক্সি নিয়ে মারকুইস স্ট্রিটে এসে পড়বেন মিনিট ৩০ এর ভিতরেই।

কলকাতায় হোটেল নেয়া : এবার হোটেল খোঁজার পালা। দল বড় হলে অর্থ্যাৎ একাধিক লোক থাকলে একজন লাগেজ এর কাছে থাকুন বাকিরা হোটেল খুঁজতে লেগে যান। রুম দেখে তারপর দরদাম করুন। রুম না দেখে উঠলে পস্তানোর চান্স ৯৯%। আর একা হলে লাগেজ নিয়ে রুম খুঁজতে লেগে যান। মারকুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট অর্থ্যাৎ নিউমার্কেট এর আশেপাশের রাস্তায় শতাধিক হোটেল আর গেস্ট হাউজ আছে, যাদের ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি হলাম আমরা মানে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া লোকজন। এসি-নন এসি সিঙ্গেল রুম, ডাবল রুম সবই পাবেন ওখানে, জাস্ট একটু ধৈর্য্য ধরে খুঁজে নিতে হবে আপনার বাজেট এর সাথে মিলিয়ে। পূজা , ঈদ এইসব বিশেষ বিশেষ সময় ছাড়া রুমের খুব একটা কাড়াকাড়ি থাকে না, তাই নিশ্চিন্তে খুঁজুন আপনার পছন্দসই রুম। দামাদামি করতে ভুলবেন না, ভুলে গেলেন তো মানিব্যাগ মোটু থেকে পাতলু হয়ে যাবে।

এছাড়াও কলকাতার ভাল কিছু হোটেলের নাম ও ফোন নম্বর :

ওবেরয় গ্র্যান্ড হোটেল – +91 33 2249 2323

গেটওয়ে হোটেল ই এম বাইপাস – +91 33 6666 0000

গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল – +91 33 4444 7777

জে ডবলু ম্যারিওট হোটেল – +91 33 6633 0000

হায়াত রিজেন্সি হোটেল – +91 33 2335 1234

নভোটেল কলকাতা – +91 33 4032 3333

কেনলি ওয়ারথ কলকাতা – +91 33 2282 3939

এয়ারপোর্ট সিটি হোটেল – +91 33 2513 3131

দি প্রাইড হোটেল কলকাতা – +91 33 4025 9999

দি ওয়েস্টিন কলকাতা – +91 33 4037 1234

ডলার ভাঙ্গানো : রুম নিয়ে নিলেন, এবার ডলার ভাঙাতে হবে। মারকুইস স্ট্রিট ধরে হাঁটলেই দেখবেন অনেক মানি এক্সচেঞ্জ দোকান, এর যেকোনো একটায় ঢুকে পড়ুন। রেট কত জিজ্ঞেস করুন, যদি ডলার ভাঙ্গান তাহলে ডলার ভাঙ্গালে সার্টিফিকেট দিবে কিনা জেনে নিন (এটা ফেরার সময় ইমিগ্রশনে চাইতে পারে)। রেট শুনে এবার বের হয়ে আসুন ঐ দোকান থেকে। এবার একে একে গোটা পাঁচ-দশেক মানি এক্সচেঞ্জ দোকান ঘুরে ফেলুন, যে দোকান রেট বেশি বলেছিল তার নাম, দোকানের লোকেশনটা খেয়াল রাখুন। ফিরে যান সেই দোকানে ডলার কিংবা বাংলা টাকা ভাঙানোর জন্যে। মানি এক্সচেঞ্জ আলারা চাইবে রেট কম দিতে আপনাকে, আর আপনার টার্গেট ঠিক বিপরীত, তাই এই কৌশল ছাড়া উপায় নাই।

আর এজেন্সি থেকে ভারতের আভ্যন্তরীণ ট্রেনের টিকেট করার সময় দেখে নিন ভাড়া কত আর ওদের সার্ভিস চার্জ কত। ভাড়া নিয়ে দরদামের সুযোগ নাই কিন্তু সার্ভিস চার্জ নিয়ে দরদাম করার সুযোগ আছে। দেখবেন ওরা টিকেট প্রতি ২০০-৫০০ টাকা বা আরও বেশি সার্ভিস চার্জ ধরে বসে আছে। দামাদামি করে এটাকে মিনিমামে নামিয়ে আনার চেষ্টা করুন। আর যদি আপনি ফেয়ারলি প্লেস ইস্টার্ন রেলওয়ে অফিস থেকে টিকেট কাটেন তাহলে এই দরদামের ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেন। ফেয়ারলি প্লেস ইস্টার্ন রেলওয়ে অফিস নিউমার্কেট থেকে কাছেই।

কলকাতার কোথায় ঘুরবেন, কি দেখবেন : প্রায় ১,৮৮৭ বর্গকিলোমিটারের কলকাতা শহরে নতুন পুরনো মিলিয়ে অনেক কিছুই আছে দেখার মত। তৎকালীন রাজধানী হিসেবে কল্কাতাকে সাজাতে ব্রিটিশরা মোটেও কার্পণ্য করে নাই। তাঁর প্রমান এখন বর্তমান। ব্রিটিশ আমলের অনেক স্থাপত্যকীর্তি আজও পর্যটকদের মনযোগ কেড়ে নেয়। এর মধ্যে আছে সল্ট লেক স্টেডিয়াম, ভিক্টোরিয়া মেমরিয়াল, মার্বেল প্যালেস, ইডেন গার্ডেনস, এসপ্ল্যানেড, পার্ক স্ট্রিট আরও কত কি! এরকম কিছু বিখ্যাত জায়গার নাম ঠিকানা দিয়ে দিলাম।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল : ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে তৈরি এই বিখ্যাত স্থাপনা নিঃসন্দেহে কলকাতার সেরা আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম। ৫৭ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে আছে মোট ২১ টি বাগান, ২৮ হাজারেরও বেশী স্থাপনা ও প্রায় ৪ হাজার পেইন্টিং। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন।

ঠিকানাঃ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল, ১ কইন্স ওয়ে, কলকাতা। ভ্রমণের সময়ঃ সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা। প্রবেশ মুল্যঃ ভারতীয় নাগরিকদের জন্যও ২০ রুপি, পর্যটকদের জন্যও ২০০ রুপি।

ফোর্ট উইলিয়াম : ইংরেজ শাসনামলে স্থাপিত এই বিশাল অট্টালিকাটি কলকাতার অন্যতম আকর্ষণীয় একটি জায়গা। এর অবস্থান হুগলী নদীর পূর্ব দিকে। শতবছরের বেশী পুরনো এই ভবনটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে ব্যাবহার হয়ে আসছে। ইংরেজ আমলে অনেক সময় এটিকে ব্যবহার করা হত জেলখানা হিসেবে। বর্তমানে এটি ইস্টার্ন কমান্ডের হেড কোয়ার্টার হিসেবে ব্যাবহার হচ্ছে।

ঠিকানাঃ ফোর্ট উইলিয়াম, হেস্টিংস, কলকাতা। ভ্রমণের সময়ঃ সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫:৩০। প্রবেশ মুল্যঃ বিনামুল্যে।

মার্বেল প্যালেস : উনিশ শতকের যে সমস্ত প্রাসাদ গুলো নিয়ে কলকাতাবাসী এখন গর্ব করে, মার্বেল প্যালেস তাদের মধ্যে অন্যতম। কলকাতার অন্যতম আকর্ষণীয় এই ভবনটি দেখতে প্রতিবছর লাখ লাখ লোক ভিড় জমায়। এর চমৎকার স্থাপত্যশৈলী, কারুকাজ ও অসংখ্য চমৎকার ভাস্কর্য আপনাকে বিমোহিত করবেই।

ঠিকানাঃ ৪৬, মুক্তারাম বাবু স্ট্রিট, জোড়াসাঁকো, কলকাতা। ভ্রমণের সময়ঃ সকাল ১০:৩০ থেকে বিকাল ৪ টা। প্রবেশ মুল্যঃ বিনামুল্যে।

হাওড়া ব্রিজ : আইফেল টাওয়ারকে যেমন প্যারিসের প্রতিক হিসেবে ধরা হয়, হাওড়া ব্রিজ কলকাতার ঠিক তেমনি কিছু একটা। এই হাওড়া ব্রিজ না দেখলে আপনার কলকাতা ভ্রমণের মধ্যে অনেক বড় একটা অসম্পূর্ণতা থেকে যাবে। নগরীর অন্যতম ব্যাস্ত এলাকায় এর অবস্থান। ১৯৪৫ সালে তৈরি করা এই ব্রিজটি ব্যাবহার করা হয় কলকাতা এবং হুগলীর মধ্যে যোগাযোগের জন্যও। ১৯৬৫ সালে কবি গুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি সন্মান দেখিয়ে এই ব্রিজটির নামকরন করা হয় রবিন্দ্র সেতু, যদিও এরপর এটি হাওড়া ব্রিজ নামেই জনপ্রিয় থেকে যায়।

ঠিকানাঃ জগন্নাথ ঘাট, ১ স্ট্যান্ড রোড, কলকাতা

জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ী : সম্ভবত এই জায়গাটি যারা কলকাতা কখনও আসেননি, তাদের কাছেও সুপরিচিত। হবে নাই বা কেন, এখানেই তো বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের বড় একটা সময় কাটান। তাঁর নোবেল বিজয়ের পর এই বাড়িটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে। প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের সাহিত্য প্রেমী ও পর্যটকরা কবিগুরুর এই বাড়ী দেখতে ছুটে আসেন। বর্তমানে এই বাড়িটি একটি জাদুঘরে রুপান্তরিত করা হয়েছে। এখানে কবিগুরুর যাবতীয় জিনিসপত্র, তাঁর সাহিত্যকর্ম, চিত্রকর্ম, আলোকচিত্র ইত্যাদি সব সংরক্ষিত আছে।

ঠিকানাঃ গিরিশ পার্ক, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, কলকাতা। প্রবেশ মুল্যঃ ১০ রুপি প্রতিজন, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যও ৫ রুপি।

বোটানিক্যাল গার্ডেনস : গঙ্গা নদীর পশ্চিম তীরে প্রায় ২৭৩ একর নিয়ে গড়ে উঠেছে কলকাতার বিখ্যাত বোটানিক্যাল গার্ডেন। প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে বোটানিক্যাল গার্ডেনের আকর্ষণ অনেক বেশী। এখানে আছে ১২ হাজারেরও বেশী ভিন্ন প্রজাতির গাছ। চারিদিকে সবুজের সমারোহ থাকায় জায়গাতায় বেশ একটা শান্তি শান্তি ভাব আছে। শহরের নাগরিকতায় ক্লান্ত অনুভব করলে বোটানিক্যাল গার্ডেন আপনাকে দিবে এক শান্তিময় বৈচিত্র্য।

ঠিকানাঃ শিবপুর, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ। ভ্রমণের সময়ঃ সকাল ১০ টা – সন্ধ্যা ৭ টা। প্রবেশ মুল্যঃ ভারতিয়দের জন্য ১০ রুপি, পর্যটকদের জন্যও ১০০ রুপি।

দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির : এই কালীমন্দিরটি কলকাতার বিখ্যাত পুরাকীর্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৮৫৫ সালে রানী রাসমণি মহাদেবী কালীর প্রতি তাঁর ভক্তির প্রতিক সরূপ এই মন্দিরটি তৈরি করেন। তখন থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অনেক জনপ্রিয় একটি গন্তব্য এই মন্দির।

ঠিকানাঃ দক্ষিণেশ্বর, কলকাতা। ভ্রমণ সময়ঃ সকাল ৬ টা – দুপুর ১২:৩০ এবং দুপুর ৩ টা – রাত ৮:৩০। প্রবেশ মুল্যঃ বিনামুল্যে।

বেলুর মঠ : বিখ্যাত বেলুর মঠের কথা আমরা অনেকেই জানি। ধর্মপ্রাণ মানুষদের জন্য এটি একটি কাঙ্খিত গন্তব্য। বিখ্যাত রামকৃষ্ণ মিশন ও রামকৃষ্ণ মঠের কার্যক্রম প্রধানত এখান থেকেই পরিচালিত হয়। মঠের প্রাচীন দালান কোঠা আর সবুজ চারপাশ আপনার মন কে এক অপূর্ব শান্তিতে ভরে দিবে। আত্মিক শান্তি খুজে বেরান এরকম বহু পর্যটকের আগমন ঘটে এই বেলুর মঠে।

ঠিকানাঃ বেলুর, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ। ভ্রমণের সময়ঃ ভোর ৬ টা – বেলা ১১:৩০ এবং বিকাল ৪ টা – সন্ধ্যা ৭ টা। প্রবেশমূল্যঃ বিনামূল্যে।

গল্প শেষ এবার উপদেশ কলকাতা বা যেকোনো শহরে ঘুরতে গেলে গুগোল ম্যাপস ব্যবহার করতে পারেন, সময় বাঁচবে। যারা কম পয়সায় ঘুরতে চান তারা মেট্রো কিংবা বাস ব্যবহার করলে খরচ বাঁচবে। আবার যারা একটু আরামে ঘুরতে চান তারা উবার কিংবা ওলা অ্যাপস ডাউনলোড করে নিয়ে যান, কলকাতা গিয়ে সাইন আপ করে ঘুরুন, আপনারো সময় এবং অর্থ বাঁচবে। সবশেষে, পাসপোর্ট, টাকা-পয়সা ইত্যাদি নিজ দ্বায়িত্বে সতর্কতার সাথে রাখুন, ঘোরার সময় চোখ কান খোলা রাখুন, নিরাপদে থাকুন।

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: