এক মাসে ৩৭৮ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েল

১০ অক্টোবর ২০১৮, ৩:৫৭:১১

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর ধরপাকড়, দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ৩৭৮ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েল। আটককৃতদের মধ্যে ১০ নারী ও ৫২ শিশুও রয়েছে। মঙ্গলবার ফিলিস্তিনভিত্তিক তিন সংস্থার এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু পবিত্র জেরুজালেম শহর থেকে আটক করা হয়েছে ১০৪ জনকে। রামাল্লাহ এবং পশ্চিম তীরের কেন্দ্রস্থল আল বিরেহ থেকে ৫৬ জন, হেবরন থেকে ৭৩ জন এবং গাজা উপত্যকা থেকে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বিবৃতি দেওয়া তিন সংস্থা হচ্ছে কমিশন ফর প্রিজনার্স অ্যান্ড এক্স-প্রিজনার্স অ্যাফেয়ার্স, প্যালেস্টাইনিয়ান প্রিজনার্স সোসাইটি এবং আল-দামির অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটস। ফিলিস্তিনিদের শুধু তাদের ঘরবাড়ি থেকেই আটক করা হচ্ছে না, এমনকি সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ফিলিস্তিনি জেলেরাও দখলদার বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। গত শনিবার মাছ ধরার সময় গাজার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল থেকে দুই ফিলিস্তিনি জেলেকে গ্রেফতার করে দখলদার বাহিনী।

গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের আল-সুদানিয়া জেলায় সৈকত থেকে দু্ই ন্যাটিক্যাল মাইল দূরে মাছ ধরছিলেন দুই জেলে। ওই সময় ইসরায়েলি নৌবাহিনীর সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করে।

ফিলিস্তিনিদের হিসাব মতে, গাজার প্রায় ৫০ হাজার অধিবাসী মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহ করে থাকে। ২০০৭ সালে অবরোধ আরোপের পর থেকে গাজা উপকূল থেকে ৩ ন্যাটিক্যাল মাইল পর্যন্ত ফিলিস্তিনি জেলেদের মাছ ধরতে দিতো ইসরায়েলি বাহিনী। তবে ২০১৪ সালে গাজায় বোমা হামলার পর থেকে ৬ ন্যাটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মাছ ধরার অনুমতি দেয়। ২০১৪ সালের ওই হামলায় গাজার কমপক্ষে ২১৫০ জন বাসিন্দা নিহত হয়। গত মে মাসে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সীমানা বাড়িয়ে সাগরের ৯ ন্যাটিক্যাল মাইল পর্যন্ত ফিলিস্তিনি জেলেদের মাছ ধরার অনুমতি দেয়।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছে, ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগে ফিলিস্তিনি জেলেদের গুলি করে থাকে। এছাড়া ঘরবাড়িতে গিয়ে ধরপাকড় চালানো ফিলিস্তিনিদের ওপর।

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: