নাসায় যাওয়ার স্বপ্নে বাংলাদেশ

২১ অক্টোবর ২০১৮, ২:০১:৩৭

বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে নানা ভাবে বিশ্বের দরবারে নিজেদেরকে তুলে ধরেছে দেশটি। এতে করে বাংলাদেশিদের সুযোগ করে দিয়েছে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করবার। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) সঙ্গে কাজ করার স্বপ্নে বাংলাদেশ।

বিশ্বে মহাকাশ গবেষণার অগ্রদূত হল নাসা। নাসায় কাজ করার স্বপ্ন দেখে বিশ্বের অনেক দেশই। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই এখন বাংলাদেশ। সেই সহায়তায় প্রান্তিক পর্যায় থেকে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের তুলে নিয়ে আসতে কাজ করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) স্টুডেন্টস ফোরাম।

সেই লক্ষ্যে পঞ্চমবারের মতো নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮-এর আয়োজন করেছে বেসিস।

এ বিষয়ে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল হাসান অপু বলেন, বাংলাদেশ নাসাতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সে লক্ষ্যেই দেশের ৯টি শহর থেকে আগ্রহীদের নিয়ে একটি জাতীয় হ্যাকাথনের আয়োজন কারা হয়েছে।

অপু জানান, বিশ্বব্যাপী আয়োজিত নাসার এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজনকেই চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হবে। তবে নাসা কর্তৃপক্ষ প্রজেক্টগুলো ভালো পুরো টিমকে নিয়ে নেয়ার সম্ভাবনাও আছে।

এ ক্ষেত্রের প্রতিবন্ধকতার ব্যাপারে অপু বলেন, বাংলাদেশে এসব আয়োজন নিয়মিত না হওয়াতে অনেকের আগ্রহ থাকার পরেও উঠে আসতে পারছে না।

চলতি বছর আন্তর্জাতিকভাবে নাসা বিশ্বের ২৫০টি শহরে তাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যেখানে বেসিস বাংলাদেশের ৯টি শহরে (ঢাকা, চট্রগ্রাম সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং কুমিল্লা) এ আয়োজন করেছে।

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে এবার ৫০ লাখ শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত করার পাশাপাশি ১ লাখ শিক্ষার্থীদের সরাসরি এ প্রতিযোগিতায় যুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়।

৯টি শহর থেকে দুই হাজারেরও বেশি প্রকল্প জমা হয় প্রতিযোগিতায়। সেখান থেকে শীর্ষ ৪০টি প্রকল্পকে নিয়ে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৯-২০ অক্টোবর টানা দুইদিনব্যাপী হ্যাকথন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বেসিসের সহ-সভাপতি (অর্থ) মুশফিকুর রহমান, নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮ এর আহ্বায়ক দিদারুল আলম, নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮ এর যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল হাসান অপু।

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮ সম্পর্কে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, টেকনোলজিস্ট, বৈজ্ঞানিক, ডিজাইনার, আর্টিস্ট, এডুকেটর, উদ্যোক্তা ইত্যাদিসহ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে ইনোভেটিভ সমাধান খুঁজে বের করাই এর মূল লক্ষ্য।

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮ এর আহ্বায়ক দিদারুল আলম বলেন, গত বছর বাংলাদেশকে মোট ৮টি জোনে বিভক্ত করে ৪৫৩টি আবেদনের মধ্য থেকে ১৩১টি প্রকল্প বাছাইয়ের জন্য মনোনীত করা হয়। প্রতিযোগিতায় সারা বাংলাদেশ থেকে ৫০টি দলের হ্যাকাথনের মধ্য দিয়ে সর্বমোট ১১টি সেরা প্রজেক্টকে নাসার নিয়মানুযায়ী মনোনীত করা হয়। এর মধ্যে ২টি প্রকল্প গ্লোবাল পিপলস চয়েস ফিনালিস্ট হিসেবে সম্মান অর্জন করে। সবশেষ এবার ৯ টি শহর থেকে ১৮ টি দলকে নাসার জন্যে মনোনীত করা হবে।

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল হাসান অপু বলেন, মহাকাশের বিভিন্ন সমস্যার বাইরে জলবায়ু, আগ্নেয়গিরি, মঙ্গলগ্রহসহ ৬টি ক্যাটাগরির অধীনে মোট ২০টি সাব ক্যাটাগরিতে এবার হ্যাকথন অনুষ্ঠিত হবে। ক্যাটাগরি ভিত্তিক এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবে আমাদের তরুণ বিজ্ঞানীরা। গত ৪ বছরের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন অনেক ভালো, আশা করছি ২০১৮ সালে আমাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

উল্লেখ্য, ৩৬ ঘন্টা টানা হ্যাকথন আয়োজনের পর আজ (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটায় পুরষ্কার বিতরণি অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার।

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: