প্রচ্ছদ / ঢাকা / বিস্তারিত

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

মুফতি শফিকুর দেড়যুগ যাবত বাড়িতে যান না

কারেন্ট নিউজ বিডি   ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৩৬:৪৭

২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এই মামলায় ১৯ জন আসামীর মৃত্যুদণ্ড ও ১৯ জন আসামীর যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্য মুফতি শফিকুর রহমানের নাম রয়েছে। তার বাড়ী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ী পশ্চিম পাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মরহুম মৌলভী শিশু মিয়া। মুফতি শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় তিনটি গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাশগাড়ী গ্রামের মৌলভী শিশু মিয়ার ৬ পুত্রের মধ্য প্রথম পুত্র মুফতি শফিকুর রহমান। তারা ৪ বোন। শফিকুর রহমানের অন্যান্য ভাইয়েরা হলো মৌলানা মাহাবুব (৩৮), মৌলানা নূরুল হুদা (৩৫), মাদ্রাসা ছাত্র কেফায়েত উল্লা (২০), রহমতউল্লা (১৮) ও সাদ (৯)। তার ভাইদের মধ্য, ৩ ভাই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে এখন বিভিন্ন মাদ্রসায় চাকুরী করছে।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

অপর তিনভাই এখনও মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে বলে এলাকাবাসী জানায়। মুফতি শফিকুর রহমানের এক মেয়ের বহুদিন আগে বিয়ে হয়েছে। তার বাড়িতে বৃদ্ধ মা ও তার একটি ছোট ভাই ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। তার থাকার ঘরটিও তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এলাকার আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম কে মিলনের সাথে আজ এই প্রতিনিধির দেখা হলে তিনি জানান মুফতি শফিকুর রহমানকে দীর্ঘ দেড় যুগ যাবত বাড়িতে আসেনা।

প্রতিবেশী আত্মীয় শিক্ষার্থী সোহাগ মিয়া বলেন, তাদের বাড়িতে তার মা ছাড়া কেউ নেই। বাড়ির ঘরের দরজা সবসময় বন্ধ থাকে। তাদের বাড়ির ভিতরে আমরা কখনোও প্রবেশ করি না ।

একই এলাকার আরেক প্রতিবোশী অলিউল্লাহ বলেন, আমি দেড় যুগ আগে শফিকুরকে একবার বাড়ীতে দেখেছিলাম। তারপর আর তাকে এলাকায় আর দেখেনি। এলাকার অনেকেই জানেনা, গ্রেনেড হামলা মামলায় তার যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। এধরনের নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে সে জড়িত ছিল শুনে এলাকাবাসী তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন।

ভৈরব থানা পুলিশ জানায় , সে দীর্ঘদিন যাবত পলাতক। আজ বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) এই প্রতিনিধি তার বাড়ীতে গেলে প্রতিবেশীরা জানায় মুফতি শফিকুর রহমান দীর্ঘ প্রায় দেড়যুগ যাবত বাড়ীতে আসেনা। সে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ সংগঠনের আমীর ছিল বলে জানা গেছে। ১৯৯২ সালে হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ নামে ইসলামপন্থী একটি মৌলবাদী সংগঠনের জন্ম দিয়ে সে দেশের আলোচনায় আসে।

ছোটবেলায় প্রাইমারী পাস করার পর শফিকুর রহমান স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষা নেন। এরপর চলে যায় পাকিস্তান। সেখানে কিছুদিন লেখাপড়া করার পর আফগানিস্তান গিয়ে জঙ্গী প্রশিক্ষন দিয়ে দেশে এসে ১৯৯২ সালে হরকাতুল জিহাদ নামের একটি জঙ্গী সংগঠন গড়ে তোলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। একসময় শায়খ আবদুর রহমান ও মুফতি হান্নানের সাথে জড়িত হয়ে দেশে জঙ্গীবাদ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। পরে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার তদন্তের পর সে মামলার আসামী হয়। গতকাল মামলার রায়ে তারেক রহমানসহ ১৯ জনের সাথে তারও যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, মুফতি শফিকুর রহমানের নামে থানায় তিনটি গ্রেফতারী পরোয়ানা আছে। সে দীর্ঘদিন যাবত পলাতক। একাধিকবার তার বাড়ীসহ অন্যান্য স্হানে অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( অপরাধ) মোঃ শফিকুল ইসলাম মোবাইলে জানান, গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী মুফতি শফিকুর রহমানের বাড়ী ভৈরবে একথা আমরা জানিনা। এখন যখন অবগত হলাম তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালাবে। দেশের কোথাও সে পালিয়ে থাকলে তাকে খোঁজে বের করে গ্রেফতারের চেষ্টা করবে পুলিশ।

For Advertisement

750px X 80px Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: