প্রচ্ছদ / বরিশাল / বিস্তারিত

শাশুড়ির দায়ের কোপে জামাই হাসপাতালে

২০ অক্টোবর ২০১৮, ২:৩২:১৫

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জামাই রবিউল ইসলামকে দা’ দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ি জমিরন নেছা টুনির বিরুদ্ধে। এতে করে রবিউলের পিঠে মারাত্বক ক্ষত হয় এবং সেখানে ২৪টি সেলাই দেয় চিকিৎসক। আহত রবিউল বর্তমানে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পশ্চিম নওদাবাস এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। রবিউল ইসলাম উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের দ: ধুবনী গ্রামের সাহেব আলীর পুত্র। সে পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। আর অভিযুক্ত শ্বাশুড়ি জমিরন নেছা একই উপজেলার পশ্চিম নওদাবাস গ্রামের সুরুজ্জামানের স্ত্রী।

এ বিষয়ে রবিউল ইসলামের ভাই আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রায় দুই বছর আগে আমার ভাই রবিউলের সাথে বিয়ে হয় সুরুজ্জামান ও জমিরন নেছার মেয়ে সুমির। সুমি আমাদেরকে তেমন একটা পছন্দ করতো না। তাই বিয়ের কিছুদিন পর তাদের আলাদা করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাদের এক বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

ঘটনার ১০দিন আগে রবিউল রুটি খাবে বলে বাজার থেকে এক কেজি বয়লার মুরগীর মাংস বাড়িতে নিয়ে আসে। সেই মাংসের অর্ধেক মা-বাবাকে দেয়। এ নিয়ে সুৃমি রবিউলের সাথে ঝগড়া শুরু করে। এ সময় স্ত্রীকে শাসন করতে গিয়ে দু-একটা চড় থাপ্পর দেয় রবিউল। এরপরে আর কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পর সুমির মা জমিরন নেছা আমাদের বাড়িতে আসে। আর হঠাতই সুমিকে নিয়ে চলে যায়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আমাদের বাড়িতে পুলিশ আসে। তারা বলে সুমিকে আমরা সবাই মিলে মারধর করেছি। ফলে সুমি হাসপাতালে ভর্তি আছে এবং সে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তাই আমরা তদন্ত করতে এসেছি। পরে এলাকাবাসীর কথা শুনে পুলিশ আমাদেরকে পরামর্শ দেয় আমরা যেন সুমির বাসায় গিয়ে মিমাংসা করে সুমিকে বাসায় নিয়ে আসি।

এই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে সুমিকে আনতে শশুর বাড়ি যায় রবিউল। আর এখন দেখি সে হাসপাতালে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, রবিউল বেডে শুয়ে যন্ত্রণা আর ব্যাথায় কাতরাচ্ছে।

এ সময় তার সাথে কথা হলে রবিউল জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে সুমিকে আনতে তার বাসায় যাই। আমি সুমিকে বলি বাসায় পুলিশ এসেছিল তুমি কি থানায় কোন অভিযোগ করেছ। এ কথা বলার সাথে সাথে আমার শাশুড়ি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে চড় থাপ্পর মারে। এরপরেও আমি সুমিকে বলি চলো বাসায় যাই। কিছুক্ষণ পর আমার শ্বশুড় সুরুজ্জামাল, মামা শ্বশুড় ফরিদুল ও নানা শ্বশুড় জামাল আসে। তারা এসেই আমার গলা চেপে ধরে আর আমার শাশুড়ি লাঠি দিয়ে আমাকে এলোপাতারি মারধর করে। সেখান থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করলে আমার শাশুড়ি পিছন থেকে আমাকে দা দিয়ে কোপ দেয়। আমি আর কিছু বলতে পারি না। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি হাসপাতালে।

হাতীবান্ধা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রবিউলের ক্ষত স্থানে চব্বিশটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সে সুস্থ রয়েছে। এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ওমর ফারুক জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: