প্রচ্ছদ / ময়মনসিংহ / বিস্তারিত

মাভাবিপ্রবি’র ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৫ জনকে বহিষ্কার

৯ অক্টোবর ২০১৮, ২:২৭:৫২

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় জড়িত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারসহ পাঁচজনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বহিষ্কৃত অন্যরা হলেন- সহ-সভাপতি মো. ইমরান মিয়া, আদ্রিতা পান্না, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবাল ও ইয়াসির আরাফাত।

শিক্ষকদের অভিযোগ, গত শনিবার ২য় বর্ষের ২য় সেমিস্টারের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ। এ পরীক্ষায় ঈশিতা বিশ্বাস উন্নীত হতে পারেনি। তার ফলাফল ৪ এর মধ্যে ১.৯৮। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২.২৫ পেলে উন্নীত হতে পারবে।

পরীক্ষায় ফলাফল ১ দিন আগে ঘোষণা করায় এটিকে অধ্যাদেশ বিরোধী উল্লেখ করে ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার তার সহযোগীদের নিয়ে রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কোয়ান্টাম মেকানিক্স-১ পরীক্ষায় ঈশিতার পক্ষ হয়ে তাকে জোরপূর্বক পরীক্ষার সিটে বসিয়ে দেয়। এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বিভাগের পক্ষ থেকে কোন প্রকার অনুমোদন না থাকায় শিক্ষকরা এ বিষয়ে বাধা দিতে গেলে সজীব তালুকদার উক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক ড. আনোয়ার হোসেন এবং মহিউদ্দিন তাসনিনের সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারার উপক্রম হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঈশিতাকে পাহাড়া দিয়ে সম্পূর্ণ পরীক্ষা শেষ করায়।

ঈশিতাকে পরীক্ষা শেষ করানোর পর সকল শিক্ষার্থীদের ডেকে অর্ডিন্যান্স পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করে। এ সময় কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বন্ধ করা হয়।

এদিকে শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনায় ওইদিনই বিকাল ৪টার দিকে জরুরি সভা ডাকে শিক্ষক সমিতি। সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার, সহ-সভাপতি ইমরান মিয়া, সহ-সভাপতি আদ্রিতা পান্না ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবাল এর বিচারের দাবি জানানো হয়।

মাভাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি ও ১৫ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত ভাইস চ্যান্সেলর বরাবর দুইটি আবেদনে এই চার জনের বিচারের দাবি জানানো হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাইস চ্যান্সেলরের কক্ষে ছাত্রলীগ ও শিক্ষকদের নিয়ে সভা করা হয়।

সভার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ বের হয়ে এসে প্রতিটি হল থেকে ছাত্র-ছাত্রী বের করে অর্ডিন্যান্স পরিবর্তনের আন্দোলন শুরু করে। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ৩টা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলতে থাকে।

কিন্তু অর্ডিন্যান্স হল, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য দেয়া ক্লাস পদ্ধতি, পরীক্ষা পদ্ধতি, ফলাফল পদ্ধতি।

এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সজীব তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভাইস চ্যান্সেলর অফিস থেকে বৈঠক করে জানান, স্যাররা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন অর্ডিন্যান্স পরিবর্তনের ব্যাপারে। আমরা সকাল ৯টায় ছাত্র-ছাত্রী স্বাক্ষরিত স্বারকলিপি ভাইস চ্যান্সেলর বরাবর জমা দিব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এরপর ছাত্র-ছাত্রী হলে ফিরে যায়।

ছাত্র-ছাত্রী চলে যাবার পর ভাইস চ্যান্সেলরের কনফারেন্স রুমে বিচার না পাওয়ার কারণে মধ্যেই রাতেই সকল শিক্ষক একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে রাতে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হলের ছাত্রলীগের নেত্রীরা হলে ফিরে গেলে সেখানে সাধারণ ছাত্রীদের সাথে তাদের হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি ছাত্রলীগের নেত্রীরা ছাত্রলীগ সভাপতি সজীব তালুকদার ও সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমানকে জানায়।

পরে সজীব তালুকদার ও সাইদুর রহমান ছাত্রী হলের ভিতরে প্রবেশ করে অন্যান্য ছাত্রীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে সজীব ও সাইদুরকে সাধারণ ছাত্রীরা হল থেকে ধাওয়া দিয়ে বের করে দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে ছাত্রলীগের নেত্রীদের হলের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে দেন।

এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাদের বিচারে দাবিতে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহা. তৌহিদুল ইসলামের কাছে ৪৮ জন শিক্ষক পদত্যাগপত্র জমা দেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগের ৫ নেতাকে বহিষ্কার করল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন বলেন, সঠিক বিচার না পাওয়ায় সোমবার দুপুরে শিক্ষকরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি।

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: