For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

ভাগ্য বদলাতে গিয়ে হুইল চেয়ারে করে দেশে ফিরল

কারেন্ট নিউজ বিডি   ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৩:১৩:০৪

মালয়েশিয়ায় ভাগ্য ফেরাতে গিয়ে নরসিংদীর আসহব আলী দেশে ফিরলেন হুইল চেয়ারে করে। ১৯ অক্টোবর তিনি দেশে ফিরেছেন আসহব আলী। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়ে নরসিংদীর করিমপুর গ্রামের আসহব আলী (৪০) সিদ্বান্ত নেন মালয়েশিয়া যাওয়ার। ২০১৫ সালে স্থানীয় দালালের প্ররোচনায় লুফে নেন ট্যুরিষ্ট ভিসায় যাওয়ার সুযোগ। তবে মালয়েশিয়া-যাত্রা শুরুর আগে ঘুণাক্ষরেও উপলব্ধি করতে পারেননি, কী আছে সামনে। আসহব তখন ভাগ্য বদলের নেশায় বিভোর।

এরই মধ্যে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। অবৈধ হয়ে পড়েন তিনি। একদিকে অবৈধ অন্যদিকে কোন কাজ নেই। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মালয়েশিয়ায় কাজ পাওয়া খুবই কঠিন।

For Advertisement

750px X 80px
Call : +8801911140321

অনেক দিন কাজ না করতে পারায় নিদারুণ কষ্টে চলে তার দিনাতিপাত । অনেক ধারদেনা করে প্রবাসে গিয়ে সেই টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও এখন প্রাণে বাঁচার লড়াইয়ে আসহব আলী।

২০১৬ সালে মালয়েশিয়া সরকার ঘোষণা দেয় অবৈধ বিদেশিদের বৈধতা দেয়ার। রি-হিয়ারিংএর আওতায় আসহব আলী বৈধ হলেও চলতি বছরের ১২ জুন ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ জুন মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় কুয়ালালামপুর জেনারেল হাসপাতালের নিউর লজি বিভাগে। অবস হয়ে পড়ে আসহবের হাতপা। হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ফের অবৈধ হয়ে পড়েন। টানা ৫ মাস চলে তার চিকিৎসা। অন্যদিকে কাছের কোনো আত্মীয়-স্বজন না থাকায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েন পারভেজ। সিদ্ধান্ত নেন দেশে চলে যেতে। ট্রাভেল পাসও করে রেখেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ৫ মাসের হাসপাতালের ৫৭ হাজার রিঙ্গিত বিল বকেয়ার কারনে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে তার ট্রাভেল পাসের মেয়াদ ও শেষ হয়ে যায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দূতাবাসের কল্যাণ সহকারি মুকসেদ আহমদ ছুটে যান হাসপাতালে। খোজঁ খবর নেন আসহব আলীর । আসহব আলী অবৈধ থাকায় তাকে আর্থিক সহযোগিতা করতে পারছেনা দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে সেখানকার বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনো রকম সহযোগিতার আশ্বাস পাননি।

এক পর্যায়ে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়ার সভাপতি মনির বিন আমজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মনির বিন আমজাদ ছুটে যান হাসপাতালে। আসহবের চিকিৎসার অর্থ পরিশোধে এবং তাকে দেশে পাঠাতে এগিয়ে আসেন তিনি । এরই মধ্যে প্রেসক্লাবের সভাপতি মনির বিন আমজাদ দেশটির সরকার দলীয় আমানা পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতা আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমাদ ইব্রাহিম ও পিকে আর এর নেতা রাজালি বিন লাতিফের সঙ্গে আলোচনা করেন হাসপাতালের বিল মওকুফ করার জন্য ।

দেশটির দুই শীর্ষ স্থানীয় নেতা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে হাসপাতালের বিল মওকুফ করে দেন তারা। মওকুফের আগে হাল ছাড়েননি প্রেস ক্লাব সভাপতি রিলিজ ড়েয়ার আগের দিন ১৮ অক্টেবর হাসপাতালের বকেয়া বিল পরিশোধ করতে নগদ ৫৭ হাজার রিঙ্গিত নিয়ে ছুটে যান হাসপাতালে । হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনিরকে জানান, বিল পরিশোধ করা লাগবেনা । বিল পরিশোধ ছাড়াই আসহবকে মুক্তি দেয়া হল । বেচেঁ গেল ৫৭ হাজার রিঙ্গিত। বিমান টিকিট ও আনু সাঙ্গিক খরছ বাদে ৪৭ হাজার রিঙ্গিত সমপরিমান ৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা আসহবের বাড়িতে পাটিয়ে দেন মনির বিন আমজাদ।

এ বিষয়ে প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়ার সভাপতি মনির বিন আমজাদ এ প্রতিবেদককে জানান, আমার ব্যবসা প্রতিষ্টান ফেলে রেখে প্রায় ১৫ দিন ছুটাছুটি করে আসহব আলীকে দেশে পাঠাতে সক্ষম হয়েছি। মনির বিন আমজাদ বলেন, বিদেশের মাটিতে যার যার স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে দূতাবাসের পাশাপাশি অসহায় প্রবাসীদের সেবা দেয়া হলে আমাদের মূখ উজ্জল হবে কমবেনা।

রোববার সকালে আসহবের স্ত্রী লাভলী বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে লাভলী বেগম এ প্রতিবেদককে জানান, আমার স্বামী (আসহব আলী ) দেশে আসার পর হুইল চেয়ারেই বসে থাকতেন আজ সকাল থেকে চেষ্টা করছেন হাটার । আমরা সবাই মনির বিন আমজাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ও আর্থিক সহযোগিতায় আমার স্বামী সন্তানদের মাঝে ফিরে এসেছেন।

For Advertisement

750px X 80px

Call : +8801911140321

কারেন্ট নিউজ বিডি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। 

পাঠকের মতামত: