প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় / বিস্তারিত

চাষির পাশে বিদ্বান ও বিজ্ঞান

১২ অক্টোবর ২০১৮, ৩:৩৩:১৯

ক’দিন আগে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মেটাল গ্রুপ আয়োজিত ‘কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ’ বিষয়ে একটি বিশেষ বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। দেশের স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার, উদ্যোক্তা এবং সফল কৃষকরা এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সব অংশগ্রহণকারীই বাংলাদেশের কৃষির অভাবনীয় রূপান্তরের পেছনে যন্ত্রের ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় ক্ষুদে ও মাঝারি কৃষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বাড়ানোর পক্ষে মতামত প্রকাশ করেন। সে জন্য প্রযুক্তিকে আরও লাগসই করা এবং উপযুক্ত অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিতে তারা নানাবিধ নীতিমূলক পরামর্শ দেন। বিশেষ করে ফসল কাটার জন্য লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর তারা গুরুত্ব আরোপ করেন। মূল উপস্থাপনায় সে দিন আমি বাংলাদেশের কৃষিতে যন্ত্র ব্যবহারের সুফল ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছিলাম। বলেছিলাম, স্বাধীনতা-পরবর্তী কয়েক দশকের মধ্যে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের সামনে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে আমাদের কৃষি খাতের রয়েছে অসামান্য ভূমিকা।

১৯৭২ সালে আমাদের বার্ষিক খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ মিলিয়ন টন। আর বর্তমানে তা প্রায় ৪ গুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ মিলিয়ন টনেরও বেশি। উৎপাদনের এই ব্যাপক বৃদ্ধির কারণেই আজ ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। কর্মসংস্থানের হিসাবেও কৃষি খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতে নিযুক্ত শ্রমশক্তি ক্রমান্বয়ে কমে এলেও, এখনও ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবিকার জন্য সরাসরি কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত।

কৃষি খাতে সাফল্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ। যেমন এসডিজি অর্জন করতে হলে আমাদের একরপ্রতি ফসল উৎপাদনের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে হবে। অথচ আমাদের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বছরে ০ দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে কমছে। ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১ মিলিয়ন হেক্টর কৃষি জমিতে গ্রামীণ বা নাগরিক স্থাপনা বসানো হয়েছে। শুধু নিজেদের খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্যই নয়, বরং রফতানি আয় চাহিদা অনুসারে বাড়াতেও নির্ভর করতে হবে কৃষি খাতের ওপর। বার্ষিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কৃষি প্রবৃদ্ধি হলে এ খাত থেকে আশানুরূপ রফতানি আয় সম্ভব (বর্তমানে এ হার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ)। এ ছাড়া দারিদ্র্য হ্রাস করার জন্যও কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি অকৃষি খাতের চেয়ে বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যদি কৃষি খাতে কর্মীপ্রতি জিডিপি ১ শতাংশ বাড়ানো যায় তাহলে দারিদ্র্য কমবে ০ দশমিক ৩৯ শতাংশ (অথচ অকৃষি খাতে এমন ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়লে দারিদ্র্য কমে মাত্র ০ দশমিক ১১ শতাংশ)। কাজেই দেখা যাচ্ছে, জাতীয় সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলো অর্জনে কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এ কারণেই কৃষির যান্ত্রিকীকরণ বিষয়ে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়ন ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

তবে লক্ষণীয়, ইতিমধ্যে আমাদের কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণ ব্যাপক হারে শুরু হয়েছে। কৃষকরা উদ্ভূত বাস্তবতায় নিজেরা যান্ত্রিকীকরণের উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং সরকারি-বেসরকারি খাতও নিজ নিজ সামর্থ্য অনুসারে এখানে ভূমিকা রাখছে। জমি চাষ করার জন্য পাওয়ার টিলার (টু-হুইল ট্রাক্টর), ফোর হুইল ট্রাক্টর এবং সেচের জন্য পাম্প মেশিন এখন বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত। এমনকি সেচ কাজের জন্য ডিজেল চালিত সেচ যন্ত্রের জায়গাও ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে সৌরশক্তি চালিত যন্ত্র (এ ক্ষেত্রেও সরকার ও বেসরকারি খাতের বিশেষ মনোযোগ লক্ষণীয়)। বর্তমানে দেশে ৭ লাখ পাওয়ার টিলার, ৩৫ হাজার ট্রাক্টর এবং ৩৫ হাজারেরও বেশি গভীর নলকূপ ব্যবহূত হচ্ছে। কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের এই প্রসারের পেছনে চাহিদা ও সরবরাহগত দিক রয়েছে। চাহিদাগত দিকগুলো হলো- অন্য খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়া, গড় মজুরি বৃদ্ধি এবং যান্ত্রিক কৃষিতে অধিকতর মুনাফার সম্ভাবনা। সরবরাহগত দিকগুলো হলো- যন্ত্রের সহজলভ্যতা, স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের কম মূল্যে যন্ত্র বাজারজাতকরণ, সরকারি সমর্থন এবং দেশব্যাপী উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর প্রচারণা। এর পরও বাংলাদেশের কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সহজলভ্য মূলধন সংকটের কারণেও অনেক সময় দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা চাহিদামতো সর্বাধুনিক যন্ত্র ও প্রযুক্তি ক্রয় করতে পারেন না। সর্বোপরি কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি সম্পর্কে অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব রয়েছে। ফলে তারা সর্বাধুনিক যন্ত্র ও প্রযুক্তির ওপর যথেষ্ট আস্থাশীল হতে পারেন না।

তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইতিমধ্যে বেশ কিছু উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা থেকে আগামী দিনের জন্য শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে। ইউএসএআইডি-এর সহায়তায় মেটাল গ্রুপ ঝিানাইদহে এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। ওই জেলার সবক’টি উপজেলায় মেটাল গ্রুপ আধুনিক কৃষিযন্ত্র বিক্রয় ও সেবাকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এখান থেকে যন্ত্র ক্রয় করলে কৃষক ভর্তুকি পাচ্ছেন (এতে তাদের মূলধন সংকট লাঘব হচ্ছে)। এসব যন্ত্র বিশেষভাবে বাংলাদেশের কৃষির বাস্তবতা মাথায় রেখেই প্রস্তুত এবং/অথবা আমদানি করা হয়। ফলে কৃষি জমির আকার ছোট হওয়ার কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না কাউকে। এসবের পাশাপাশি এ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনীসহ আরও নানা রকম প্রচারণার মাধ্যমে কৃষকদের যান্ত্রিকীকরণ বিষয়ে জ্ঞান ও আগ্রহ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারও কৃষির যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্যে প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষকদের যন্ত্র ক্রয়ে ভর্তুকি দেওয়ার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এর আওতায় রিপার, কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারসহ সাত ধরনের কৃষিযন্ত্রে কৃষকদের জন্য ক্রয়মূল্যের ওপর ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার (হাওর অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষক সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ভর্তুকি পাচ্ছে)। উপজেলা পর্যায়ে আবেদনকারী কৃষক গ্রুপগুলোর অগ্রাধিকার তালিকা করা হয় এবং বরাদ্দ আসার পর সে অনুসারে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। মান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কারিগরি কমিটির মাধ্যমে যেসব কোম্পানির যন্ত্র ক্রয় করলে ভর্তুকি দেওয়া হবে, সে তালিকা আগেই প্রস্তুত করা হয়। এ প্রকল্পের কারণে চর-হাওরের মতো দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী প্রান্তিক কৃষকরা বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন। এসবের পাশাপাশি বেসরকারি খাত যেন কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কৃষিযন্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ শুল্ক্ক সুবিধাও দিচ্ছে। মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ আমদানি শুল্ক্ক দিয়ে এসব যন্ত্র আমদানি করা যাচ্ছে।

সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি দেশের আর্থিক সেবা খাতেরও কৃষির যান্ত্রিকীকরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। মনে রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা এবং সরকারের অনুদান বা ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত। অন্যদিকে দেশের ব্যাংক বা অন্য আর্থিক সেবাদানকারীদের পক্ষে একটি বাজারনির্ভর পদ্ধতিতে কৃষির যান্ত্রিকীকরণে ভূমিকা রাখা সম্ভব। সরকারি ও উন্নয়ন সংস্থার নেওয়া উদ্যোগগুলোর পরিপূরক উদ্যোগ নিলে তা বিশেষ কার্যকর হবে। যেমন : সরকারিভাবে তৈরি কৃষক গ্রুপের অগ্রাধিকার তালিকা থেকে যারা ভর্তুকি পাচ্ছেন না, তাদের জন্য বিশেষ ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এটি ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ’-এর একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে ঋণ প্রদানকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। ক্ষুুদ্র কৃষকদের পক্ষে অনেক সময় যন্ত্র ক্রয় করে ব্যবহার করা কঠিন হয় বলে যারা এসব যন্ত্র ভাড়া দিচ্ছেন তাদেরও ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথা এ নীতিমালায় বলা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রুপ হিসেবে কৃষকদের ঋণ দেওয়াকেও উৎসাহিত করা হয়েছে।

অন্যান্য খাতের মতো দেশের কৃষি খাতের বিকাশ ও কৃষির যান্ত্রিকীকরণেও বেসরকারি খাতকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর গুরুত্ব নিঃসন্দেহে অপরিসীম। আগামীতে ব্যাংকিং খাত কীভাবে কৃষির যান্ত্রিকীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে; তা নিয়ে কয়েকটি প্রস্তাবনা এখানে দেওয়া যেতে পারে- বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কোনো ধরনের রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৫ শতাংশ সুদে (ব্যাংক রেট) ঋণ নিয়ে তা ৯ শতাংশ সুদে বিতরণ করে থাকে। কৃষি যন্ত্রাংশের জন্য যদি ব্যাংক রেট ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা যায়, তাহলে কৃষি যন্ত্রাংশের জন্য ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিশেষ উৎসাহিত হবে এবং আরও কম সুদে কৃষকদের ঋণ দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন নীতিমালা ও কর্মসূচিতে মোট সরবরাহকৃত ঋণের অন্তত ১০ শতাংশ মৎস্য চাষে দেওয়ার নির্দেশনা এসেছে। একই রকম একটি নির্দেশনা যদি কৃষি যন্ত্রাংশ ক্রয়ের জন্য থাকে, তবে তা কৃষির যান্ত্রিকীকরণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

কয়েক বছর আগে মসলা চাষ উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ভর্তুকিসহ মাত্র ৪ শতাংশ হারে মসলা চাষিদের ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে দেশের মসলা চাষে বিপ্লব ঘটে গিয়েছিল। এতে একদিকে মসলা চাষিরা লাভবান হয়েছেন, অন্যদিকে মসলা আমদানিও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। একই ধারায় গাভী খামারিদের জন্যও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় যদি কৃষি যন্ত্রাংশের জন্যও সুদে ভর্তুকির কর্মসূচি নেওয়া যায়, তা কৃষির যান্ত্রিকীকরণে বিশেষ সহায়ক হবে।

১৯৮৮ সালেও আমাদের দেশের কৃষকদের গড় বয়স ছিল মাত্র ৩৫ বছর, অথচ বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ বছরে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, আমাদের বিপুল সংখ্যক তরুণ কৃষিতে আগের মতো আগ্রহ পাচ্ছে না। কিন্তু তরুণরাই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষির যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমেই আমরা এই তরুণদের আবারও কৃষির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারি। আমাদের মনে রাখতে হবে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলো অর্জনে কৃষির যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। এ জন্য বেসরকারি খাতকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর দেশের ব্যাংকিং খাত এ ক্ষেত্রে কার্যকর সহায়তা করতে পারে। সরকার এ জন্য যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

সরকার ও বেসরকারি খাতে মিলেমিশেই কৃষি যান্ত্রিকীকরণের বেশ কিছু কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে আমাদের প্রয়োজনমতো ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তার প্রসারে উপযুক্ত প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অর্থায়নের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সে জন্য আর্থিক প্রণোদনার সুযোগও সৃষ্টি করা দরকার। নয়া অনেক কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের প্রসারে নয়া যন্ত্রপাতির প্রয়োজন রয়েছে। যেমন এখন যে পরিমাণ দুধ দোহন করতে হয়, তা আর খালি হাতে সম্ভব নয়। প্রয়োজন ছোট মাপের দোহন যন্ত্র। শুরুতে আমদানি করে এবং পরে এ যন্ত্রের বাস্তবানুগ রূপান্তর ঘটিয়ে লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমরা গাভী খামারিদের মস্ত উপকার করতে পারি। ক্ষেত্রবিশেষে জয়েন্টভেঞ্চারের মাধ্যমেও আমাদের কৃষির উপযোগী যন্ত্র উৎপাদন করতে পারি। আশা করছি, ইমিরেটাস প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার মণ্ডলের নেতৃত্বে যে খসড়া জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতি তৈরি হচ্ছে, তাতে ওপরের বিষয় প্রতিফলিত হবে।

সবশেষে বলতে চাই, কৃষির উন্নয়নে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। ঠিক যেমনটি রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘আজ শুধু একলা চাষীর চাষ করিবার দিন নাই, আজ তাহার সঙ্গে বিদ্বানকে, বৈজ্ঞানিককে যোগ দিতে হইবে।’ (সমকাল থেকে সংগৃহীত)

লেখক : ড. আতিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীত৤

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: