প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

সিনহার একাউন্টে ৪ কোটি টাকা লেনদেনে জালিয়াতির তথ্য পেয়েছে দুদক

কারেন্ট নিউজ বিডি   ৫ অক্টোবর ২০১৮, ৬:১৫:১৬

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা লেনদেনে জালিয়াতি ও অনিয়য়ের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার ফারমার্স ব্যংকের দু’টি অ্যাকাউন্ট এই অবৈধ লেনদেনের ঘটনাটি ঘটেছে। এই জালিয়াতিতে অনেকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার বিকালে সেগুনবাগিচার কার্যালয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

তিনি বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের দু’টি একাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণের ব্যাপারে আমরা তদন্ত করেছি। তদন্ত শেষ হয়ে গেছে। অনেকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বা চিহ্নিত করা হয়েছে। ঋণ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। সেখানে অনেকেরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। আমরা সেগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করছি।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এর ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা, এমন প্রশ্নে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থাকুক আর যে-ই থাকুক, যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বা যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই আমরা ব্যবস্থা নেবো।

তবে এব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির নাম বলতে রাজি হননি দুদক প্রধান।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে ঋণ প্রক্রিয়া এবং এই টাকা মানিলন্ডারিং বা বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া, নগদ উত্তোলন এসব বিষয়ে অনেক কিছু এসেছে।

দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যা হয়, তা-ই হবে। যদি অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী মামলা করা হবে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ফারমার্স ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা এবং মোহাম্মদ শাহজাহান ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে একই দিনে ২ কোটি করে ৪ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। ওইদিনই তারা টাকাগুলো পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির (সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা) অ্যাকাউন্টে জমা দেন। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট থেকে একই দিন টাকাগুলো তুলে আত্মসাৎ করা হয়।

দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন এই অভিযোগ তদন্ত করছেন। এই তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৬ মে মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা নামে কথিত দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই দুজনের আইনজীবী বিচারপতি সিনহার সঙ্গে লেনদেনের কথাই বলেন।

আইনজীবীরা জানান, উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের পাঁচ কাঠা জমির উপর ৫১ নম্বরের ছয়তলা বাড়িটির মালিক সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা। তিনি ছয় কোটি টাকায় বাড়িটি বিক্রি করেন টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রনজিত চন্দ্র সাহার স্ত্রী শান্ত্রী রায়ের কাছে।

তারা জানান বলেন, ২০১৬ সালের মে মাসের দিকে বায়না দলিলের মাধ্যমে বিচারপতি এস কে সিনহার কাছ থেকে বাড়িটি শান্ত্রী রায় মালিক হন। তখনই বাড়ি বাবদ দুই কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর একই বছরের ৮ নভেম্বর দুইটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় বিচারপতি এস কে সিনহার অ্যাকাউন্টে চার কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়। পরে ২৪ নভেম্বর এস কে সিনহা হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে শান্ত্রী রায়কে বাড়িটি লিখে দেন।

আইনজীবীরা আরো জানান, নিরঞ্জন ও শাহজাহান ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেন। এতে থার্ড পার্টি হিসেবে শান্ত্রী রায়ের বিভিন্ন জমি মর্টগেজ হিসাবে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। এই ঋণ থেকেই বাড়ির চার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। রনজিত চন্দ্রের চাচা নিরঞ্জন সাহা আর শাহজাহান হচ্ছে রনজিতের বন্ধু। তাদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইল।

এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম শামীমসহ ৬জনকে সাড়ে ৬ ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। অন্যরা হলেন- বেসরকারি ব্যাংকটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুতফুল হক, প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজী সালাউদ্দিন, সাবেক ক্রেডিট অফিসার ও সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউদ্দিন আসকারী আহমেদ ও নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা সুলতানা।

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: